আবু সাইয়িদ আজ বুধবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে দলটিতে যোগ দেন
আবু সাইয়িদ আজ বুধবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে দলটিতে যোগ দেন

‘উগ্রবাদের উত্থান’ দেখে আবু সাইয়িদ ভিড়লেন বিএনপিতে

বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের একসময়ের সংসদ সদস্য, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী আবু সাইয়িদ। এর কারণ হিসেবে তিনি দেখিয়েছেন দেশে উগ্রবাদের উত্থানকে।

আজ বুধবার বিকেলে ঢাকার গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন আবু সাইয়িদ।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার তিনি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেন বলে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন।

বিএনপিতে যোগদানের কারণ ব্যাখ্যা করে আবু সাইয়িদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘চারদিকে উগ্রবাদের যেভাবে উত্থান হচ্ছে, তাতে একজন দেশপ্রেমী মানুষ হিসেবে আমি মনে করি, এখন বিএনপি একমাত্র দল, যাকে সামনে এগিয়ে নেওয়া উচিত। সে জন্য আমি বিএনপিতে যোগ দিয়েছি।’

দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ করলেও ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হয়েছিলেন আবু সাইয়িদ। সেবার তিনি গণফোরামের প্রার্থী ছিলেন। এবার সরাসরি বিএনপিতে যোগ দিলেন।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে পাবনা–১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন আবু সাইয়িদ। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি। দল বললে নির্বাচনে থাকব।’

পাবনা–১ আসনে বিএনপির প্রার্থী রয়েছেন মো. শামসুর রহমান। ওই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মেহাম্মদ নাজিবুর রহমান দলটির সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামীর (যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত) ছেলে।

১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী নিজামীকে হারিয়ে সংসদ সদস্য হওয়ার পর আওয়ামী লীগ সরকারে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন আবু সাইয়িদ।

স্বাধীনতার পর গঠিত বাংলাদেশ সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য আবু সাইয়িদ পাবনা-১ আসনে ১৯৭৩ সালে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

একই আসনে ১৯৯১ সালে পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে বাকশালের প্রার্থী হয়ে হেরেছিলেন তিনি। ১৯৯৬ সালে জেতার পর ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন তিনি, তবে মতিউর রহমান নিজামীর কাছে হেরে যান।

এক–এগারোর পর আওয়ামী লীগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান আবু সাইয়িদ। ২০১৪ সালে দশম সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জিততে পারেননি। এরপর ২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনে গণফোরাম থেকে প্রার্থী হয়েও বিফল হন তিনি।