তপন চৌধুরী
তপন চৌধুরী

অভিমত: তপন চৌধুরী

সবাই একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছি

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণভোটের সময় নির্ধারণ ও আদেশ জারি নিয়ে বড় রাজনৈতিক অনৈক্য তৈরি হয়েছে। এর সমাধানের রূপরেখা দিতে সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নও সামনে এসেছে। পরিস্থিতি নিয়ে উপদেষ্টা, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার তপন চৌধুরীর অভিমত।

দেশে রাজনৈতিক সমঝোতা নিয়ে দলগুলোর মধ্যে যে অনৈক্য ও বিভেদ দেখা দিয়েছে, তা খুবই হতাশাজনক। এই অনৈক্য ও বিভেদ নির্বাচনকেও একটা অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আমরা দেখছি সংস্কার প্রশ্নে দলগুলোর মধ্যে মতভেদ প্রকট হয়ে উঠেছে। তাতে পুরো প্রক্রিয়া এখন ঝুলে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। যদি শাসনতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থায় আমরা কোনো পরিবর্তন করতে না পারি, তাহলে দেশ আবারও এক অন্ধকারে পড়বে। পুরোনো ব্যবস্থা জেঁকে বসবে। অথচ গত বছর তরুণদের নেতৃত্বে যে পরিবর্তন হয়েছিল, তাতে সাধারণ মানুষসহ ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তাদের একটি বড় অংশ আশাবাদী হয়েছিলেন। যতই দিন যাচ্ছে, সেই আশা ফিকে হচ্ছে।

সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, শিক্ষার্থী, তরুণ—বৃদ্ধ সবাই আমরা দেশে স্থিতিশীলতা দেখতে চাই। জীবনের নিরাপত্তা চাই। রাজনৈতিক অস্থিরতা আর দেখতে চাই না। কিন্তু সেই আশা কতটা পূরণ হবে, তা নিয়ে এখন আমরা সন্দিহান। এ রকম অনিশ্চয়তা থাকলে কোনো কিছুই স্বাভাবিকভাবে করা যাবে না। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অনৈক্য থাকলে নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু করা যাবে, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দেবে। সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে সেটি হবে জাতির জন্য বড় দুর্দশা ও চরম হতাশার।

এ কারণে দেশের সাধারণ মানুষের মতো ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা হিসেবে আমরাও একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের দিকে তাকিয়ে আছি। জনগণের ভোটে সত্যিকারের নির্বাচিত সরকার রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে সবাই একটি পথনির্দেশনা পাবেন। তখন যার যার অবস্থান থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে। অনিশ্চয়তা থাকলে মানুষ কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। সবকিছুতে একধরনের স্থবিরতা দেখা দেয়। আমরা এখন সে রকম একটি পরিবেশ দেখতে পাচ্ছি।  

সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক মতবিরোধের সুযোগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও কিছুটা অবনতি দেখতে পাচ্ছি। এটি জনজীবন ও ব্যবসা-বাণিজ্য কোনো কিছুর জন্যই সুখকর নয়। একজন ব্যবসায়ী হিসেবে বলতে পারি, দেশে এখন নতুন বিনিয়োগের পরিবেশ নেই। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী সবার মধ্যেই একধরনের অনিশ্চয়তা কাজ করছে।