ফুফাতো ভাইয়ের কাছ থেকে ধার নেওয়া ৫০ হাজার, মামাতো ভাই থেকে কিছু আর নিজের জমানো টাকায় ঢাকা-৪ আসনে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের প্রার্থী সাহেল আহম্মেদ।
ছড়ি প্রতীকে নির্বাচন করা এই প্রার্থী গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় মুঠোফোনে প্রথম আলোকে জানান, দল থেকে নির্বাচনী ব্যয়ের জন্য ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা ছিল।
তবে দলের চেয়ারম্যান অসুস্থ হয়ে যাওয়ায় সেটি এখনো পাননি। সে কারণে টাকা ধার করতে হয়েছে। আর্থিক সংকটের কারণে কোনো ব্যানার না বানিয়ে ভোটারদের লিফলেট দিচ্ছেন। আবার লিফলেটের সংখ্যা কম হওয়ায় সবাইকে দিতেও পারছেন না।
জনসংযোগের বিষয়ে সাহেল আহম্মেদ বলেন, মেয়ে, ছোট বোন, শ্যালিকা, ফুফাতো ভাই ও মামাতো ভাইবোনদের দিয়ে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন। আত্মীয়স্বজনকে নিয়ে প্রচার চালাতে গেলে অনেকে হাসে। প্রচারে কেন তাঁদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, এমন প্রশ্নও করেন। আবার অনেকে ব্যতিক্রমী এই প্রচারণাকে স্বাগত জানান, আপ্যায়নও করেন।
রাজধানীর পোস্তগোলায় গাড়ির যন্ত্রাংশ বিক্রির দোকান আছে প্রার্থী সাহেল আহম্মেদদের। এবারের নির্বাচনে ‘কত দূর’ যেতে পারবেন, সে বিষয়ে একটা ধারণা আছে জানিয়ে এই প্রার্থী বলেন, রাজনৈতিক সংস্কৃতির যদি পরিবর্তন হয়, তাহলে ১৫–২০ বছর পর তিনি ভোটের মাঠে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন।
জনসংযোগের বিষয়ে সাহেল আহম্মেদ বলেন, মেয়ে, ছোট বোন, শ্যালিকা, ফুফাতো ভাই ও মামাতো ভাইবোনদের দিয়ে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন। আত্মীয়স্বজনকে নিয়ে প্রচার চালাতে গেলে অনেকে হাসে। প্রচারে কেন তাঁদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, এমন প্রশ্নও করেন। আবার অনেকে ব্যতিক্রমী এই প্রচারণাকে স্বাগত জানান, আপ্যায়নও করেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন শ্যামপুর ও কদমতলী থানার ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে ঢাকা-৪ আসন। এখানে ভোটার সাড়ে তিন লাখের বেশি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন বিএনপির প্রার্থী তানভীর আহমেদ। তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব। ভোটের প্রচারে অন্য প্রার্থীদের তুলনায় এগিয়ে আছেন তিনি। তবে পিছিয়ে নেই এই আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচন করা জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীনও।
১-৩ ফেব্রুয়ারি এই আসনের পোস্তগোলা, মীর হাজীরবাগ, ধোলাইপাড়, পূর্ব জুরাইনের মুরাদপুর, মেরাজনগর, নূরপুর, মুক্তধারা, পাটেরবাগ, পলাশপুর, জাপানি বাজার, ২৪ ফুট, উত্তর ও দক্ষিণ দনিয়া, সরাই, রসুলপুর এবং দনিয়া বাজার রোড এলাকা ঘুরে দেখেন এই প্রতিবেদক। বেশির ভাগ এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর ব্যানার-ফেস্টুন ও বিলবোর্ড রয়েছে।
বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী সৈয়দ মো. মোসাদ্দেক বিল্লাহর হাতপাখা প্রতীকের বেশ কিছু ব্যানার-ফেস্টুন দেখা গেছে। বিভিন্ন ওয়ার্ডেও ক্যাম্প রয়েছে দলটির।
এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন নাগরিক বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আন্দোলন করে আলোচনায় আসা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। তাঁর প্রতীক ফুটবল।
পূর্ব জুরাইনের খোরশেদ আলী সরদার রোড, কমিশনার রোডসহ কিছু জায়গায় মিজানুর রহমানের ব্যানার–ফেস্টুন দেখা গেছে। গত রোববার তিনি মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘টাকা আর লোকবলের কারণে পেরে উঠছি না। শক্তি-সামর্থ্য কম। সে কারণে সবকিছু কঠিন হয়ে গেছে। তাই নিজেই সবার কাছে যাচ্ছি।’
নির্বাচনের খরচের জন্য মানুষ তাঁকে তিন লাখ টাকা দিয়েছে বলে জানান মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, তিন লাখ টাকার মধ্যে দুই লাখ টাকা খরচ হয়ে গেছে। অবশিষ্ট টাকা প্রচারের বাকি দিনগুলোতে খরচ করবেন।
এ আসনে কাস্তে প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন সিপিবির প্রার্থী মোহাম্মদ ফিরোজ আলম। তিনি বলেন, বন্ধু, আত্মীয়স্বজন ও দলের টাকায় প্রচার চালাচ্ছেন। জেতার মতো ভোট পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী তিনি।
১-৩ ফেব্রুয়ারি এই আসনের পোস্তগোলা, মীর হাজীরবাগ, ধোলাইপাড়, পূর্ব জুরাইনের মুরাদপুর, মেরাজনগর, নূরপুর, মুক্তধারা, পাটেরবাগ, পলাশপুর, জাপানি বাজার, ২৪ ফুট, উত্তর ও দক্ষিণ দনিয়া, সরাই, রসুলপুর এবং দনিয়া বাজার রোড এলাকা ঘুরে দেখেন এই প্রতিবেদক। বেশির ভাগ এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর ব্যানার-ফেস্টুন ও বিলবোর্ড রয়েছে।
মই প্রতীকে এই আসনে নির্বাচন করছেন বাসদের প্রার্থী মো. জাকির হোসেন। তিনি মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচনী আসনের প্রধান প্রধান জায়গায় বড় দলগুলো আগেভাগেই ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড লাগিয়েছে। যে কারণে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতেও তিনি নির্বাচনী প্রচারসামগ্রী লাগাতে পারেননি। সব মিলিয়ে ৫০টি ব্যানার লাগিয়েছেন। নিজের বাসার (দক্ষিণ দনিয়ার ২৪ ফুট এলাকায়) নিচতলার গ্যারেজ থেকে নির্বাচন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে জানান তিনি।
নির্বাচনী প্রচার বলতে হেঁটে সবার কাছে যাওয়া এবং লিফলেট বিলি করা—এই কাজটি করছেন কলম প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা জনতার দলের প্রার্থী মো. আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, প্রার্থী একাই লিফলেট বিতরণ করছেন, অনেকে এটিকে ব্যতিক্রমী প্রচার বলছেন। ভোট দেওয়ার বিষয়ে অনেক মানুষ আশ্বস্ত করেছেন বলেও জানান তিনি।