
কুমিল্লা সার্কিট হাউসের বরাদ্দ করা কক্ষে উইপোকার কারণে রাত্রিযাপন না করেই সার্কিট হাউস ছেড়ে চলে গেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
বিরোধীদলীয় উপনেতার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্যমতে, কক্ষ পরিবর্তনের অনুরোধ জানানোর পরও দ্রুত বিকল্প কক্ষের ব্যবস্থা না হওয়ায় শুক্রবার দিবাগত রাত ১১টা ১৫ মিনিটে তিনি সার্কিট হাউস ত্যাগ করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টায় ঢাকার শাপলা চত্বর থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ শুরু হয়ে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে গিয়ে শেষ হবে। চৌদ্দগ্রামে হবে পথসভা। এর প্রস্তুতি হিসেবে শুক্রবার রাত ৮টা ৪৫ মিনিটের দিকে ঢাকা থেকে কুমিল্লা সার্কিট হাউসে পৌঁছান আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তাঁর রাত্রিযাপনের জন্য সার্কিট হাউসের ‘রাধাচূড়া-২০২’ কক্ষটি বরাদ্দ করা হয়েছিল।
রাত ১০টার দিকে ওই কক্ষে বিশ্রাম নিতে গেলে তিনি কক্ষজুড়ে প্রচুর উইপোকা দেখতে পান। বিশেষ করে কক্ষের আলমারির ভেতরে থাকা বালিশ, কম্বল রাখার স্থানসহ কয়েকটি জায়গায় উইপোকার বাসা এবং বিপুল পরিমাণে উইপোকা দেখা যায়। এতে অসুবিধাবোধ করে তাঁর সহকারী একান্ত সচিব সার্কিট হাউসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীকে কক্ষ পরিবর্তনের ব্যবস্থা করতে বলেন। একই সঙ্গে কম্বলও চান তিনি।
আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) আরিফুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা জানান, বিষয়টি জানানোর পরও তাৎক্ষণিকভাবে কক্ষ পরিবর্তনের ব্যবস্থা করা হয়নি। পরে তিনি বিষয়টি কুমিল্লার এনডিসিকে (নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট) এসএমএসের মাধ্যমে জানান। এরপরও দ্রুত বিকল্প কক্ষ বা আবাসনের ব্যবস্থা না হওয়ায় একপর্যায়ে সার্কিট হাউস ত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন বিরোধীদলীয় উপনেতা। পরে শুক্রবার দিবাগত রাত ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে তিনি সার্কিট হাউস ছেড়ে চলে যান।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মু. মাহবুবর রহমান বলেন, কুমিল্লা সার্কিট হাউসের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় এমন অব্যবস্থাপনা দুঃখজনক। একজন গুরুত্বপূর্ণ অতিথির কক্ষে সমস্যা দেখা দেওয়ার পরও দ্রুত বিকল্প কক্ষের ব্যবস্থা না হওয়া নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিরোধীদলীয় উপনেতা সার্কিট হাউস ছেড়ে যাওয়ার পর বিষয়টি তারা জানতে পারে। পরে খোঁজ নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সাইফুল ইসলাম শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাতে সার্কিট হাউস থেকে আমাদের এনডিসিকে কল করে বিরোধীদলীয় উপনেতার জন্য বরাদ্দ করা কক্ষে একটু সমস্যার কথা বলা হয়। পরে এনডিসি সাহেব তাৎক্ষণিকভাবে সার্কিট হাউসে কর্মরতদের তাঁর কক্ষ পরিবর্তনের জন্য বলেন এবং যে কক্ষে সমস্যা হয়েছিল, সেটি পরিষ্কার করার নির্দেশ দেন।’
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বলেন, এর মধ্যেই সার্কিট হাউস থেকে এনডিসিকে আবার ফোন করে জানানো হয় যে, বিরোধীদলীয় উপনেতা সার্কিট হাউস ছেড়ে চলে গেছেন। তাঁর ভাষ্যমতে, বিষয়টি এনডিসি বা জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কেউ তাৎক্ষণিকভাবে জানতে পারলে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতো না।
মো. সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, ‘এই ঘটনার পরই সার্কিট হাউসের আবাসন ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের শোকজ করা হয়েছে। তাঁদের জবাব পাওয়ার পর এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাননীয় বিরোধীদলীয় উপনেতা সার্কিট হাউস ছেড়ে চলে যাওয়ার বিষয়টি আমাদের জন্যও দুঃখজনক।’