রাজধানী বাকুর একটি ইফতার অনুষ্ঠান
রাজধানী বাকুর একটি ইফতার অনুষ্ঠান

দেশে দেশে ইফতার | আজারবাইজান

‘ল্যান্ড অব ফায়ার’ থেকে ইফতারের সুবাস

সোভিয়েত শাসনের দীর্ঘ সময় পার করার পরও আজারবাইজান তার মুসলিম পরিচয় এবং রমজানের ঐতিহ্যগুলোকে সগৌরবে টিকিয়ে রেখেছে। এখানকার রমজান মানে হলো একাধারে আধ্যাত্মিকতা, বীরত্ব এবং মুখরোচক সব খাবারের সমাহার।

রমজানের আগমনী উৎসব

আজারবাইজানে রমজানের প্রস্তুতি শুরু হয় শাবান মাসের মাঝামাঝি থেকেই।

রমজানের এক সপ্তাহ আগে থেকে তারা ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এটি কেবল খেলা নয়, বরং বীরত্ব ও পবিত্র মাসকে স্বাগত জানানোর এক প্রাচীন লোকজ রীতি।

এ সময় পাড়ার মানুষ মিলে মসজিদ এবং রাস্তাঘাট পরিষ্কার ও সুসজ্জিত করেন।

আজারি দোলমা, যা ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পেয়েছে

আতিথেয়তার বিশেষ নিয়ম

আজারবাইজানিদের একটি চমৎকার মানবিক অভ্যাস হলো—রমজানে যখনই কোনো পরিবার ইফতারের আয়োজন করে, তারা পরিবারের সদস্য সংখ্যার চেয়ে অন্তত একটি প্লেট বেশি সাজিয়ে রাখে।

যদি ইফতারের মুহূর্তে কোনো মুসাফির বা মেহমান দরজায় কড়া নাড়েন, তবে তাকে যেন বাড়তি আয়োজনের অপেক্ষায় থাকতে না হয়। এটি আজারবাইজানি আতিথেয়তার মূল দর্শন।

ইফতারের বিশেষ খাবার

আজারবাইজানের ইফতার টেবিল যেন এক ইতিহাসের পাতা। এখানকার জনপ্রিয় কিছু পদ হলো:

  • শাহ প্লোভ: একে বলা হয় ‘কিংস প্লোভ’। এটি মূলত জাফরান মিশ্রিত ভাতের সাথে ভেড়ার মাংস, কিশমিশ এবং খুবানি দিয়ে তৈরি এক রাজকীয় পোলাও, যা পাতলা রুটির (ফিলো পেস্ট্রি) আবরণে ঢাকা থাকে।

  • দোলমা: আঙুর পাতা বা টমেটো-বেগুনের ভেতরে মাংস ও চালের পুর দেওয়া এই খাবারটি এতটাই জনপ্রিয় যে এটি ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পেয়েছে।

  • পিটি: মাটির পাত্রে ৯ ঘণ্টা ধরে রান্না করা এক বিশেষ স্যুপ, যাতে থাকে ভেড়ার মাংস, ছোলা এবং জাফরান।

  • মিষ্টিমুখ: ইফতার শেষে থাকে ‘শেকারবুরা’ (বাদাম ও চিনির পুর দেওয়া পেস্ট্রি) এবং লেবু দিয়ে লিকার চা।

আজারি ইফতারের টেবিল

মানত পূরণের মাস

আজারবাইজানীদের একটি অনন্য রীতি হলো রমজান মাসে মানত পূরণ করা। সারা বছর কোনো সংকটে পড়ে যারা আল্লাহর কাছে কিছু চেয়েছেন, তারা রমজান মাসকেই বেছে নেন সেই মানত পূরণের জন্য।

তারা এ মাসে অতিরিক্ত দান-সদকা এবং ইবাদতের মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

রমজান ও সামাজিক সংহতি

বর্তমান প্রেক্ষাপটে আজারবাইজানের শহরগুলোতে ‘কমিউনিটি ইফতার’ বা পাড়া-ভিত্তিক সম্মিলিত ইফতারের দৃশ্য অনেক বেড়ে গেছে।

বাকু-র মতো আধুনিক শহরগুলোতে তরুণরা রাস্তায় রাস্তায় ইফতার বিতরণ করে, যা তাদের সামাজিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করছে।