সুপ্রিম কোর্ট
সুপ্রিম কোর্ট

ইসির সিদ্ধান্ত স্থগিত, ১২ ফেব্রুয়ারি পাবনা–১ ও ২ আসনে নির্বাচন হবে আগের সীমানায়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা–১ ও পাবনা–২ আসনে নির্বাচন স্থগিত রাখতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ৬ জানুয়ারির সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। আদেশে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল অনুসারে এই দুই আসনে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন কমিশনের গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বরের গেজেট (সীমানা নির্ধারণসংক্রান্ত) অনুসারে।

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে পাবনা–১ আসনের এক প্রার্থীর করা লিভ টু আপিলের (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) শুনানি নিয়ে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ আজ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন।

নির্বাচন কমিশন ৪ সেপ্টেম্বর সীমানা পুনর্বিন্যাস–সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করে। সেখানে সাঁথিয়া উপজেলার পুরোটা নিয়ে পাবনা–১ আসন এবং সুজানগর ও বেড়া উপজেলা নিয়ে পাবনা–২ আসন চূড়ান্ত করা হয়েছিল বলে জানান লিভ টু আপিলকারীর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইমরান এ সিদ্দিক। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, লিভ মঞ্জুর (আপিল করার অনুমতি) করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। ৪ সেপ্টেম্বরের গেজেট অনুসারে নির্ধারণ করা সীমানা অনুযায়ী ১২ ফেব্রুয়ারি আসন দুটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। হাইকোর্টের রায়ের পর ইসি আসন দুটির সীমানার বিষয়ে গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর সংশোধিত গেজেট প্রকাশ করেছিল, এটিও স্থগিত করা হয়েছে। আসন দুটিতে (পাবনা–১ ও ২ আসন) নির্বাচন স্থগিত করা–সংক্রান্ত ইসির ৬ জানুয়ারি অফিস আদেশও স্থগিত করা হয়েছে। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে।

ইসির ৪ সেপ্টেম্বরের গেজেটের এই দুটি আসনসংক্রান্ত অংশটুকুর বৈধতা নিয়ে বেড়া উপজেলার বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম ও সাঁথিয়া উপজেলার বাসিন্দা আবু সাঈদ হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রুল দেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল যথাযথ (অ্যাবসলিউট) ঘোষণা করে ১৮ ডিসেম্বর রায় ঘোষণা করেন।

হাইকোর্টের রায়ে পাবনা–১ আসন থেকে বেড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বাদ দিয়ে পাবনা–২ আসনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া–সংক্রান্ত ইসির গেজেটের অংশটুকু আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে পাবনার সংসদীয় আসন দুটি আগের মতো (২০২৩ সালের ১ জুনের গেজেট অনুসারে) পুনর্বহাল করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গেজেট প্রকাশ করতে ইসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

হাইকোর্টের রায়ের পর ২৪ ডিসেম্বর পাবনার আসন দুটি নিয়ে সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ইসি। তাতে আগের মতোই পুরো সাঁথিয়া উপজেলা এবং বেড়া পৌরসভা ও বেড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন (হাটুরিয়া নাকালিয়া, নতুন ভারেঙ্গা, চাকলা ও কৈটোলা ইউনিয়ন) নিয়ে পাবনা–১ আসন গঠিত হয়। আর পাবনা–২ আসনও গঠিত হয় বেড়া উপজেলার বাকি পাঁচটি ইউনিয়ন ও পুরো সুজানগর উপজেলা নিয়ে।

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও পাবনা–১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান (আইনজীবী নাজিব মোমেন) আপিল বিভাগে পৃথক আবেদন করেন। আবেদন দুটি ৫ জানুয়ারি শুনানির জন্য ওঠে। সেদিন শুনানি নিয়ে পাবনা–১ ও পাবনা–২ সংসদীয় আসনে আগের সীমানা পুনর্বহাল করে নির্বাচন কমিশনের ২৪ ডিসেম্বরের সংশোধিত বিজ্ঞপ্তির অংশটুকু স্থগিত করেন আপিল বিভাগ। লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) দায়ের করা পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়।

এরপর ৬ জানুয়ারি নির্বাচন পরিচালনা–২ অধিশাখা থেকে এক অফিস আদেশে জানানো হয়, আপিল বিভাগের ৫ জানুয়ারির আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নির্বাচনী এলাকা পাবনা–১ ও পাবনা–২–এর নির্বাচন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার জন্য নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত প্রদান করেছে। অন্যদিকে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর পাবনা–১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন, যা ১৩ জানুয়ারি আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে শুনানির জন্য ওঠে। সেদিন চেম্বার আদালত লিভ টু আপিল আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে ১৪ জানুয়ারি শুনানির জন্য নির্ধারণ করেন। এর ধারাবাহিকতায় শুনানি নিয়ে আজ লিভ মঞ্জুর (আপিল করার অনুমতি) করে আদেশ দেওয়া হয়।

আদালতে নাজিব মোমেনের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইমরান এ সিদ্দিক শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষে আইনজীবী এ বি এম ইমদাদুল হক খান শুনানিতে ছিলেন। রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী।