‘মুহাম্মদ (সা.)-এর দৃষ্টান্ত হলো ভাগাড়ে গজিয়ে ওঠা খেজুরগাছের ন্যায়!’
পাঠক, বাক্যটি হৃদয়কে কী প্রচণ্ড আঘাতই না করে! তাই না? আনসারদের কতিপয় লোক নবীজির নিকট এসে নবীজিকে এ কথাই বললেন। তাঁরা বললেন, ‘আমরা আপনার জাতির কয়েকজনের কথা শুনলাম।’
এ কথার পরিপ্রেক্ষিতে নবীজি (সা.) কী উত্তর দিয়েছিলেন? ‘হে মানবমণ্ডলী! আমি কে’? তাঁরা বললেন, ‘আপনি আল্লাহর রাসুল (সা.)।’
তিনি বললেন, ‘আমি মুহাম্মদ ইবনে আবদিল্লাহ ইবনে আবদিল মুত্তালিব। আল্লাহ-তাআলা সব সৃষ্টিকে সৃষ্টি করেছেন, আর আমাকে বানিয়েছেন তাঁর সর্বোত্তম সৃষ্টি হিসেবে। সৃষ্টিকুলকে দুভাগে বিভক্ত করে আমাকে রেখেছেন সর্বোত্তম ভাগে; তারপর তিনি তাদের বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত করে আমাকে রেখেছেন সর্বোত্তম গোত্রে; তারপর তিনি তাঁদের বিভিন্ন গৃহে বিভক্ত করে আমাকে রেখেছেন সর্বোত্তম গৃহে। গৃহ বিবেচনায় আমি তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি, আবার ব্যক্তিসত্তার দিকে দিয়েও আমি তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩,৬০৭ ও ৩,৬০৮)
আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিবের একটি পুত্রসন্তান ভূমিষ্ঠ হয়েছে। তারা তার নাম রেখেছে মুহাম্মদ। লোকেরা কানাঘুষা শুরু করল এবং বলল, ইহুদির কথা শুনেছ? ওই নবজাতকের জন্মের সংবাদ পেয়েছ?
নবীজির বংশপরিচিতি এখানে লক্ষ্য নয়। হাদিসে নবীজির বংশের পবিত্রতার বিস্ময়কর তথ্য আছে। হিরাক্লিয়াস নবীজির বংশ কেমন জিজ্ঞেস করেছিলেন। ঘোর শত্রু আবু সুফিয়ানও বলেছিলেন, তিনি আমাদের মধ্যে উচ্চবংশীয়। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭)
আসআস ইবনে কায়েস বলতেন, ‘আমার নিকট যদি এমন কাউকে নিয়ে আসা হতো, যেকোনো কুরাইশি ব্যক্তিকে নাদর ইবনে কিনানা’র সন্তান নয় বলে আখ্যায়িত করেছে, আমি তাকে বেত্রাঘাতের শাস্তি না দিয়ে ছাড়তাম না।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২,৬১২)
এখানে আমাদের লক্ষ্য নবীজি (সা.) মক্কার যে গৃহে জন্মগ্রহণ করেছেন তার সন্ধান। গৃহ বিবেচনায় তিনি সর্বোত্তম ব্যক্তি আর ব্যক্তিসত্তার সর্বোত্তম!
সুবহানাল্লাহ। নবীজি (সা.)-এর জন্মের সময় নবীজির গৃহ কি মক্কার আলাপের মধ্যে ছিল? মক্কার উঁচু ভূমিতে যে গৃহে তিনি জন্ম নিয়েছিলেন, তা কেমন ছিল? আর কোন কোন গৃহে নবীজির (সা.) মাক্কি জীবন কেটেছিল?
প্রথমে নবীজি (সা.)-এর জন্মে মক্কার ঘরে ঘরে যে রব উঠেছিল, সে গল্পটা শুনি।
আয়েশা (রা.) বলেন, এক ইহুদি মক্কায় বসবাস করে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করত। রাসুলুল্লাহ (সা.) ভূমিষ্ঠ হওয়ার রাতে কোরাইশদের এক মজলিশে সে বলল, ‘হে কোরাইশ! আজ রাতে কি তোমাদের মধ্যে কোনো সন্তানের জন্ম হয়েছে? তারা বলল, আল্লাহর কসম! আমরা এটা জানি না।
ইহুদি বললেন, ‘আল্লাহু আকবার! তোমাদের অজ্ঞাতে ঘটলেও কোনো সমস্যা নেই। তবে তোমরা খোঁজ করে দেখো এবং যা বলছি স্মরণ রাখো। এ রাতে শেষ উম্মতের নবী ভূমিষ্ঠ হয়েছেন; তাঁর দুই কাঁধের মধ্যবর্তী স্থানে একটি চিহ্ন আছে; তাতে ঘোড়ার কেশরের মতো একগুচ্ছ চুল রয়েছে। দুই রাত তিনি দুধ পান করবেন না। কারণ, একটি দুষ্ট জিন তার মুখে আঙুল ঢুকিয়ে দিয়েছে। ফলে তাকে দুধ পান থেকে নিবৃত্ত রাখা হয়েছে।’
লোকজন মজলিশ ছেড়ে উঠে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তারা তার কথা ও গল্পে হতভম্ব-বিস্মৃত! ঘরে গিয়ে প্রত্যেকে তারা পরিবারের প্রত্যেকে শোনায়। সবাই বলে ওঠে: আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিবের একটি পুত্রসন্তান ভূমিষ্ঠ হয়েছে। তারা তার নাম রেখেছে মুহাম্মদ। লোকেরা কানাঘুষা শুরু করল এবং বলল, ইহুদির কথা শুনেছ? ওই নবজাতকের জন্মের সংবাদ পেয়েছ?
সবাই মিলে ইহুদির নিকট আসে এবং তাকে সংবাদটি পৌঁছায়! ইহুদিটি বলল: ‘তোমরা আমাকে নিয়ে চলো, আমি তাকে একটু দেখব।’
মানুষেরা চলল এবং তাকে নিয়ে আমিনার ঘরে প্রবেশ করল। সে বলল, ‘আপনার পুত্রটিকে একটু আমাদের দিন।’ অতঃপর আমিনা পুত্রকে বের করলেন। তারা তার পিঠের কাপড় উন্মুক্ত করলেন। ইহুদি নিদর্শনটি দেখতে পায় এবং সে অজ্ঞান হয়ে লুটিয়ে পড়ে।
তার জ্ঞান ফিরলে লোকেরা তাকে বলল: ‘তোমার ধ্বংস হোক! তোমার হয়েছে কী? ইহুদিটি বলল: ‘আল্লাহর শপথ! নবুয়ত বনি ইসরাইল থেকে বিদায় নিল! তোমরা আনন্দিত হও এতে, হে কুরাইশের দল! আল্লাহর শপথ, তোমাদের সহায়তায় তিনি এমন বিজয় লাভ করবেন যে প্রাচ্যে-প্রতীচ্যে যার সুসংবাদ ছড়িয়ে পড়বে।’ (মুসতাদরাক, হাদিস: ৪,২৩৩)
মক্কার উঁচু ভূমিতে যে গৃহে তিনি জন্ম নিয়েছিলেন, তা কেমন ছিল? কী তার ইতিহাস?
অন্তত নবীজি (সা.)-এর মাক্কি জীবনের সঙ্গে জড়িত ছিল:
এক. নবীজির জন্মগৃহ:
এটি নবীজির (সা.) পিতা আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিবের গৃহ। জননী আমিনা এ গৃহে অবস্থান করেছিলেন। সুবহে সাদিকের রোশনিকে প্রজ্বল করে দুহাতে গৃহের ভূমি ছুঁয়ে আকাশের দিকে শির উঁচু করে ধরায় এলেন নবীজি (সা.)। (মুসান্নাফ, হাদিস: ৯৭১৮)
অধিকাংশের মতানুযায়ী, বর্তমানে নবীজির (সা.) জন্মস্থান বলে পরিচিতি স্থানটিতে জন্মগ্রহণ করেন। ইবনে জোহাইরা এই মতকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, নবীজি (সা.)-এর জন্মস্থান সোকুল লাইলের (নৈশবাজার) পাশে অবস্থিত এবং এ নিয়ে মক্কাবাসীদের কোনো মতভেদ নেই। অতীত থেকে বর্তমান পর্যন্ত এটিই তাঁর জন্মস্থান বলে বিবেচিত হয়ে আসছে। (মক্কা শরিফের ইতিকথা)
বাদশাহ আবদুল আজিজের আমলে, এ ঘরের পুরোনো কাঠামো ভেঙে তা নতুন করে নির্মাণ করা হয় এবং এতে বড় এক পাবলিক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করা হয়। লাইব্রেরির নাম হচ্ছে ‘মক্কা লাইব্রের’।
নবীজি (সা.) মদিনায় হিজরত করার পর আকিল ইবনে আবি তালিব ওই ঘরটি মালিকানায় অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি আবু তালিবের দ্বিতীয় সন্তান। আবু তালিবের বড় পুত্র তালিব ‘আকিলের চেয়ে ১০ বছরের বড় ছিলেন। তিনি বদর যুদ্ধে কোরাইশদের পক্ষে অংশগ্রহণ করলেও কোনো এক কোরাইশ নেতার সঙ্গে বাদানুবাদের পরিপ্রেক্ষিতে মক্কায় ফিরে যান। (ইবনে হিশাম, ১/৬১৯)
কেউ বলছেন তিনি মক্কায় ফিরে যাননি; নিহতদের মধ্যে তার লাশ ছিল না। পরে তাঁর কোনো সন্ধানও পাওয়া যায়নি। তাঁর কোনো সন্তানাদিও ছিল না।’ (ইবনু সা’দ, ১/৯৭)
আকিল, আলী, উম্মে হানি ও জুমানাহ ইসলাম কবুল করেন।’ (রাহমাতুল্লিল আলামিন, ২/৭৫-৮৩)
দীর্ঘদিন ধরে ঘরটি তাঁর ও তাঁর সন্তানদের মালিকানায় থাকে। অবশেষে তাঁর সন্তানদের মধ্য থেকে একজন ওই ঘরটি হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফের সহোদর মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আস-সাকাফির কাছে বিক্রি করেন। পরে উম্মুল খলিফাতাইন খাইযুরান হজ করতে এসে ওই ঘরটিকে মসজিদে রূপান্তরিত করেন।
আল্লামা ফাসি শিফাউল গারাম গ্রন্থে লিখেছেন, এটি একটি খুঁটির ওপর একটি বর্গাকৃতির ঘর। এর ওপর দুটি ছোট মিনারা আছে। এর পশ্চিমে কোণ এবং এতে ১০টি জানালা আছে এবং একটি মেহরাব আছে। মেহরাবের কাছে একটি গর্তে কাঠের একটি খুঁটি আছে।
এর দ্বারা বোঝানো হয় যে ঘরের এই স্থানেই নবীজি (সা.) জন্মগ্রহণ করেছেন। ৫৭৬ হিজরিতে নাসের আব্বাসি এবং ৬৬৬ হিজরিতে বাদশাহ মুজাফফর ঘরটি পুনর্নির্মাণ করেন।
ইবনে জোবাইর তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্তে এই ঘরের যে বর্ণনা উল্লেখ করেছেন, তা আগের বর্ণনার বিপরীত। এর দ্বারা বোঝা যায় যে এই ঘরটি সব সময় একই অবস্থায় ছিল না।
বিভিন্ন সময় এর পুনর্নির্মাণ হয়েছে। বাদশাহ আবদুল আজিজের আমলে, এ ঘরের পুরোনো কাঠামো ভেঙে তা নতুন করে নির্মাণ করা হয় এবং এতে বড় এক পাবলিক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করা হয়। লাইব্রেরির নাম হচ্ছে ‘মক্কা লাইব্রের’। এতে বহু ইসলামি বই-পুস্তকের সমাহার ঘটানো হয়েছে এবং অধ্যয়নের উদ্দেশ্যে তা খোলা রাখা হয়। (মক্কা শরিফের ইতিকথা)
দুই. আবু তালিবের গৃহ
নবীজির (সা.) জন্মস্থানের নিকটবর্তী জায়গায় শি’আবে আবি তালিবে ঘরটি অবস্থিত। এ ঘরের সামনে লেখা ছিল: ‘এটি আমিরুল মুমিনিনের জন্মস্থান’। এই ঘরেই নবীজি (সা.)-এর প্রতিপালন হয়। উল্লেখ আছে, এ ঘরের দেয়ালে একটি পাথর আছে। ওই পাথরটি নবীজি (সা.)-এর সঙ্গে কথাবার্তা বলত।
হিজরি ৬০৮ সনে আহমদ নাসির লি-দীনিল্লাহ ওই ঘরটি পুনর্নির্মাণ করেন। সেখানে নিরক্ষরতা দূর করার উদ্দেশ্যে ‘মাদরাসাতুন নাজাহ’ নামক একটি নৈশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান করা হয়েছে এবং নতুন করে ঘরটি তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে ঘরটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। কেননা, শি’আবে আলী থেকে জাবালু আবি কুবাইসের নিচ দিয়ে মিনা অভিমুখী দুটি সুড়ঙ্গ তৈরি করায় শি’আবে আলীর সব বাড়িঘর ভেঙে ফেলা হয়েছে। (মক্কা শরিফের ইতিকথা)
তিন. খাদিজার গৃহ:
মক্কায় ‘বাইতু খাদিজা’ নামে তা বিখ্যাত ছিল। নবীজি (সা.)-এর সঙ্গে এ গৃহে খাদিজার (রা.) বিয়ে হয়। ফাতিমাসহ নবীজির (সা.) অন্য সব সন্তান এখানে জন্মগ্রহণ করেন। নবীজি (সা.) হিজরতে করার আগপর্যন্ত ওই ঘরেই বাস করতেন। তারপর আকিল ইবনে আবু তালিব ঘরটি মালিকানায় নেন। পরে মুয়াবিয়া (রা.) তাঁর থেকে ঘরটি কিনে এটিকে মসজিদ বানান এবং মানুষ এতে নামাজ পড়া শুরু করেন।
ইবনে জোহাইরাহ বলেন, মানুষ প্রত্যেক মঙ্গলবার রাতে এশা থেকে ফজর পর্যন্ত এ মসজিদে আল্লাহর জিকর ও ইবাদত করতেন। কয়েকটি কারণে এ ঘরটি মসজিদে হারামের পর মক্কার অন্য সব স্থান থেকে উত্তম বলে বিবেচিত। এতে নবীজি (সা.) বাস করেছেন; অনেক ওহি এ ঘরে নাজিল হয়েছে; ফাতিমা (রা.) এ ঘরে জন্মগ্রহণ করেছেন।
‘হে আল্লাহর রাসুল! আপনি কি মক্কায় আপনার বাড়িতে অবস্থান করবেন? (নবীজি) বলেন, ‘আকিল কি আমাদের জন্য কোনো চারদেয়াল বা ঘরবাড়ি অবশিষ্ট রেখেছে?
ঘরটির দৈর্ঘ্য পাঁচ হাতের কিছু কম। ঘরের ভেতর কূপের মতো প্রশস্ত মুখবিশিষ্ট গোলাকৃতির একটি জায়গা আছে। স্থানটির দৈর্ঘ্য এক হাত এবং প্রস্থও এক হাত। এর মধ্যভাগে একটি কালো পাথর আছে। বাদশাহ আশরাফের আমলে, নাসির আব্বাসী ওই ঘরটি নির্মাণ করেন। এই ঘরের সঙ্গে কুব্বাতুল ওহি বা ওহির গম্বুজ নামক একটি জায়গা অবস্থিত ছিল। সঙ্গে আরও একটি জায়গা সংযুক্ত ছিল। সেটির নাম ছিল ‘আল-মুখতাবা’ বা লুকানোর স্থান।
মক্কার মুশরিকদের ইটপাথর বর্ষণের সময় নবীজি (সা.) এ স্থানে আত্মগোপন করতেন। ইয়েমেনের বাদশাহ মুজাফফর ‘কুব্বাতুল ওহি’ নির্মাণ করেন। অবশেষে বাদশাহ আবদুল আজিজের আমলে মক্কা পৌরসভার মেয়র শেখ আব্বাস কাত্তান ঘরটি পুনর্নির্মাণ করেন এবং এতে হাফিজি মাদ্রাসা চালু করেন। ঘরটি গাজ্যা বাজারের স্বর্ণের মার্কেটের ভেতর অবস্থিত। বর্তমানে তা ভেঙে ফেলা হয়েছে। (মক্কা শরিফের ইতিকথা)
এ ছাড়া নবীজির মাক্কি জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আরও কয়েকটি গৃহ।
আবু সুফিয়ানের গৃহ:
খাদিজার ঘরের কাছেই ছিল আবু সুফিয়ানের ঘর। সেখানে বর্তমানে আল-কাব্বান হাসপাতাল অবস্থিত। এর বিপরীতেই মসজিদুল হারামের বাবুন্নবী। নবীজি (সা.) মক্কা বিজয়ের সময় এ গৃহটিকে সম্মানিত করেছেন।
আবু জাহলের গৃহ:
মসজিদুল হারামের উত্তর-পূর্ব দিকে এবং আবু সুফিয়ানের বাড়ির কাছেই ছিল আবু জাহলের বাড়ি। বর্তমানে টয়লেট ও অজুখানা নির্মাণ করা হয়েছে। ঘরটিকে আল্লাহ কিয়ামত পর্যন্ত অপমানিত করে রেখেছেন। মা’আযাল্লাহ।
হামজার গৃহ:
নবীজি (সা.)-এর চাচা হামজার ঘর ছিল মসজিদুল হারামের দক্ষিণে আধা কিলোমিটার দূরে মেসফালায়। সেখানে একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। (মক্কা শরিফের ইতিকথা)
আবু বকরের গৃহ:
মক্কার নিচু ভূমির শুরুতেই আবু বকরের (রা.) বাড়ি ছিল। নবীজি (সা.)-এর প্রতিদিন সকাল কিংবা সন্ধ্যায় অন্তত একবার ওই গৃহে আসতেন। বর্তমানে সেখানে হিলটন হোটেল নির্মিত হয়েছে। তবে তাতে আবু বকরের (রা.) স্মৃতিস্বরূপ একটি মসজিদ আছে।
মক্কার উঁচু-নিচু ভূমিতে আরও কত গৃহ ছিল। কতেক উত্তম গৃহ ছিল! কতেক নিকৃষ্ট গৃহ ছিল! কত গৃহে নবীজির (সা.) ওঠাবসা ছিল। এ গৃহে হাবশা আগত ধাত্রী উম্মু আইমান কতকাল আগে উপস্থিতি হয়ে গিয়েছিল! এখানে গোপনে কত আবু যরেরা আসত! এটাই তো অসহায় যায়িদের আশ্রয়!
মক্কার সেই সর্বোত্তম গৃহ! হে নবীগৃহ! তোমাকে ভালোবাসি। নবীজির (সা.) হৃদয়ে তোমার বেদনা ছিল! জীবনের শেষ প্রান্তে বিদায় হজের সময় ছোট্ট উসামার (রা.) প্রশ্ন আর নবীজির উত্তর লেখকের চোখেও অশ্রুর প্রবাহ তৈরি করে দেয়:
‘হে আল্লাহর রাসুল! আপনি কি মক্কায় আপনার বাড়িতে অবস্থান করবেন? (নবীজি) বলেন, ‘আকিল কি আমাদের জন্য কোনো চারদেয়াল বা ঘরবাড়ি অবশিষ্ট রেখেছে?’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৩১৮৫)
ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক : অধ্যাপক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়