
বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত ‘টিপাইমুখ বাঁধ’ বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুস সামাদ আজাদের অনুরোধে ভারত চালু করেছিল বলে সংসদে জানিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এরপর তিনি মন্তব্য করেন, ‘আমরাই ডেকে ডেকে নিজেদের সর্বনাশ ডেকে এনেছিলাম।’
আজ বুধবার জাতীয় সংসদে সিলেট-৩ আসনের বিএনপি–দলীয় সদস্য আবদুল মালিকের এক সম্পূরক প্রশ্নের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এ মন্তব্য করেন। বেলা ১১টায় স্পিকারের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।
সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য আবদুল মালিক ভারতের টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে কথা বলেন। এ–সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলবেন।
এ পর্যায়ে স্পিকার বলেন, ‘পানিসম্পদমন্ত্রী হিসেবে আমার কিঞ্চিত অভিজ্ঞতা আছে। এই যে টিপাইমুখ বাঁধ, এটি বাংলাদেশেরই পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুস সামাদ আজাদের অনুরোধে চালু করেছিল ভারত। আমরাই ডেকে ডেকে নিজেদের সর্বনাশ ডেকে এনেছিলাম।’
পরিবেশ মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে সিলেটের বন্যা ও খরার দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন আবদুল মালিক। তিনি বলেন, কালবৈশাখী ও বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি পানি ও বরাক নদের উজানের প্রবাহে সিলেটের রাস্তাঘাটসহ বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে চলে যায়। আবার খরার মৌসুমে পানির অভাবে মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তিনি জানতে চান, টিপাইমুখ বাঁধের বিষয়ে সরকারের কী পরিকল্পনা আছে এবং পাহাড়ি পানির চাপ ঠেকাতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জবাবে বন ও পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘টিপাইমুখ নিয়ে যে ব্যাপারটা মাননীয় সংসদ সদস্য বলছেন, সেটি নিয়ে আমি আমাদের মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলব, যাতে করে ভবিষ্যতে এ সমস্যাটা সমাধান করা যায়।’ মন্ত্রী আরও বলেন, ‘ওই বাঁধ ভাঙনের ব্যাপারে যেভাবে উনি বলছেন—একবার পানিতে তলিয়ে যায়, আরেকবার পানি পাওয়া যায় না; আমরা ব্যবস্থা নেব, যাতে ভবিষ্যতে এই সমস্যাটা কমে যায়।’
মন্ত্রীর উত্তরের পরই স্পিকার নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে টিপাইমুখ বাঁধের বিষয়ে উল্লিখিত মন্তব্য করেন।