ঢাকা–১৩ আসন

জয় নয়, সম্মানজনক ভোট পাওয়াই লক্ষ্য

এই আসনে এবার প্রার্থী ৯ জন। তাঁদের মধ্যে দুজন স্বতন্ত্র ও একজন নারী প্রার্থী রয়েছেন।

জয় নয়, নিজের পরিচিতি বাড়াতে এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন মিজানুর রহমান। ‘ফান্ড’ (তহবিল) সংকটের কারণে সেভাবে প্রচারও চালাতে পারছেন না ঢাকা-১৩ সংসদীয় আসনের এই প্রার্থী। তবু তাঁর লক্ষ্য সম্মানজনক ভোট পাওয়া।

মিজানুর গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী, তাঁর প্রতীক ট্রাক। গত রোববার তাঁর সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো। তিনি বলেন, ‘নিজের টাকা দিয়েই প্রচার চালাতে হচ্ছে। ব্যানার, ফেস্টুন টানানো হয়নি। প্রথমে কিছু লিফলেট তৈরি করেছি, যা দিয়ে মোটামুটি প্রচার চলছে। দু–এক দিনের মধ্যে কিছু ব্যানার লাগাব। তবে মাইকিং সেভাবে করা হবে না।’

মোহাম্মদপুর, আদাবর ও শেরেবাংলা নগরের আংশিক এলাকা নিয়ে ঢাকা–১৩ আসন। এখানে প্রার্থী ৯ জন। তাঁদের একজন মো. শাহাবুদ্দিনও। বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির (বিএমজেপি) এই প্রার্থীর প্রতীক রকেট।

শাহাবুদ্দিন মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, তিনি আগে সাংবাদিকতা করতেন। বেতনের টাকা জমিয়ে নির্বাচন করছেন। এ জন্য কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা খরচ করতে পারছেন না।

ঢাকা–১৩ আসনের মোট ভোটার ৪ লাখ ৮ হাজার ৭৯১ জন। এই আসনে ৯ প্রার্থীর মধ্যে দুজন স্বতন্ত্র, অন্যরা বিভিন্ন দলের।

এই আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন বিএনপি জোটের প্রার্থী ববি হাজ্জাজ। তিনি জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ছিলেন। নির্বাচনে অংশ নিতে গত ডিসেম্বরে নিজ দল ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন তিনি। এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তাঁর দলের প্রতীক ‘রিকশা’।

এই আসনের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ববি হাজ্জাজ ও মামুনুল হকের নির্বাচনী ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড রয়েছে। পাশাপাশি ভোটারদের কাছে গিয়ে নিয়মিত প্রচার চালাচ্ছেন তাঁরা। রোববার এই নির্বাচনী আসনের পিসিকালচার হাউজিং, নবোদয় হাউজিং, মোহাম্মদিয়া হাউজিং, ঢাকা উদ্যান, চাঁদ উদ্যান, বসিলা, রায়ের বাজার, লালমাটিয়া ডি–ব্লক মাঠ, নূরজাহান রোড, তাজমহল রোড, আজিজ মহল্লা, বিজলী মহল্লা ও শেরেবাংলা নগরের বিএনপি বাজার এলাকায় ঘুরেছেন প্রথম আলোর এই প্রতিবেদক।

এসব এলাকায় ধানের শীষ ও রিকশা প্রতীকের ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড বেশি দেখা গেছে। এর বাইরে ‘ঘুড়ি’ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মো. রবিউল ইসলামের কিছু ব্যানার চোখে পড়েছে। আর ‘মই’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা বাসদ মনোনীত প্রার্থী মো. খালেকুজ্জামানের কিছু ব্যানার দেখা গেছে মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোড, রিং রোড ও আসাদ গেট এলাকায়।

এই আসনের একমাত্র নারী প্রার্থী ফাতেমা আক্তার। ইনসানিয়াত বিপ্লবের এই প্রার্থীর প্রতীক ‘আপেল’। রোববার দুপুরে ঢাকা উদ্যান এলাকায় প্রচার চালাতে দেখা গেছে তাঁকে। সেখানে তাঁর সঙ্গে কথা বলেন এই প্রতিবেদক। মোহাম্মদপুরের মকবুল হোসেন কলেজে ইংরেজি বিষয়ে স্নাতকে (সম্মান, চতুর্থ বর্ষ) পড়ছেন তিনি।

এই প্রার্থী বলেন, ‘আমরা শুরুতে ব্যানার, ফেস্টুন লাগিয়েছিলাম। কে বা কারা সেগুলো সরিয়ে ফেলেছে।’ ফাতেমা আক্তার বলেন, ‘আমি এই এলাকার ভোটার নই। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আসনের ভোটার। এখানে পড়াশোনা করছি, দীর্ঘদিন ধরে এখানেই থাকি। ফলে এই এলাকার মানুষের সমস্যা সম্পর্কে জানি। জিতলে সেগুলো নিয়ে কাজ করব। মানুষের কাছে যাচ্ছি, তাঁরা পরিবর্তন চাচ্ছেন।’

এই আসনে হারিকেন প্রতীক নিয়ে বাংলাদেশ মুসলিম লীগের প্রার্থী শাহরিয়ার ইফতেখার। তবে এখন পর্যন্ত তাঁর দৃশ্যমান কোনো প্রচার দেখা যাচ্ছে না।

এ আসনের আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী সোহেল রানা, নির্বাচন করছেন ‘কলস’ প্রতীক নিয়ে। ‘ছায়াতল বাংলাদেশ’ নামের একটি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা তিনি। শ্যামলী এলাকায় পথশিশুদের নিয়ে কাজ করে সংগঠনটি। এই প্রার্থী বলেন, কোনো দৃশ্যমান প্রচার ছাড়াই তিনি যতটুকু এগিয়েছেন, সহায়তা (প্রচারের ক্ষেত্রে আর্থিক সহযোগিতা) পেলে আরও এগিয়ে যেতে পারতেন।