জাতীয় সংসদ অধিবেশনে কুমিল্লা-৬ আসনের সরকারদলীয় সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী । ৫ এপ্রিল
জাতীয় সংসদ অধিবেশনে কুমিল্লা-৬ আসনের সরকারদলীয় সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী । ৫ এপ্রিল

কুমিল্লায় স্টেডিয়াম উধাও!

কাগজে-কলমে কুমিল্লা দক্ষিণে একটি মিনি স্টেডিয়াম নামে থাকলেও বাস্তবে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী।

আজ রোববার সংসদ অধিবেশনে জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বাতিল নোটিশের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি স্টেডিয়ামটি উদ্ধারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

আজ রোববার বিকেলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়।

২০০৪ সালে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা সৃষ্টি, পরে স্টেডিয়াম তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়ে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, সেটি কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা নামে নামকরণ করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন চেষ্টা করেছিলাম। পরে শুনেছি স্টেডিয়াম উধাও হয়ে গেছে, টাকা লুটপাট হয়ে গেছে। সরকার বলে স্টেডিয়াম ওখানে আছে। কিন্তু কুমিল্লা জেলায় এ নামে সাধ্যমতো খুঁজে কোনো স্টেডিয়াম পাইনি।

মনিরুল হক চৌধুরী কুমিল্লা দক্ষিণ স্টেডিয়ামের জমি রেকর্ডে ইচ্ছামাফিক গাফিলতি, ক্রীড়াসামগ্রী আত্মসাৎ, বরাদ্দ করা অর্থ লুটের অভিযোগ করে বলেন, ‘বিষয়টি আমার ইজ্জতের ব্যাপার। দীর্ঘদিন ক্রীড়াঙ্গানে কাটিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীও আছেন। এ স্টেডিয়াম কোথায়? তা উদ্ধার করে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’

৪৮১ জন ‘ভুয়া’ মুক্তিযোদ্ধার সনদ বাতিল

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমদ আজম খান জানিয়েছেন এরই মধ্যে আগস্ট ২০২৪ থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত সারা দেশে তদন্ত ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে ৪৮১ জন অমুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিল করা হয়েছে।

সরকারদলীয় এক সদস্যের প্রশ্নের জবাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী জানান, মুক্তিযোদ্ধা কখনো ‘ভুয়া’ হন না। তাঁরা অমুক্তিযোদ্ধা হবেন। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় তালিকাভুক্ত হওয়া অমুক্তিযোদ্ধাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে আগস্ট ২০২৪ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত সারা দেশে তদন্ত ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে ৪৮১ জন অমুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিল করা হয়েছে।

সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল মালিকের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আহমদ আজম খান আরও বলেন, গত ১৫ বছরে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা অবহেলিত ছিলেন এবং অনেক অসাধু ব্যক্তি ভুয়া তথ্য দিয়ে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন। বিশেষ করে সিলেটের বালাগঞ্জ ও দক্ষিণ সুরমার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।

মন্ত্রী বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধারা দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বলতে আসলে কিছু নেই। তবে কিছু সুযোগসন্ধানী ব্যক্তি অসাধু উপায়ে তালিকায় ঢুকে পড়েছেন। এঁদের চিহ্নিত করার কাজ একটি চলমান প্রক্রিয়া। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) উপকমিটি অভিযোগের ভিত্তিতে নিয়মিত শুনানি ও যাচাই-বাছাই করছে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ামাত্রই তাঁদের সনদ ও গেজেট বাতিল করা হবে। প্রবাসে অবস্থানরত যেসব মুক্তিযোদ্ধা এখনো ডিজিটাল সনদ বা স্মার্ট আইডি পাননি, তাঁদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুততম সময়ে তা প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।