
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণকে নিজেদের পক্ষে আনা এবং তাদের আস্থা অর্জন করাই ছিল তাঁদের ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’। আর তাতে সফল হয়েছেন তাঁরা।
আজ শনিবার বিকেলে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত নির্বাচন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘জনগণকে কনভিন্স করাটাই হচ্ছে আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং। আমাদের যে ইঞ্জিনিয়ারিংটা ছিল, সেটা হলো জনগণকে আমাদের পক্ষে নিয়ে আসা। সেটাতে আলহামদুলিল্লাহ আমরা সফল হয়েছি।’
গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দুই–তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি এখন সরকার গঠনের পথে। ভোটের দুদিন পর তিনি দেশি–বিদেশি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন।
নির্বাচনের আগে থেকে তারেক রহমান বলে আসছিলেন, এই নির্বাচন বিএনপির জন্য সহজ হবে না—এই কথা উল্লেখ করে নিউ ইয়র্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ঠিকানার সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দীন জানতে চান, বিএনপির জন্য নির্বাচন কতটা কঠিন ছিল এবং জয়ের জন্য কোনো ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করতে হয়েছে কি না?
জবাবে তারেক রহমান বলেন, জনগণকে কনভিন্স করে একটি সুষ্ঠু সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করাটাই কঠিন ছিল। যেকোনো ভালো কাজ, গোল অ্যাচিভ (লক্ষ্য অর্জন) করতে গেলে তো কষ্ট তো হবেই।
সংবাদ সম্মেলনে দেশি-বিদেশি সাংবাদিকেরা বিএনপির পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনৈতিক খাতের পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে তারেক রহমানকে প্রশ্ন করেন।
ভারতীয় সাংবাদিক অশোক রাজ বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে জানতে চাইলে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষা করেই বিএনপি তাদের পররাষ্ট্রনীতি ঠিক করবে।
ভারত, পাকিস্তান এবং চীনের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা কীভাবে হবে, তা জানতে চান যুক্তরাজ্যের দ্য ইনডিপেনডেন্টের সাংবাদিক আলিশা রহমান সরকার। বিএনপি সরকার ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর ভাগ্নি যুক্তরাজ্যের এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে চলা দুর্নীতির মামলা এগিয়ে নিয়ে যাবে কি না, সেই প্রশ্নও করেন তিনি।
এই প্রশ্নের দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বিএনপি সরকারে পররাষ্ট্রনীতি সব দেশের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। কোনো নির্দিষ্ট দেশকে কেন্দ্র করে হবে না।
সরকার গঠন করার পর বিএনপির মূল চ্যালেঞ্জ কী হবে, তা জানতে চান কাতারভিত্তিক আল–জাজিরার একজন সাংবাদিক। তারেক রহমান বলেন, বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ তাদের সামনে রয়েছে। দেশের অর্থনীতিকে ঠিক করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। বিগত সরকার প্রায় সব প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিকীকরণ করেছে। সে জন্য সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।
ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের উন্নয়ন এবং চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ কৌশলকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য কীভাবে দেখছেন—চীনের এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করব, যা কিছু বাংলাদেশের স্বার্থের পক্ষে না, স্বাভাবিকভাবেই আমরা সেদিকে যাব না।’ বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের বিষয়ে তিনি বলেন, এটা যদি দেশের অর্থনীতির জন্য সহায়ক হয়, তখন সিদ্ধান্ত নেব।
তরুণদের বিএনপি কতটা গুরুত্ব দেবে—এমন প্রশ্ন করেন একজন বিদেশি সাংবাদিক। তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা অবশ্যই তরুণদের কথা শুনব। কিন্তু সমাজে আরও অনেকে রয়েছেন। সবার কথা ভাবতে হবে। আমাদের ইশতেহারেও আমরা সবার কথা বলেছি। সেখান তরুণের কথা আছে, বয়স্কদের কথা আছে, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কথা আছে, নারীদের কথা আছে।’
শেখ হাসিনার বিচার এবং সার্ক পুনর্গঠনের বিষয়ে জানতে চান পাকিস্তানের জিও নিউজের সাংবাদিক এজাজ সাইদ। তারেক রহমান বলেন, সার্ক গঠনের উদ্যোগ বাংলাদেশের ছিল। তাদের সরকার সার্ককে সক্রিয় করতে চায়। সরকার গঠনের পর তারা এ বিষয়ে আলোচনা করবেন। শেখ হাসিনার বিচারের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘এটা আইনি ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করবে।’
সংবাদ সম্মেলনে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে কোন খাতকে বেশি সম্ভাবনাময় মনে হচ্ছে—তা জানতে চান চীনের আরেকজন সাংবাদিক। তারেক রহমান বলেন, ‘অনেকের মতো চীনও বাংলাদেশের উন্নয়ন অংশীদার। আমরা আশা করছি ভবিষ্যতে দুই দেশই একসঙ্গে কাজ করবে।’
ব্রিটিশ সংবাদপত্র ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের সাংবাদিক ভেঙে পড়া অর্থনীতিকে চাঙা করতে বিএনপির পরিকল্পনা জানতে চান। তারেক রহমান বলেন, তাঁরা আরও বেশি ব্যবসা নিয়ে আসবেন এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করবেন।
গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশে বিগত সরকারের কর্মী–সমর্থকেরা রয়েছেন। তাঁদের মূল ধারায় ফেরানোর পরিকল্পনা জানতে চান একজন বিদেশি সাংবাদিক। জবাবে তারেক রহমান আইনের শাসন নিশ্চিত করার কথা বলেন। আইনশৃঙ্খলা নিয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আইন সবার জন্যই সমান।…আমরা চেষ্টা করব আইন যেন আইনের মতো করে চলে।’
বিগত সরকারের আমলে অলিগার্ক তৈরি করে অর্থনীতি ধ্বংস করা হয়েছে। এ বিষয়ে নতুন সরকার কী পদক্ষেপ নেবে—জানতে চান চ্যানেল ২৪–এর সাংবাদিক জহিরুল আলম। জবাবে তারেক রহমান বলেন, গণতান্ত্রিক অর্থনীতি হবে। সবাই সবার যোগ্যতা এবং মেধা ভিত্তিকে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারবে। কোনো বিশেষ মহলকে সুযোগ দেওয়া হবে না।