ইতিহাসে ১৫ রমজান

হজরত হাসান (রা.)-এর জন্ম, আইন জালুত বিজয়

ইতিহাসের ১৫ রমজান দিনটি ঘটনাবহুল। একদিকে যেমন এই দিনে মহানবী (সা.)–এর দৌহিত্রের আগমনে ঘটে, তেমনি এটি বিশ্বকে মঙ্গোলদের হাত থেকে রক্ষার ঐতিহাসিক বিজয়ের সাক্ষী।

শান্তি, সার্বভৌমত্ব এবং প্রতিরোধের এক বিচিত্র সমন্বয় এই দিনটিকে মহিমান্বিত করেছে।

হাসান (রা.)-এর জন্ম

৩ হিজরির ১৫ রমজান (৬২৫ খ্রিষ্টাব্দ) মদিনার ঘরে ঘরে আনন্দের বার্তা বয়ে আনে। এই দিনে হজরত ফাতিমা ও আলি (রা.)-এর কোলজুড়ে আসেন ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম ব্যক্তিত্ব হাসান ইবনে আলি (রা.)। (ইবনে হিশাম, আস-সিরাতুন নাবাবিয়া, ৪/৪০৫, ১৯৫৫)

মহানবী (সা.) তাঁকে ‘আবু মুহাম্মদ’ উপাধি দেন এবং অত্যন্ত ভালোবাসতেন। নবীজি তাঁর সম্পর্কে বলেছিলেন, “নিশ্চয়ই আমার এই সন্তান একজন সরদার; আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে মুসলিমদের দুটি বিশাল দলের মধ্যে আপস করিয়ে দেবেন।”

এই বাণী সত্য হয়েছিল ৪১ হিজরিতে, যখন হাসান (রা.) মুসলিম উম্মাহর রক্তপাত বন্ধে মুয়াবিয়া (রা.)-এর অনুকূলে খেলাফত ত্যাগ করেন। (ইবনে কাসির, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৮/১৬, ১৯৮৮)

আইন জালুত বিজয়

৬৫৫ হিজরিতে বাগদাদ ধ্বংসের পর মঙ্গোলরা যখন ভাবছিল সমগ্র বিশ্ব তাদের পদানত হবে, তখন মিসরের মামলুকরা তাদের সামনে প্রাচীর হয়ে দাঁড়ায়।

৬৬৮ হিজরির ১৫ রমজান (১২৬০ খ্রিষ্টাব্দ) ফিলিস্তিনের ‘আইন জালুত’ নামক স্থানে সুলতান সাইফ উদ্দিন কুতুজের নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী মঙ্গোলদের পরাজিত করে। (ইবনে আসির, আল-কামিল ফিত তারিখ, ৯/১৪০, ১৯৮৭)

সুলতান কুতুজ ও তাঁর জেনারেল বাইবার্সের এই কৌশলগত বিজয় মঙ্গোলদের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দিয়েছিল। ফলে সমগ্র মানবসভ্যতা মঙ্গোলীয় ধ্বংসলীলা থেকে রক্ষা পায়। (ইবনে কাসির, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১৩/২২০, ১৯৮৮)

আব্দুর রহমান আদ-দাখিলের আন্দালুস প্রবেশ

১৩৮ হিজরির ১৫ রমজান (৭৫৬ খ্রিষ্টাব্দ) আব্বাসীয়দের হাত থেকে বেঁচে পালানো উমাইয়া রাজপরিবারের সদস্য আব্দুর রহমান আদ-দাখিল মরক্কো থেকে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে আন্দালুসে (স্পেন) প্রবেশ করেন। (ইমাম জাহাবি, সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৭/২৫০, ১৯৮৫)

২৬ বছর বয়সে তিনি কর্ডোভায় স্বাধীন উমাইয়া শাসন প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তী কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত ইউরোপে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সভ্যতার বাতিঘর ছিল।

আইয়ুবির সাফাদ কেল্লা জয়

৫৮৪ হিজরির ১৫ রমজান (১১৮৮ খ্রিষ্টাব্দ) সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুবি তাঁর ফিলিস্তিন পুনরুদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে দুর্ভেদ্য ‘সাফাদ’ কেল্লাটি ক্রুসেডারদের থেকে উদ্ধার করেন। (ইবনে কাসির, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১২/৩৮৫, ১৯৮৮)

এই বিজয় ফিলিস্তিনের উপকূলে মুসলিমদের অবস্থানকে আরও সুসংহত করেছিল এবং ক্রুসেডারদের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল।

ইব্রাহিমি মসজিদে গণহত্যা

১৪১৪ হিজরির ১৫ রমজান (২৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৪) ফিলিস্তিনের হেব্রনের পবিত্র ইব্রাহিমি মসজিদে ফজরের নামাজরত মুসুল্লিদের ওপর ইসরায়েলি সন্ত্রাসী বারুচ গোল্ডস্টাইন গুলি চালায়। এতে ২৯ জন মুসুল্লি শহীদ হন এবং আহত হন ১৫০ জনের বেশি।