১৭ রমজানকে বলা হয় ‘ইয়াওমুল ফুরকান’ বা সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী দিন। এই দিনে বদর যুদ্ধ সংঘটিত হয় এবং ইসলামের প্রথম কৌশলগত বিজয় অর্জন হয়।
এই দিনেই চতুর্থ খলিফা আলি ইবনে আবু তালিব (রা.) শহীদ হন এবং এর মধ্য দিয়ে সত্যপন্থী খলিফাদের প্রথম অধ্যায়রে সমাপ্তি ঘটে।
২ হিজরির ১৭ রমজান (৬২৪ খ্রিষ্টাব্দ) সংঘটিত হয় ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধ। এর মাধ্যমে মক্কার কোরাইশদের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া এবং মদিনার নতুন রাষ্ট্রের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার পদক্ষেপ সফল হয়। (ইবনে হিশাম, আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যা, ২/৪৫৫, ১৯৫৫)
এই যুদ্ধে ইবনে মুনজিরের পরামর্শে পানির কূপের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল মুসলমানরা এবং সা’দ ইবনে মুয়াজের পরামর্শে কমান্ড সেন্টার বা ‘আরিশ’ নির্মাণ করা হয়। (ইবনে কাসির, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৩/২৭০, ১৯৮৮)
এই যুদ্ধে আবু জাহেলসহ কোরাইশদের প্রধান নেতাদের পতন ঘটে এবং ইসলামের ভিত্তি সুসংহত হয়।
একদিকে মদিনায় বদরের বিজয় সংবাদ আসে, তখনই নবী-পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। নবীজির কন্যা রুকাইয়া (রা.) এই দিনে ইন্তেকাল করেন; যিনি ছিলেন এবং ওসমান ইবনে আফফানের স্ত্রী। (সুয়ুতি, তারিখুল খুলাফা, পৃষ্ঠা ১৫৫, ২০০৪)
স্ত্রী অসুস্থ থাকায় নবীজির নির্দেশে ওসমান (রা.) বদরের যুদ্ধে যেতে পারেননি। নবীজি (সা.) যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফেরার আগেই তাঁকে জান্নাতুল বাকিতে দাফন করা হয়।
৪০ হিজরির ১৭ রমজান (৬৬১ খ্রিষ্টাব্দ) কুফার মসজিদে ফজরের নামাজে সেজদারত অবস্থায় চতুর্থ খলিফা হজরত আলি ইবনে আবু তালিব (রা.) ঘাতকের আঘাতে আহত হন এবং পরে শাহাদত বরণ করেন । (ইমাম জাহাবি, সিয়ারু আলামিন নুবালা, ২/৩৯৩, ১৯৮৫)
তাঁর শাহাদতের মাধ্যমে ইসলামের সোনালী যুগ ‘খেলাফতে রাশেদা’র সমাপ্তি ঘটে এবং উমাইয়া শাসনের রাজতান্ত্রিক যুগের সূচনা হয়।
৪৯০ হিজরির ১৭ রমজান (১০৯৭ খ্রিষ্টাব্দ) জেরুসালেম বা পবিত্র কুদস এক রাজনৈতিক পরিবর্তনের সাক্ষী হয়। ফাতেমি উজির আফজল শাহানশাহ সেলজুকদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সুযোগ নিয়ে কুদস শহরটি পুনরায় ফাতেমিদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন । (ইবনে আসির, আল-কামিল ফিত তারিখ, ৮/১৮৮, ১৯৮৭)
ঐতিহাসিকদের মতে, এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সাম্প্রদায়িক বিভাজন মুসলিমদের এতটাই দুর্বল করে দেয় যে এর মাত্র দুই বছরের মাথায় ক্রুসেডাররা খুব সহজেই জেরুসালেম দখল করে নেয়। (ইবনে কাসির, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১২/১৫৫, ১৯৮৮)
৭০৯ হিজরির ১৭ রমজান (১৩১০ খ্রিষ্টাব্দ) মিসরের মামলুক সুলতান বাইবার্স আল-জাশনাকিরের শাসনের অবসান ঘটে। তাঁর মাত্র দেড় বছরের শাসনামল ছিল দুর্ভিক্ষ ও নীল নদের পানি স্বল্পতায় জর্জরিত।
জনগণ তাঁকে ‘দুর্ভাগ্যের প্রতীক’ মনে করত। শেষ পর্যন্ত তিনি ক্ষমতা ছেড়ে দেন এবং সুলতান নাসির মুহাম্মদ ইবনে কালাউন পুনরায় ক্ষমতায় আসীন হন । (ইবনে কাসির, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১৪/৫৫, ১৯৮৮)