রাজধানীর বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ মাঠে এক নির্বাচনী সভায় জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বক্তব্য দেন
রাজধানীর বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ মাঠে এক নির্বাচনী সভায় জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বক্তব্য দেন

এই আচরণ বরদাশত করা হবে না: জামায়াত আমির

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, যারা এক হাতে নারীদের কার্ড দিচ্ছেন, অন্য হাত আবার নারীদের ওপর তুলছেন—এই আচরণ তাঁর দল মেনে নেবে না।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘যিনি একদিকে এক হাতে কার্ড দিয়ে মায়েদের সম্মান দেখাচ্ছেন, তিনি বা তাঁর সহকর্মীরা কীভাবে আবার মায়েদের গায়ে হাত দিচ্ছেন। এক হাতে কার্ড, আরেক হাতে আমার মায়ের গায়ে হাত—এটা আমরা বরদাশত করব না।’

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ মাঠে এক নির্বাচনী সভায় এ কথা বলেন জামায়াতের আমির। ঢাকা–১৭ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. এস এম খালিদুজ্জামানের পক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়। গুলশান-বনানী, বারিধারার মতো অভিজাত এলাকা নিয়ে গঠিত এ আসন। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে মেধাভিত্তিক সমাজ গড়বে উল্লেখ করেন শফিকুর রহমান বলেন, তাঁরা পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতির বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, ‘আমরা পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি চাই না, যে রাজনীতিতে পরিবার ছাড়া অন্য কেউ যোগ্য হয়ে আসার সুযোগ নেই, সেই রাজনীতি আমরা দেখতে চাই না।’

অনেকে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করলেও এখন গণভোটের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে উল্লেখ করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘অনেকে সংস্কারের পক্ষে না এখন বলেই দিচ্ছেন। তাঁরা বলছেন, অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাঁরা জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছেন।’

জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দেশের যুবকদের বেকার ভাতা দেওয়ার পরিবর্তে প্রশিক্ষণ দিয়ে কাজ দেবে উল্লেখ বলে করেন শফিকুর রহমান। এ ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জাতীয় পরিষদ পর্যন্ত যাঁরা নির্বাচিত হবেন, সবার আর্থিক হিসাব উন্মুক্ত করা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

সভায় ঢাকা-১৭ আসনের জন্য খালেদুজ্জামানের হাতে দাঁড়িপাল্লা ও ঢাকা–১৮ আসনের জন্য ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে থাকা এনসিপির প্রার্থী আরিফুল ইসলাম আদীবের হাতে শাপলা কলি প্রতীক তুলে দেন।

নির্বাচনে বিজয়ী হলে ‘কখনো ভাই থেকে স্যার হবেন না’ উল্লেখ করে এস এম খালেদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা সন্ত্রাস করব না, চাঁদাবাজি করব না। আমরা কোনো বৈদ্যুতিক খাম্বার দিকে চোখ তুলে তাকাব না।’ তিনি দাবি করেন, গত ১৭ মাসে জামায়াতে ইসলামী প্রমাণ করেছে, তারা কোনো সহিংসতা ও প্রতিহিংসার রাজনীতি করে না।

সভায় যোগ দিয়েছিলেন ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে থাকা এনসিপির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী। তিনি ভোটের মধ্য দিয়ে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান। সভায় উপস্থিত ছিলেন নির্বাচনী ঐক্যে থাকা বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা।