জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। আজ শনিবার রাজধানীর ইস্কাটনের ঢাকা লেডিস ক্লাবে সাংবাদিকদের সম্মানে দেওয়া ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের ইফতার মাহফিলে
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। আজ শনিবার রাজধানীর ইস্কাটনের ঢাকা লেডিস ক্লাবে সাংবাদিকদের সম্মানে দেওয়া ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের ইফতার মাহফিলে

সাংবাদিকদের কণ্ঠের পাহারাদারি নিশ্চিত করব: জামায়াত আমির

জাতীয় স্বার্থে দলের আপস না করার মনোভাব তুলে ধরেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। সাংবাদিকদের বিবেক অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সক্রিয় থাকার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

আজ শনিবার রাজধানীর ইস্কাটনের ঢাকা লেডিস ক্লাবে সাংবাদিকদের নিয়ে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান এ আশ্বাস দেন। জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ শাখা এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে।

জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা এখন শুধু সফলতা চাই। একটা ঐক্যবদ্ধ জাতি আমরা দেখতে চাই। এবং জাতীয় ইস্যুতে, জাতীয় স্বার্থে কারও সঙ্গে আমরা আপস করব না।’

ক্ষমতাসীন বিএনপি জাতীয় স্বার্থে অনড় থাকলে জামায়াত পাশে থেকে শক্তি জোগাবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন শফিকুর রহমান। তিনি সেই সঙ্গে বলেন, ‘কিন্তু যদি দেখি সরকারি দল এখান থেকে বিচ্যুত হয়ে যাচ্ছেন, তাঁদেরকে সোজা করে রাস্তায় আনার চেষ্টা করব। না হলে প্রতিরোধ গড়ে তুলব। এটাই হবে আমাদের নীতি।’

জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশ যে ফ্যাসিবাদের হাত থেকে মুক্ত হয়েছে, তা আবার ফিরে আসুক, জামায়াত তা চায় না বলে মন্তব্য করেন শফিকুর।

সাংবাদিকতাকে রাষ্ট্রের তিন গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভকে সোজা রাখার ‘ভ্যানগার্ড’ অভিহিত করে তিনি বলেন, ‘আমরা ফ্যাসিবাদের কবলে পড়ে আমাদের সংবাদমাধ্যমের কাছে জাতির যে প্রত্যাশা, এটা হারিয়ে ফেলেছিলাম গত সাড়ে ১৫ বছর।’

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাংবাদিক রুহুল আমিন গাজী, মাহমুদুর রহমান, শহিদুল আলম, কবি ফরহাদ মজহারসহ আরও অনেককে নির্যাতন করা হয়েছে উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তাঁদের ওপর নির্যাতনের মূল উদ্দেশ্য ছিল সংবাদমাধ্যমে যারা সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলে, তাদের কণ্ঠ স্তব্ধ করে দেওয়া।

‘তারা সফল হয়েছিল এবং এই সফলতার রেশ এখনো চলছে বলে মাঝে মাঝে যেন মনে হয়। আমরা ফ্যাসিবাদ থেকে আংশিক নয়, পূর্ণ মুক্তি চাই। এটা যার আমলে হোক, যখনই হোক। ফ্যাসিবাদ জাতিকে ভালো কিছু দিতে পারে নাই, পারবেও না,’ বলেন তিনি।

সাংবাদিকদের ‘বিবেক অনুযায়ী’ চলার পরামর্শ দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘বর্তমানে বিরোধী দলে আছি। আপনাদের এই কণ্ঠের পাহারাদারি করার নিশ্চয়তা আমরা দিচ্ছি। কিন্তু এই কাজটা দিতে হবে সরকারি দলকে। আমরা চোখ খোলা রাখব, আপনারাও চোখ জাগ্রত রাখবেন। আমরা একসাথে এটার জন্য লড়াই করে যাব। যদি এই অঙ্গটা প্রোপারলি ফাংশন করে, বাকি রাষ্ট্রের তিন অঙ্গ, সাংবিধানিক তিন অঙ্গ সোজা চলতে বাধ্য হবে। আর এই অংশ যদি ভঙ্গুর হয়ে যায়, ব্যর্থ হয়ে যায়, বাকি তিন অংশ অটোমেটিক্যালি তিন অঙ্গ ব্যর্থ হয়ে যাবে। আমরা সেই ব্যর্থতা আর দেখতে চাই না।’

জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান, মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, দেশ রূপান্তর সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ, প্রবীণ সাংবাদিক সালাহউদ্দিন বাবর, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম, জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের প্রমুখ।