‘১৭ জুলাই যাত্রাবাড়ী প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক। যাত্রাবাড়ী, ঢাকা; ১৭ জুলাই ২০২৬
‘১৭ জুলাই যাত্রাবাড়ী প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক। যাত্রাবাড়ী, ঢাকা; ১৭ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তি করে অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকার: নুরুল হক

অন্তর্বর্তী সরকারকে অনির্বাচিত উল্লেখ করে ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা চুক্তিকে দেশের স্বার্থবিরোধী বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে ওই চুক্তি করা হয়েছিল। এর দায় বর্তমান সরকারের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা ঠিক নয়।

‘১৭ জুলাই যাত্রাবাড়ী প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে শুক্রবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ী মোড়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নুরুল হক এ কথা বলেন। এ আলোচনা সভার আয়োজন করে যাত্রাবাড়ী প্রতিরোধ দিবস বাস্তবায়ন কমিটি।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির প্রসঙ্গ টেনে প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক বলেন, ‘এই যে অনির্বাচিত সরকার, এই অন্তর্বর্তী সরকার কীভাবে নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সেই চুক্তি করেছিল? সেই চুক্তি ছিল দেশের স্বার্থ পরিপন্থী। আজকে বিভিন্ন টক শো ও টেলিভিশনে বিএনপিকে দায়ী করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ওই চুক্তি তো করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। যাদেরকে আপনারা জুলাইয়ের নায়ক বানিয়েছিলেন, তাদের সম্মতিতেই এসব হয়েছে।’

গণ অধিকার পরিষদের সভাপতির অভিযোগ, নির্বাচনের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে কৃত্রিম জনমত তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল। এতে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

জুলাই সনদ ও সংস্কার নিয়ে চলমান বিতর্ক নিয়েও কথা বলেন নুরুল হক। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে।

সংসদীয় কমিটি ও রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে বিদ্যমান জটিলতার সমাধান সম্ভব হবে বলেও মনে করেন নুরুল হক। তিনি বলেন, ‘আলোচনা ও সমঝোতার পথেই সমাধান খুঁজতে হবে। নতুন সরকার গঠনের পরপরই রাজপথে হুমকি-ধমকির রাজনীতি করা সঠিক হবে না।’

সাম্প্রতিক বিভিন্ন আন্দোলন প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক এই সহসভাপতি (ভিপি) বলেন, যৌক্তিক দাবি থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে আন্দোলনকে উসকে দেওয়া হয়েছে। এতে স্বৈরাচারপন্থী শক্তি সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার রোধে ছাত্রসংগঠনগুলোকে সচেতনতা কার্যক্রম চালানোর আহ্বান জানান নুরুল হক। তিনি বলেন, গোপন রাজনৈতিক তৎপরতার পরিবর্তে প্রকাশ্য রাজনৈতিক চর্চাই গণতন্ত্রের জন্য ভালো।

জামায়াত-শিবিরের অবদানের কথা স্বীকার করলেও তাদের কিছু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত অতীতে জাতীয়ভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে মন্তব্য করেন প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে স্বাধীন রাজনৈতিক অবস্থান গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে নুরুল হক বলেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের প্রতিফলন দেখতে পান। তাঁর বিশ্বাস, আগামী পাঁচ বছরে দেশের উন্নয়নে কার্যকর নেতৃত্ব দিতে পারবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

‘আন্দোলনের শেষ দিকে বিদেশি শক্তির প্রভাব ছিল’

গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি বলেন, জুলাই আন্দোলনে দলমত–নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ ছিল। বিশেষ করে স্থানীয় জনগণ ও মাদ্রাসাগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে বিএনপির নেতাদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ও কারাবাসের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

জুলাই আন্দোলন নিয়ে বিভিন্ন ধরনের বয়ান দাঁড় করানোর সমালোচনা করে নুরুল হক বলেন, দুই বছর ধরে তিনি বলে আসছেন, জুলাইকে আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধের বয়ানের মতো একক কোনো ন্যারেটিভে (বয়ান) উপস্থাপন করা উচিত নয়। তাঁর অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে পৃষ্ঠপোষকতা করা হয়েছিল। এ বিষয়ে রাজনৈতিক সমাধান না হলে ভবিষ্যতেও রাজনৈতিক সংকট তৈরি হতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, জুলাই আন্দোলন ছিল দলমত–নির্বিশেষে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের ফসল। তবে আন্দোলনের শেষ দিকে বিদেশি শক্তির প্রভাব ছিল। তিনি বলেন, কিছু ছাত্রনেতাকে বিদেশি অপশক্তি নিয়ন্ত্রণ করেছিল এবং আন্দোলনের পরিচিত মুখগুলোকে ব্যবহার করে অন্তর্বর্তী সরকারকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হয়েছিল।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম, ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি নাজমুল ইসলাম, জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান প্রমুখ।