মক্কায় পৌঁছানোর পর একজন হাজির প্রথম প্রধান আমল হলো ওমরাহ পালন করা। তবে অনেকেই মক্কায় ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে ওমরাহর জন্য এতই ব্যস্ত হয়ে পড়েন যে দীর্ঘ সফরের ক্লান্তি বা বিশ্রামের কথা ভুলে যান। এর প্রয়োজন নেই।
নতুন একটি পরিবেশে গিয়ে শুরুতে হোটেলে উঠে কিছুটা সময় বিশ্রাম নিন এবং খাবার খেয়ে শরীর সতেজ করে নিন। এরপর এজেন্সির লোকজনের সঙ্গে পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে ওমরাহর জন্য রওনা হওয়া ভালো। পথে বেশি বেশি তালবিয়া পাঠ করুন।
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘এক ওমরাহ অন্য ওমরাহ পর্যন্ত সময়ের গুনাহগুলোর কাফফারাস্বরূপ। আর মাবরুর (কবুল) হজের একমাত্র প্রতিদান হলো জান্নাত।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৭৩৩)
তিনি আরও বলেন, ‘তোমরা বারবার হজ ও ওমরাহ আদায় করো। কেননা এ দুটি দারিদ্র্য ও গুনাহকে এমনভাবে দূর করে দেয়, যেমনটি কামারের হাপর লোহা ও সোনা-রুপার ময়লাকে দূর করে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৮১০)
অনেকেই মক্কায় ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে ওমরাহর জন্য এতই ব্যস্ত হয়ে পড়েন যে দীর্ঘ সফরের ক্লান্তি বা বিশ্রামের কথা ভুলে যান। এর প্রয়োজন নেই।
ওমরাহ পালনের জন্য ব্যক্তিকে অবশ্যই মুসলিম, প্রাপ্তবয়স্ক, মানসিকভাবে সুস্থ এবং আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান হতে হবে। হজে বা ওমরাহতে যাওয়ার জন্য ধার করা উচিত নয়।
নারীদের ক্ষেত্রে সঙ্গে ‘মাহরাম’ (যাদের সঙ্গে বিয়ে জায়েজ নয়, যেমন—বাবা, ভাই, ছেলে) থাকা আবশ্যক, যদিও বর্তমানে সৌদি সরকার কিছু ক্ষেত্রে এই নিয়ম শিথিল করেছে।
মিকাত (নির্ধারিত সীমা) থেকে ইহরামের নিয়ত করে পবিত্র কাবাঘর তাওয়াফ করা, সাফা-মারওয়া পাহাড়ের মাঝে সাঈ করা এবং মাথার চুল কাটা বা মুণ্ডন করাকে ‘ওমরাহ’ বলা হয়। হজের ৫ দিন বাদে বছরের যেকোনো সময় ওমরাহ করা যায়।
ওমরাহর প্রতিটি কাজ ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন করতে হয়। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করুন, ‘হে আল্লাহ, আমার ওমরাহ সহজ করো এবং কবুল করো।’
ওমরাহর ফরজ ২টি: ১. ইহরাম বাঁধা (নিয়ত ও তালবিয়া পাঠ)। ২. তাওয়াফ করা।
ওমরাহর ওয়াজিব ৩টি: ১. সাফা-মারওয়া সাঈ করা। ২. মাথা মুণ্ডন করা বা চুল ছোট করা (হলক বা কসর)। ৩. তাওয়াফের পর দুই রাকাত নামাজ পড়া।
কাবা শরিফের চারদিকে সাতবার ঘোরাকে তাওয়াফ বলে। এটি হাজরে আসওয়াদ থেকে শুরু করতে হয়।
তাওয়াফ শেষে মাকামে ইব্রাহিমের পেছনে বা হারামের যেকোনো স্থানে দুই রাকাত নামাজ পড়া ওয়াজিব। এরপর প্রাণভরে জমজমের পানি পান করা সুন্নত।
সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে সাতবার আসা-যাওয়া করাকে সাঈ বলে। সাঈর সময় দুই সবুজ বাতির মাঝের অংশটুকু পুরুষদের একটু দৌড়ে পার হতে হয়, নারীরা স্বাভাবিকভাবে হাঁটবেন।
ওমরাহর প্রতিটি কাজ ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন করতে হয়। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করুন, ‘হে আল্লাহ, আমার ওমরাহ সহজ করো এবং কবুল করো।’
সঠিক নিয়ম ও পবিত্র মন নিয়ে ওমরাহ পালন করলে আল্লাহ অবশ্যই এর উত্তম প্রতিদান দেবেন।