ভোট দেওয়ার পর বন্ধুদের নিয়ে সেলফি তুলছেন মোহাইমিন ফুয়াদ
ভোট দেওয়ার পর বন্ধুদের নিয়ে সেলফি তুলছেন মোহাইমিন ফুয়াদ

কেন্দ্রে ভোট, বাইরে হাসি-আড্ডা, সেলফি

ভোট দিয়েছেন, ভোটের পর কেন্দ্রের পাশে আড্ডাও জুটেছেন, সবাই মিলে সেলফিও তুলছেন—এমন দৃশ্য দেখা গেছে রাজধানীর ভোটকেন্দ্রগুলোর আশপাশে।

বেলা ১টায় এমনই একটি দৃশ্য ধরা পড়ল রাজধানীর উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের পাশে। এই কমপ্লেক্সে রয়েছে ১০টি কেন্দ্র; প্রায় ১৯ হাজার ভোটার এখানে।

সাত বন্ধু মিলে সেলফি তুলছেন মোহাইমিন ফুয়াদ। পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দৃশ্যটি চোখে পড়লে দ্রুত একটি ছবি তুলে নিই। পরে নিজের পরিচয় দিই। প্রথম আলোর সাংবাদিক শুনে তাঁরা আগ্রহ দেখালেন। বললেন, ফাস্ট পেজে দেবেন কিন্তু।

মোহাইমিন ফুয়াদ সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল। ঢাকায় কর্মরত এই কর্মকর্তা উত্তরায় থাকেন এবং উত্তরা হাইস্কুলেই পড়াশোনা করেছেন। এবার ভোটের সময় ছুটি পেয়েছেন। তাই স্কুলের পুরোনো বন্ধুরা মিলে একসঙ্গে ভোট দিতে এসেছেন।

ভোটের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে মোহাইমিন ফুয়াদ বলেন, ‘এ রকম পরিবেশ আমি জীবনে দেখিনি। ডিউটির কারণে অন্যবার ভোট দিতে পারিনি। এবার ছুটি পাওয়ায় ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছি।’

বন্ধুরা মিলে রাস্তার পাশে আড্ডা দিচ্ছেন, নানান কথাবার্তায় মজা করছেন। ফুয়াদ বললেন, ‘এবারের ভোটটা গেট টুগেদারের মতো হচ্ছে। আমি তো আশাবাদী, ভবিষ্যতেও ইনশা আল্লাহ এমনই পরিবেশ হবে।’

মোহাইমিন ফুয়াদের বন্ধুদের আড্ডার জটলা ছেড়ে পৌঁছালাম উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে। মাঠে চোখে পড়ল, একজন অন্যজনের ছবি তুলছেন। কাছে পৌঁছার আগেই ছবি তোলা শেষ। আমি অনুরোধ করলাম দুজনের ছবি তুলব—ঠিক যেভাবে তাঁরা পরস্পরের ছবি তুলছিলেন। পরিচয় দেওয়ার পর হেসে বললেন, ঠিক আছে। অতঃপর তাঁরা ছবি তুলতে অনুমতি দিলেন, সেই ছবি মুঠোফোনে বন্দী করলাম। তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া দুই বোন, কাজী রেহনুমা শারমিন ও কাজী ফারিহা শারমিন। দুজনেই ভোটের অভিজ্ঞতার কথা জানালেন।

ভোট দেওয়ার পর উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের মাঠে ছবি তুলছেন দুই বোন কাজী রেহনুমা শারমিন ও কাজী ফারিহা শারমিন

কাজী ফারিহা শারমিন বললেন, ঈদ তো সামনে, কিন্তু ভোট দিতে এসে মনে হচ্ছে ঈদের উৎসব করছি। সবার মুখে হাসি। কী যে আনন্দ লাগছে। তিনি জানান, তাঁদের মা-বাবাও ভোট দিতে এসেছেন।

কেন্দ্রের ভেতর ও বাইরে ঘুরে দেখা গেল, ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। লাইনেও তেমন ভিড় নেই, আবার একেবারে ফাঁকাও নয়। নিরাপত্তা সদস্যদের উপস্থিতি ছিল, তবে পরিবেশে কোনো উত্তেজনা চোখে পড়েনি। ভোট দিতে এসে অনেকের মধ্যেই ছিল উৎসবের আমেজ—যেন নাগরিক দায়িত্বের দিনটিকে তাঁরা পরিণত করেছেন এক ধরনের মিলনমেলায়।