সাফল্য কেবল পরিশ্রমের ফল নয়, বরং পরিশ্রমের সঙ্গে ধৈর্যের এক চমৎকার সমন্বয়। জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাত আমাদের থমকে দিতে চায়, কিন্তু পবিত্র কোরআন আমাদের শেখায় কীভাবে ধৈর্যের মাধ্যমে প্রতিকূলতা জয় করে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো যায়।
সাফল্যের এই দীর্ঘ পথ চলায় ১০টি আয়াত হতে পারে আমাদের আলোকবর্তিকা:
যেকোনো সংকটে যখন আমরা ধৈর্য ধরি, তখন স্বয়ং স্রষ্টা আমাদের পাশে থাকেন। এর চেয়ে বড় আশার বাণী আর হতে পারে না।
উচ্চারণ: ইন্নাল্লাহা মা'আস সাবিরীন।
অর্থ: নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন। (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৫৩)
সাফল্যের পথ কুসুমাস্তীর্ণ নয়। পরীক্ষা যত কঠিন হয়, তার পুরস্কারও তত বড় হয়।
উচ্চারণ: ফাসবির সাবরান জামীলা।
অর্থ: অতএব তুমি সুন্দর ধৈর্য ধারণ করো। (সুরা মাআরিজ, আয়াত: ৫)
কেবল ভাগ্যের দোহাই দিয়ে বসে থাকলে চলে না। নিজের অবস্থা পরিবর্তনের জন্য আগে নিজেকেই উদ্যোগী হতে হয়।
উচ্চারণ: ইন্নাল্লাহা লা ইয়ুগাইয়্যিরু মা বি-কাওমিন হাত্তা ইয়ুগাইয়্যিরু মা বি-আনফুসিহিম।
অর্থ: নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেরা নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে। (সুরা রা’দ, আয়াত: ১১)
পার্থিব জীবনের ছোট ছোট জয়-পরাজয়ই শেষ কথা নয়; প্রকৃত সাফল্য হলো পরকালীন মুক্তি।
উচ্চারণ: ফামান যুহযিহা আনিন নারি ওয়া উদখিলাল জান্নাতা ফাকাদ ফাযা।
অর্থ: যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, সেই সফলকাম হবে। (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৮৫)
লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকতে হয়। যারা শত বাধাতেও পিছপা হয় না, জয় তাদেরই হয়।
উচ্চারণ: ইন্নাল্লাযিনা কালু রাব্বুনাল্লাহু ছুম্মাস তাকামু।
অর্থ: যারা বলে আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ, অতঃপর তারা তাতে অবিচল থাকে। (সুরা ফুসসিলাত, আয়াত: ৩০)
কখনো কখনো আমরা যা অপছন্দ করি, তার মাঝেই হয়তো আমাদের জন্য বড় কোনো কল্যাণ লুকিয়ে থাকে।
উচ্চারণ: ওয়া আসা আন তাকরাহূ শাইআঁও ওয়া হুওয়া খাইরুল লাকুম।
অর্থ: হতে পারে কোনো একটি বিষয় তোমরা অপছন্দ করছ, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। (সুরা বাকারা, আয়াত: ২১৬)
অসত্য বা অন্ধকার যত শক্তিশালীই মনে হোক না কেন, সত্যের আলোর সামনে তা একদিন বিলীন হবেই।
উচ্চারণ: জাআল হাক্কু ওয়া যাহাকাল বাতিল; ইন্নাল বাতিলা কানা যাহূকা।
অর্থ: সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে; নিশ্চয়ই মিথ্যা বিলুপ্ত হওয়ারই বিষয়। (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত: ৮১)
সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছে যারা স্রষ্টাকে ভুলে যায় না এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, তাদের নেয়ামত আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়।
উচ্চারণ: লা ইন শাকারতুম লা আযীদান্নাকুম।
অর্থ: যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের নেয়ামত বাড়িয়ে দেব। (সুরা ইবরাহিম, আয়াত: ৭)
কেবল সম্পদ বা আভিজাত্য নয়, বরং নেক কাজ এবং বিশ্বাসের মাধ্যমেই একজন মানুষ শ্রেষ্ঠত্বের আসনে বসতে পারে।
উচ্চারণ: ওয়াল আসর; ইন্নাল ইনসানা লাফী খুসর; ইল্লাল্লাযিনা আমানূ ওয়া আমিলুস সালিহাত।
অর্থ: মহাকালের শপথ! নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতির মধ্যে রয়েছে; কিন্তু তারা নয় যারা ইমান এনেছে ও সৎ কাজ করেছে। (সুরা আসর, আয়াত: ১-৩)
যারা ধৈর্য ধরে এবং সৎ পথে লড়াই করে, স্রষ্টা তাদের প্রাপ্য প্রতিদান কখনোই নষ্ট করেন না।
উচ্চারণ: ইন্নি লা উদীয়ু আমালা আমিলিম মিনকুম মিন যাকারিন আও উনছা।
অর্থ: আমি তোমাদের কোনো কর্মীর কাজই নষ্ট করি না, সে পুরুষ হোক বা নারী। (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৯৫)
জীবনে সফল হতে হলে পরিশ্রমের পাশাপাশি মানসিক দৃঢ়তা ও আধ্যাত্মিক প্রশান্তি প্রয়োজন। কোরআনের এই শিক্ষাগুলো আমাদের সেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহস জোগাবে।