
বিরোধীদলীয় উপনেতা আনিসুল ইসলাম মাহমুদ মনে করেন, নির্বাচন বা গণতন্ত্র নয়, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে কোনো একটি প্ল্যাটফর্মে অন্তর্ভুক্ত করতে চায়। এ জন্যই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করেছে। তিনি সরকারের প্রতি অনুরোধ করেছেন, কোনোক্রমেই যেন বাংলাদেশ মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে জড়িত না হয়।
সোমবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো–চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম এসব কথা বলেন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্রের একটি দলের বাংলাদেশ সফরের কথা তুলে ধরে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, ‘কিছুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধিদল এখানে এসেছে। তারা (এসেছে) অ্যাপারেন্টিলি ফর ডেমোক্রেসি, ফর ইলেকশন। আমি মনে করি না, সেটা সত্য। তারা এসেছে তাদের ভূরাজনীতির কারণে। তারা চায় বাংলাদেশকে কোনো একটি প্ল্যাটফর্মে অন্তর্ভুক্ত করতে। আমার একটাই অনুরোধ সরকারের কাছে, কোনোক্রমেই আমরা মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যেন জড়িত না হই। এটার সাথে আমার দেশের অখণ্ডতা জড়িয়ে আছে।’
জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, শুল্ক কমানো হলেও জিনিসের দাম কমেনি। কেন সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, সিন্ডিকেট কি সরকারের চেয়ে বেশি শক্তিশালী?
আনিসুল ইসলাম বলেন, মূল্যস্ফীতি এমন হয়েছে যে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। দুর্বল ব্যাংকিং খাত, ডলারের অস্থিতিশীল বিনিময় হার, রিজার্ভ হ্রাস মিলে সার্বিক অর্থনীতি অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। এগুলো নিয়ে সংসদে আলোচনা করতে হবে। তিনি বলেন, কোনো সমস্যা হলে কোভিড, ইউক্রেন যুদ্ধের কথা বলা হয়। এটা বলে লাভ নেই। নিজেদের কাঠামোগত সমস্যা বের করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রতিটি দেশের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। বাংলাদেশ কেন পারছে না? এগুলো নিয়ে সংসদে কথা বলতে হবে।
কেন সরকার চাঁদাবাজি বন্ধ করতে পারবে না? এই প্রশ্ন রেখে বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, এই সরকার শক্তিশালী। সংসদে ১৩ জন ছাড়া সবাই সরকারি দলের। আশা করা হয়েছিল, রমজানের আগে দ্রব্যমূল্য নিম্নমুখী হবে। কিন্তু তা হচ্ছে না।
নির্বাচন কমিশনকে আরও শক্তিশালী করার দাবি জানিয়ে আনিসুল ইসলাম বলেন, তাদের নিজস্ব লোকবল থাকতে হবে। ডিসিদের রিটার্নিং করা হয়। এটা কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা সরকারের অংশ।
আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, প্রতিবছর অর্থ পাচার হয়। কেন, কারা, কীভাবে পাচার করছে, এগুলো নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে হবে। তিনি বলেন, উন্নয়ন টেকসই করতে হলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বিচার বিভাগের ওপর আস্থা বাড়াতে হবে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা যেন ক্ষুণ্ন না হয়, তা দেখতে হবে।