কোলাজ: প্রথম আলো গ্রফিক্স
কোলাজ: প্রথম আলো গ্রফিক্স

প্রথম আলো ফ্যাক্ট চেক

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে সেলিনা হায়াৎ আইভীর ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি

সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পাওয়া নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর একটি ছবি সামাজিক যোগযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফর্ম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবিতে দেখা যায়, লাল-সবুজের পোশাকের ওপর উত্তরীয় পরে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কে আইভী, বিধ্বস্ত বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে একা দাঁড়িয়ে ‘ভি’ চিহ্ন দেখাচ্ছেন তিনি।

ছড়িয়ে পড়া পোস্টগুলোতে দাবি করা হচ্ছে, কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত বাড়িতে গিয়েছিলেন সেলিনা হায়াৎ আইভী।

ছবিটি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ–সমর্থক বিভিন্ন ফেসবুক পেজ, গ্রুপ ও প্রোফাইল থেকে ছড়ানো হচ্ছে।

প্রথম লিংক, দ্বিতীয় লিংক, তৃতীয় লিংক, চতুর্থ লিংক, পঞ্চম লিংক

৩৬ হাজার অনুসারীর বেঙ্গলি জার্নাল পেজে ৬ জুন একটি পোস্ট দেখা যায়। ‘কারামুক্তির পরদিনই ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে সাবেক মেয়র আইভী: ৩২ ধ্বংস করলেই আওয়ামী লীগ শেষ হয়ে যাবে না!’ এই শিরোনামে একটি প্রতিবেদনও যুক্ত করা হয় সেখানে।

লিংক: এখানে

ফেসবুক পোস্টটিতে একটি ফটোকার্ডও যুক্ত করা হয়। এর শিরোনাম ‘কারামুক্তির পরদিনই ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে সাবেক মেয়র আইভী’। পোস্টটিতে সাড়ে ৫ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া পড়ে।

২০২৪ সালে জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দলটির নারায়ণগঞ্জের নেতা সেলিনা হায়াৎ আইভীও গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এরপর তাঁকে মেয়র পদ থেকেও বরখাস্ত করা হয়।

প্রায় ১৩ মাস পর ৩ জুন জামিনে মুক্তি পান সেলিনা হায়াৎ আইভী। গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তিনি নারায়ণগঞ্জে যান। তবে তিনি এর মধ্যে ধানমন্ডিতে গেছেন, এমন কোনো খবর কোনো সংবাদমাধ্যমে আসেনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি যাচাই করতে গেলে এর নিচের ডান দিকে গুগলের এআই প্ল্যাটফর্ম জেমিনির লোগো দেখা যায়। সাধারণত জেমিনি ব্যবহার করে তৈরি বা সম্পাদিত কনটেন্টে এ ধরনের ওয়াটারমার্ক থাকে। এতে ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

এরপর ছবিটি এআই শনাক্তকারী টুল হাইভ মডারেশন দিয়ে পরীক্ষা করা হয়। বিশ্লেষণে টুলটি ছবিটিকে প্রায় শতভাগ এআই-নির্মিত বলে শনাক্ত করে। একই সঙ্গে গুগলের এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী টুল সিন্থআইডি দিয়েও ছবিটি যাচাই করা হয়। সেখানেও ছবিটি গুগলের এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি বা সম্পাদিত হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়।

বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে নারায়ণগঞ্জে অবস্থানরত সেলিনা হায়াৎ আইভী প্রথম আলোর নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি মজিবুল হককে বলেন, কারামুক্তির পর তিনি ধানমন্ডিতে যাননি।

প্রকৃত ছবি কী ছিল

ছবিটির উৎস অনুসন্ধানে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। অনুসন্ধানে ২০২২ সালের ১৬ জানুয়ারি প্রকাশিত প্রথম আলোর ইংরেজি সংস্করণের একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনটি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিজয় ঘোষিত হওয়ার পরের ছবি যুক্ত ছিল।

লিংক: এখানে

একই ছবিটি আরও কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে পাওয়া যায়।

প্রথম লিংক, দ্বিতীয় লিংক

সেখানে ব্যবহৃত ছবির সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ছবিটির ভঙ্গি, পোশাক ও মুখাবয়বের মিল পাওয়া যায়। তবে মূল ছবিতে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের কোনো দৃশ্য নেই।

অর্থাৎ পুরোনো ওই ছবি ব্যবহার করে এআই দিয়ে নতুন ছবিটি তৈরি করা হয়েছে।