রমজান মাস ইবাদতের মাস। আবার ইসলামের ইতিহাসের মোড় পরিবর্তনকারী প্রধান প্রধান ঘটনাগুলো এই মাসেই পুঞ্জীভূত হয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে রমজানের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ তারিখ ও ঘটনাগুলো নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
হিজরি ১৩ সনের ১ রমজান ইসলামের প্রথম খলিফা হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর খেলাফতকালে মুসলিম বাহিনী সিরিয়া জয়ের পথে যাত্রা শুরু করে। এছাড়াও ২০ হিজরির এই দিনে হজরত আমর ইবনুল আস (রা.)-এর নেতৃত্বে মিশর বিজয়ের সূচনা হয়। (ইবনে কাসির, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭/১১৭)
পবিত্র কোরআনের বর্ণনা ও ঐতিহাসিক তথ্যমতে, হজরত মুসা (আ.)-এর ওপর আসমানি গ্রন্থ তাওরাত অবতীর্ণ হয়েছিল ২ রমজান। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ১৬৯৮৪)
নবুয়তের দশম বর্ষে (হিজরতের ৩ বছর আগে) এই দিনে মহানবী (সা.)–এর প্রথম স্ত্রী এবং ইসলামের ইতিহাসে সবচেয়ে মহীয়সী নারী হজরত খাদিজা (রা.) ইন্তেকাল করেন। ইসলামের কঠিনতম দিনগুলোতে তিনি ছিলেন নবীজির প্রধান অবলম্বন। (সফিউর রহমান মোবারকপুরী, আর-রাহিকুল মাখতুম, পৃষ্ঠা: ১১৫, তাওহীদ পাবলিকেশন্স, ২০০৫)
হজরত ইসা (আ.)-এর ওপর পবিত্র আসমানি কিতাব ইঞ্জিল অবতীর্ণ হয়েছিল রমজান মাসের ১২ তারিখে। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ১৬৯৮৪)
হিজরি ৩ সনের এই দিনে নবীজির প্রিয় দৌহিত্র এবং জান্নাতের যুবকদের নেতা হজরত হাসান ইবনে আলি (রা.) জন্মগ্রহণ করেন। (ইবনে হাজার আসকালানি,আল-ইসাবা ফি তাময়িজিস সাহাবা, ২/১২, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়াহ, বৈরুত)
ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রথম সম্মুখ সমর ‘বদর যুদ্ধ’ হিজরি ২ সনের ১৭ রমজানে সংঘটিত হয়। মাত্র ৩১৩ জন মুজাহিদ নিয়ে মুসলিমরা ১০০০ সশস্ত্র কাফেরের বিরুদ্ধে বিজয় লাভ করে। (সুরা আনফাল, আয়াত: ৪১; সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৯৩৯)
এছাড়াও হিজরি ৫৮ সনের এই দিনে উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) মদিনায় ইন্তেকাল করেন। (আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৮/৯৪)
নবীজির হাদিস অনুযায়ী, হজরত দাউদ (আ.)-এর ওপর পবিত্র আসমানি কিতাব যবুর নাজিল হয়েছিল ১৮ রমজান। (ইমাম বায়হাকি, সুনানুল কুবরা, হাদিস: ৯১২৪)
হিজরি ৪০ সনের ১৯ রমজান ভোরে কুফার মসজিদে নামাজরত অবস্থায় আব্দুর রহমান ইবনে মুলজাম খলিফা হজরত আলী (রা.)-কে বিষাক্ত তরবারি দিয়ে আঘাত করে। এর দুই দিন পর অর্থাৎ ২১ রমজান তিনি শাহাদত বরণ করেন। (ইমাম জাহাবি, তারিখুল ইসলাম, ৩/৬৪৮, দারুল কিতাব আল-আরাবি)
৮ হিজরির ২০ রমজান মহানবী (সা.) ১০ হাজার সাহাবি নিয়ে মক্কা বিজয় করেন। এদিন কাবা ঘর মূর্তিমুক্ত করা হয় এবং ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪২৭৬)
মক্কা বিজয়ের পর ৮ হিজরির ২৫ রমজান রাসুল (সা.)-এর নির্দেশে হজরত খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.) আরবের তৎকালীন সবচেয়ে প্রভাবশালী মূর্তি ‘উযযা’ ধ্বংস করেন। (ইবনে হিশাম, আস-সিরাহ আন-নাবাবিয়া, ৪/৪৩)
যদিও বিজোড় রাতগুলোতে কদর তালাশ করতে বলা হয়েছে, তবে অধিকাংশ আলেমের মতে, ২৭ রমজানের রাতে পূর্ণ কোরআন লাওহে মাহফুজ থেকে প্রথম আসমানে অবতীর্ণ করা হয় এবং রাসুল (সা.)-এর ওপর প্রথম ওহি নাজিল হয়। (সুরা কদর, আয়াত: ১-৩; তাফসিরে ইবনে কাসির, ৮/৪৪১)