
চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর (ডিএফপি) কার্যালয়ে চলচ্চিত্রকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। একই সঙ্গে সংগঠনটি এই হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনাসহ তিনটি দাবি জানিয়েছে।
আজ সোমবার এক বিবৃতিতে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির নেতারা বলেন, গত ৩০ মার্চ বকেয়া পাওনা আদায়ের দাবিতে ডিএফপি কার্যালয়ে গেলে চলচ্চিত্রকর্মীরা সংঘবদ্ধ হামলার শিকার হন। একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভেতরে নাগরিকদের ওপর এমন হামলা শুধু সাধারণ অপরাধ নয়, এটি সংস্কৃতিকর্মীদের সৃজনশীল তৎপরতার ওপর হুমকির শামিল।
সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, ডিএফপি কার্যালয়ে চিত্রগ্রাহক মশিউর রহমানের কমিশন–বাণিজ্যের প্রতিবাদ করায় বহিরাগত সন্ত্রাসীদের ডেকে এনে প্রামাণ্যচিত্রের নির্মাতা আবদুর রহমানসহ অন্য ব্যক্তিদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তাঁরা বলেন, গত দেড় বছরে সংস্কৃতিকর্মীদের ওপর হামলা, দমন-পীড়ন ও ভীতি সৃষ্টির অসংখ্য ঘটনা ঘটেছে।
সংগঠনটি আরও জানায়, বাউল-ফকির, কবি-লেখক, সংগীতশিল্পী, থিয়েটারকর্মী, সংবাদকর্মীসহ নানা ধারার সংস্কৃতিকর্মীর ওপর অসংখ্য হামলার ঘটনা ঘটেছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে নাটকের প্রদর্শনী ও চলচ্চিত্রের শুটিং।
গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির মতে, নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও নানা ধারার সংস্কৃতিকর্মীর জীবিকা ও সামাজিক নিরাপত্তা এখনো চরম হুমকির মুখে। এটি বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সামগ্রিক ব্যর্থতার একটি প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠার আগেই নির্বাচিত সরকারের উচিত এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া।
বিবৃতিতে তিনটি দাবি তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো ডিএফপিতে হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজের মাধ্যমে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা; হামলার উসকানিদাতা ও সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তার স্থায়ী অপসারণ এবং সরকারি অর্থায়নে চলচ্চিত্র নির্মাণে সব ধরনের কমিশন–বাণিজ্য বন্ধ করা; মাজার, বাউল, থিয়েটারসহ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে সংস্কৃতিকর্মীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ডিএফপিসহ বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসী হামলায় আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া।