জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। আজ বুধবার দুপুরে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে
জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। আজ বুধবার দুপুরে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে

বাংলাদেশ ব্যাংক-বিসিবিসহ সবখানে ‘ক্যু’ শুরু করছে বিএনপি: জামায়াত আমির

বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, বিএনপি এখন বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে শুরু করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি), জেলা পরিষদ, বিশ্ববিদ্যালয় সব জায়গায় ক্যু শুরু করেছে।

আজ বুধবার দুপুরে জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে এই মতবিনিময় অনুষ্ঠানে জামায়াতের আমির এ কথা বলেন। তিনি বলেন, গুম কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ সংস্কার কমিশন, দুদক, পিএসসি অধ্যাদেশসহ যেগুলো মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত, যেসব অধ্যাদেশ ফ্যাসিবাদ ঠেকানোর জন্য প্রয়োজন, বিএনপি সবকিছু গায়ের জোরে ফেলে দিয়েছে। তারা বিচার মানে কিন্তু তালগাছ ছাড়বে না।

ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশের (আইডিইবি) মুক্তিযোদ্ধা হল মিলনায়তনে এ মতবিনিময়ের আয়োজন করে ১১-দলীয় ঐক্য।

শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি গর্ব করে বলে ১৯৭১, ১৯৯০, ২০২৪— সবকিছু তাদের। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের জন্মই হয়নি। ১৯৭১ সালে জিয়াউর রহমান প্রথমবার নিজের পক্ষ থেকে, পরেরবার আরেকজনের পক্ষ থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সবকিছুর ক্রেডিট একক ব্যক্তিকে দিয়ে দেওয়া হলে বাকি যোদ্ধাদের অবস্থান কোথায় থাকে, সেই প্রশ্নও ওঠে। ফ্যাসিবাদী আমলে মুক্তিযুদ্ধকে কুক্ষিগত করার চেষ্টায় জিয়াউর রহমানকে পাকিস্তানের চর, দালাল বলা হয়েছিল। জামায়াত ওই রাজনীতি আর দেখতে চায় না।

বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, বিএনপি তাদের ৩১ দফা সংস্কারে বাস্তবায়ন করবে বলেছিল। এর প্রথম দফাই ছিল সংবিধান সংস্কার বিষয়ে। এখন তারা এর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তারা শুধু জাতির সঙ্গে নয়, তাদের দলীয় সংস্কারের ৩১ দফার সঙ্গেও বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।

জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। আজ বুধবার দুপুরে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বশেষ বয়সসীমা নিয়ে সংসদে আলোচনার দিন সেখানে মব সৃষ্টি করা হয়েছে বলে দাবি করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার কিছু লোককে জুলাই যোদ্ধা পরিচয়ে দর্শক গ্যালারিতে বসিয়েছিল। আলোচনার এজেন্ডা যখন আসল, তখন সরকারি দল থেকে তাদের ইশারা দেওয়া হলো। বোঝা গেল, এটা পাতানো। এর আগে কয়েকটা বিল পাস হয়েছে, যার কাগজপত্র বিরোধী দলকে দেওয়া হয়নি। তারা বিরোধী দলকে অন্ধকারে রেখে ব্ল্যাকমেইলিং করতে চেয়েছিল, তবে বিরোধী দল তাদের পাতা ফাঁদে পা দেয়নি।

জামায়াতের আমির আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার যেসব সংশোধনের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল, সেই জায়গাগুলোই বিএনপি এখন রেখে দিতে চায়। এর মাধ্যমে বিএনপি আবার ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চায়। সেটি হতে দেওয়া হবে না।

যত দিন সংসদের ভেতরে লড়াই করতে পারবেন, তত দিন থাকবেন; এর বাইরে এক মিনিটও সংসদে থাকবেন না উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, রাজপথ বিরোধী দলের মূল ঠিকানা, সংসদ নয়। সংসদে দেশের জনগণ একটা পরিবর্তনের আশায় তাদের পাঠিয়েছেন, সেই পরিবর্তনের সূচনা করতে না পারলে সেই সংসদ দিয়ে কী হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে একসঙ্গে লড়বে বিরোধী দল। এর মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের চূড়ান্ত পরাজয় হবে, বিজয় হবে জনগণের।

মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। স্বাগত বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম, এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযহার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মুস্তাফিজুর রহমান, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন।

জুলাই শহীদ পরিবারের পক্ষে বক্তব্য দেন শহীদ আলিফের বাবা গাজিউর রহমান, শহীদ ফারহান ফাইয়াজের বাবা শহীদুল ইসলাম ভূঁইয়া, শহীদ মেহেরুন নেসার বাবা মোশাররফ হোসেন, আহত জুলাই যোদ্ধা কামরুল আহসান, শহীদ মাহমুদুর রহমান সৈকতের বোন সাবরিনা আফরোজ সেবন্তী, শহীদ শেখ মেহেদী হাসান জুনায়েদের বাবা জামাল হোসেন, জুলাই যোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান, শহীদ শাহরিয়ার খান আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি, শহীদ ইসমাঈল হোসেনের স্ত্রী লাকি বেগম, শহীদ জাবের ইব্রাহিমের বাবা কবির হোসেন এবং ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর নিহত গোলাম কিবরিয়া শিপনের বাবা তাজুল ইসলাম।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম, মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির হেলাল উদ্দিন ও সহকারী সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসেন।