মাকামে ইব্রাহিম পাথরের বর্তমান অবস্থানটি এভাব চিহ্নিত করে রাখা হয়েছে
মাকামে ইব্রাহিম পাথরের বর্তমান অবস্থানটি এভাব চিহ্নিত করে রাখা হয়েছে

পবিত্র হজ

আল্লাহর কুদরতের নিদর্শন মাকামে ইব্রাহিম

হজরত ইব্রাহিম (আ.) যে পাথরে দাঁড়িয়ে কাবাঘর পুনর্নির্মাণ করেছিলেন, সেই পাথরটির নাম ‘মাকামে ইব্রাহিম’। এটি একটি অলৌকিক পাথর; নির্মাণের উচ্চতার প্রয়োজন অনুপাতে পাথরটিও উঁচু-নিচু হতো এবং পাথরটিতে নবী ইব্রাহিমের পায়ের ছাপ অঙ্কিত রয়েছে। (মুহাম্মদ শফি, তাফসিরে মাআরিফুল কুরআন, ২/১০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ঢাকা, ২০১০) 

একটি শক্ত জড়বস্তুর প্রয়োজনানুসারে উঁচু-নিচু হওয়া ও কাদামাটির মতো নরম হয়ে নিজের মধ্যে পদচিহ্ন গ্রহণ করা আল্লাহ-তাআলার কুদরতের অনন্য নিদর্শন। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘এতে (কাবাগৃহে) রয়েছে সুস্পষ্ট নিদর্শনাদি, এরমধ্যে একটি হলো মাকামে ইব্রাহিম।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ৯৭)

এই পাথরের ওপর দাঁড়িয়েই ইব্রাহিম (আ.) হজের ঘোষণা দেন এবং তাঁর এই আহ্বান আল্লাহ-তাআলা অলৌকিকভাবে কেয়ামত পর্যন্ত আগমনকারী সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন।

বেহেশতি পাথর

মাকামে ইব্রাহিম মূলত বেহেশতি পাথর। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই হাজরে আসওয়াদ ও মাকামে ইব্রাহিম জান্নাতের ইয়াকুত পাথরসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ-তাআলা এ দুটির জ্যোতি নিস্তেজ করে দিয়েছেন। তিনি যদি এগুলোর আলো ম্লান না করতেন, তবে এ দুটো পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত সমগ্র পৃথিবীকে আলোকিত করে দিত।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৮৭৮)

নবী ইব্রাহিমের আহ্বান

পবিত্র কাবা ঘরের নির্মাণকাজ সমাপ্ত করার পর আল্লাহ-তাআলা নবী ইব্রাহিমকে আদেশ করেন যেন তিনি পৃথিবীবাসীকে হজের জন্য আহ্বান করেন। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘আর আপনি মানুষের মাঝে হজের ঘোষণা দিন, তারা আপনার কাছে আসবে পায়ে হেঁটে এবং প্রত্যেক ক্ষীণকায় উটে চড়ে দূর-দূরান্ত থেকে।’ (সুরা হজ্জ, আয়াত: ২৭) 

এই পাথরের ওপর দাঁড়িয়েই ইব্রাহিম (আ.) হজের ঘোষণা দেন এবং তাঁর এই আহ্বান আল্লাহ-তাআলা অলৌকিকভাবে কেয়ামত পর্যন্ত আগমনকারী সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন।

যাদের হজ পালনের সৌভাগ্য হয়েছে বা হবে, এমন প্রত্যেক ব্যক্তি সেদিন এই আহ্বানের জবাবে ‘লাব্বাইক’ বলেছিলেন। (ইবনে কাসির, তাফসিরুল কুরআনিল আজিম, ৫/৪৪১, দারে তাইবাহ, রিয়াদ, ১৯৯৯)

মাকামে ইব্রাহিমের বর্তমান অবস্থান

প্রথমে এই বরকতময় পাথরটি কাবাঘরের ভেতরে রাখা ছিল, যা ইসলামপূর্ব সময়ে কাবার বাইরে দরজার নিকট এনে রাখা হয়।

ইসলাম আগমনের পর আল্লাহ-তাআলা মাকামে ইব্রাহিমকে নামাজের স্থান বানানোর আদেশ দিলে পাথরটিকে দরজা থেকে সরিয়ে কাবাগৃহের সামান্য দূরে স্থাপন করা হয়।

ইসলাম আগমনের পর আল্লাহ-তাআলা মাকামে ইব্রাহিমকে নামাজের স্থান বানানোর আদেশ দিলে পাথরটিকে দরজা থেকে সরিয়ে কাবাগৃহের সামান্য দূরে স্থাপন করা হয়। (মুহাম্মদ শফি, তাফসিরে মাআরিফুল কুরআন, ২/১০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ঢাকা, ২০১০) 

বর্তমানে এটি কাবা শরিফের ১০ কিংবা ১১ মিটার দূরে একটি কাচের গম্বুজে সংরক্ষিত আছে।

মাকামে ইব্রাহিমে নামাজ

বিদায় হজের তওয়াফের পর নবীজি (সা.) কাবার দিকে মুখ করে এভাবে নামাজ পড়েছেন যে, তাঁর এবং কাবাঘরের মাঝে মাকামে ইব্রাহিম ছিল। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৯৫)

হজ ও ওমরাহর তওয়াফ শেষে দুই রাকাত নামাজ পড়া ওয়াজিব এবং এই নামাজ মাকামে ইব্রাহিমের পেছনে আদায় করা সুন্নত। কোনো কারণে সেখানে সম্ভব না হলে হারামের সীমানার ভেতরে অন্য কোথাও আদায় করে নিতে হবে। (মোল্লা আলি কারি, মানাসিকে মোল্লা আলি কারি, পৃষ্ঠা ১৯৯-২০০, মাকতাবায়ে ইমদাদিয়া, মক্কা, ২০০৯ )

  • সৈয়দ আবিদুল হক: মুহাদ্দিস, জামিয়া ইসলামিয়া ইমদাদুল উলুম, নরসিংদী