
সক্ষমতা ও পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনায় শিক্ষকদের যেকোনো যৌক্তিক ও ন্যায্য দাবির পক্ষে সরকার থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা ও অবসর ভাতা বকেয়া ছিল। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসের মধ্যেই দুই হাজার কোটি টাকার ব্যবস্থা করে তা পরিশোধের উদ্যোগ নিয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট’ আয়োজিত শিক্ষক সমাবেশে এ কথা বলেন মাহদী আমিন। আগামী দিনগুলোতেও শিক্ষকদের স্বার্থকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। সভাপতিত্ব করেন শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া।
শিক্ষকদের মর্যাদার বিষয়ে মাহদী আমিন বলেন, আগে বিশ্ব শিক্ষক দিবসে মাত্র ১২ জন শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হতো। বর্তমান সরকার তা বাড়িয়ে শতাধিক করেছে। ভবিষ্যতে এ সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। বিশেষ করে বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে যেসব শিক্ষক স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন এবং নিজেরা হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন, তাঁদের উপযুক্ত মূল্যায়নে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক এই উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাস ও আন্দোলনে শিক্ষকদের অবদানের ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচিত সরকার শিক্ষক ও কর্মচারীদের যেকোনো যৌক্তিক ও ন্যায্য দাবির বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক থাকবে। সরকারের সক্ষমতা ও সার্বিক পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষকসমাজের প্রতিটি যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নে দ্রুত নীতিমালা প্রণয়ন ও তা কার্যকর করা হবে।
শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ তৈরি, আন্তর্জাতিক টিচার এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সংযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দেশকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে এগিয়ে নিতে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা স্তরের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কেন্দ্র করে শিক্ষাব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে। শিক্ষকসমাজই রাষ্ট্র রূপান্তর ও উন্নয়নের মূল চালিকা শক্তি।
বিএনপির আমলে শিক্ষকদের জন্য নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া শিক্ষকদের স্বার্থে বহুবিধ কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছেন। দেশব্যাপী স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠা, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন প্রণয়ন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারীকরণের মতো বড় সিদ্ধান্ত বিএনপির হাত ধরেই শুরু হয়েছিল। শিক্ষকদের অধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এমপিও ব্যবস্থা চালু, এনটিআরসিএ গঠন এবং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কল্যাণ ও অধিকার সুরক্ষায় ‘অবসর সুবিধা বোর্ড’ ও ‘কল্যাণ ট্রাস্ট’ প্রতিষ্ঠার মতো উদ্যোগও বিএনপি সরকারের সময়ে নেওয়া হয়েছিল।