
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা চলছে। এখন পর্যন্ত ২৫৮টি আসনের বেসরকারি ফলাফল পাওয়া গেছে। এবারের নির্বাচনে আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সাতজন নারী প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন বলে খবর এসেছে।
নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এবার নির্বাচনে মোট নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৮৫। তাঁদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৭ জন বিজয়ী হয়েছেন।
মানিকগঞ্জ-৩ (সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ পৌর ও জেলা সদরের ৮ ইউনিয়ন) আসনে বিএনপির প্রার্থী আফরোজা খানম ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ সাইদ নূর (রিকশা) পেয়েছেন ৬৪ হাজার ২৪২ ভোট।
ঝালকাঠি-২ (ঝালকাঠি সদর-নলছিটি) আসনের ১৪৭ কেন্দ্রে পোস্টাল ভোটসহ বিএনপি জোটের প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছেন ১ লাখ ১৩ হাজার ১০০ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী এস এম নেয়ামুল করিম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৮০৫ ভোট।
সিলেট-২ (বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর) আসনে ৭৯ হাজার ৩২১ ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন ‘গুম’ হওয়া বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর (লুনা)। ধানের শীষের প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৫৬ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১-দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ মুনতাছির আলী পেয়েছেন ৩৮ হাজার ৬৩৫ ভোট। সিলেট জেলার ছয়টি আসনের ৩৩ প্রার্থীর মধ্যে তাহসিনা রুশদীর একমাত্র নারী।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর আংশিক) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা (হাঁস প্রতীক) বড় ব্যবধানে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৪৯৫ ভোট। তিনি তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ের জুনায়েদ আল হাবিবের চেয়ে ৩৭ হাজার ৫৬৮ ভোট বেশি পেয়েছেন।
এ ছাড়া নাটোর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী ফারজানা শারমিন, ফরিদপুর-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং ফরিদপুর–৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী নায়াব ইউসুফ আহমেদ বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন।
এবারের নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ১৭। ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনের পর নির্বাচন কমিশন যে তালিকা দিয়েছে, সেই তালিকা অনুসারে, নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৮৪। অর্থাৎ মোট প্রার্থীর মধ্যে নারী প্রার্থী মাত্র ৪ শতাংশ। দলের হয়ে প্রার্থী হয়েছেন ৬৬ জন নারী। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন ১৯ জন। এর বাইরে ১ জন প্রার্থী হিজড়া জনগোষ্ঠীর।
নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেওয়া নারী প্রার্থীদের হলফনামা পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, নারী প্রার্থীদের ৬৪ জনই স্নাতক ও স্নাতকোত্তর, অর্থাৎ ৭৫ শতাংশই উচ্চশিক্ষিত। ২৫ থেকে ৩৯ বছর বয়সী প্রার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, ৩২। পেশাগত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রায় ৬৭ শতাংশ নারী কর্মজীবী।