জকসু নির্বাচনে ভোটারদের লাইন। সমাজবিজ্ঞান ভবনের সামনে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে
জকসু নির্বাচনে ভোটারদের লাইন। সমাজবিজ্ঞান ভবনের সামনে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে

প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ ছাত্রদল ও শিবির–সমর্থিত দুই প্যানেলেরই

জকসু নির্বাচনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণ করছে বলে অভিযোগ করেছে ছাত্রদল-ছাত্র অধিকার পরিষদ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান প্যানেল’ ও ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেল।

আজ মঙ্গলবার সকালে ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার দুই ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করে এমন অভিযোগ করেছেন ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী এ কে এম রাকিব ও ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম।

জকসু নির্বাচনে ভোট গ্রহণ চলছে। ভোটারের আঙুলে লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে কালি

সকাল ১০টার পর এক সংবাদ সম্মেলনে ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী এ কে এম রাকিব বলেন, ‘সকালবেলা আজকে যখন আমরা ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করি, ক্যাম্পাসে প্রবেশ করি, তার কিছুক্ষণ পরেই দেখতে পাই যে একটা নির্দিষ্ট প্যানেলের যেই টোকেন নম্বর…,যেখানে প্রত্যেক প্রার্থীর ব্যালট নম্বর আছে, এই ব্যালট নম্বর ভেতরে ঢুকছে; অথচ নির্বাচন কমিশন থেকে স্পষ্টভাবে বলা ছিল যে কোনো প্যানেল বা কোনো প্রার্থীর টোকেন নম্বর ক্যাম্পাসের ভেতরে ঢুকবে না।’

এ কে এম রাকিব আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন প্রথমে টোকেন প্রবেশের বিষয়টি অস্বীকার করে। পরে তাদের প্রমাণ দেখালে তারা সবাইকে টোকেন নেওয়ার অনুমতি দেয়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বরত ব্যক্তিরা কেবল অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেলের টোকেন গ্রহণ করছেন এবং অন্য প্যানেলের টোকেন দেখলে বাধা দিচ্ছেন। নির্বাচন কমিশনের এমন কর্মকাণ্ডকে 'দ্বিচারিতামূলক আচরণ' বলেন তিনি।

বেলা ১১টার কিছু আগে সংবাদ সম্মেলন করেন অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেলের ভিপি প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেন, ক্যাম্পাসের বাইরে ছাত্রদলের কর্মীরা নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তা করাসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের নারী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আমাদের শিবির প্যানেলের যে ভোটের চিরকুট ছিল, সেটা পর্যন্ত তারা কেড়ে নিচ্ছে।’

রিয়াজুল ইসলাম আরও বলেন, ‘আমরা মনে করছি, নির্বাচনের ভোট গণনা করার সময় তারা বড় কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করতে পারে এবং বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে ক্যাম্পাসের আশপাশের অঞ্চলগুলোতে তারা বিভিন্ন ক্যাডারদের রেখেছে। আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে গেলে তারা দায়সারা উত্তর দেয় যে তারা এগুলো জানে না। কিন্তু এই তাৎক্ষণিক সমস্যাগুলো লিখিত অভিযোগ দিয়ে সমাধান করা সম্ভব নয়। নির্বাচন কমিশন ছাত্রদলের সঙ্গে পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণ করছে।’