আজ ৩ নভেম্বর ‘ওয়ান হেলথ’ বা এক স্বাস্থ্য দিবস। ওয়ান হেলথ বাংলাদেশসহ চার প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে গোলটেবিলের আয়োজন।

মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশের স্বাস্থ্যের সংযোগের মাধ্যমে ‘এক স্বাস্থ্য’ বা ওয়ান হেলথ বিষয়টি এখনো পেশাজীবীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। একে জনগণের কাছে নিয়ে যেতে হবে। স্বাস্থ্য রক্ষায় মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে। এ ছাড়া বাজেটে এক স্বাস্থ্যের বিষয়টি আলাদা উল্লেখ থাকার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে এসেছে বিশেষজ্ঞদের আলোচনায়।
আজ ৩ নভেম্বর ‘ওয়ান হেলথ’ দিবস। এ উপলক্ষে ওয়ান হেলথ বাংলাদেশ, ওয়ান হেলথ সেক্রেটারিয়েট, ইউএসএআইডির স্টপ স্পিলওভার প্রকল্প ও প্রথম আলোর উদ্যোগে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে ‘ওয়ান হেলথ দিবস: পরবর্তী যেকোনো মহামারি প্রতিরোধে আগাম প্রস্তুতি’ শীর্ষক গোলটেবিল অনুষ্ঠিত হয়।
গোলটেবিলে এক স্বাস্থ্যের বিষয়ে ওয়ান হেলথ বাংলাদেশের ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেটর নীতীশ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, এক স্বাস্থ্য হচ্ছে একটি যৌথ ও সমন্বিত স্বাস্থ্য কার্যক্রম। মানুষের, প্রাণীর এবং পরিবেশের স্বাস্থ্যের সংযোগ ও পরস্পর নির্ভরতার ওপর এ স্বাস্থ্য কার্যক্রম গড়ে উঠেছে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে স্বাস্থ্যের একটি টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তোলা। যেখানে প্রাণী ও পরিবেশের স্বাস্থ্যকে রক্ষা করে উন্নত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়।
আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা বলেন, পলিসি পর্যায়ে এক স্বাস্থ্যের বিষয়টি পরিচিত। জনগণকে সম্পৃক্ত করার জায়গায় পিছিয়ে। সেখানে কাজ করতে হবে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহজাদা বলেন, সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করতে পারলে বিভিন্ন ধরনের রোগের প্রাদুর্ভাবকে মোকাবিলা করা যায়। কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করতে বিশেষজ্ঞদের পাশে রেখে স্থানীয় নেতাদের কাজে লাগাতে হবে।
এক স্বাস্থ্য নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন আইইডিসিআরের পরিচালক তাহমিনা শিরিন। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ের পাশাপাশি রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ে কাজ এবং তথ্য বিনিময়ে একযোগে কাজ করতে হবে। তবে সরকার তথ্য বিনিময়ের কাজ শুরু করছে বলে জানান তিনি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইন ডাইরেক্টর (সিডিসি) মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, এক স্বাস্থ্যের ধারণা দেশে নতুন নয়। কিন্তু এটা এখনো মানুষের আগ্রহ তৈরি করেনি। তৃণমূলে পৌঁছাতে হবে। এই করোনায় এর গুরুত্ব বোঝা গেছে। তবে বাংলাদেশ কাজ শুরু করেছে এবং প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
প্রাণী, পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্যের নজরদারিকে সমন্বিত করার জন্য তথ্য বিনিময়ের কাজ শুরু করার কথা বলেন রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা মুশতাক হোসেন। তিনি বলেন, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পেলে স্বাস্থ্য নিরাপত্তার উন্নয়নের ওপর নজরদারি বন্ধ হয়ে যায়। সরকারের বাজেট থেকে যদি স্বাস্থ্যের নিরাপত্তার ও নজরদারির জন্য বাজেট না থাকে, তবে বিদেশের প্রয়োজনে তথ্য সংগ্রহ হবে কিন্তু দেশের যে লক্ষ্য, তা পূরণ হবে না।
আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক মাহমুদুর রহমান বলেন, এক স্বাস্থ্য নিয়ে স্ট্র্যাটেজি তৈরি করে রেখে দিলে হবে না, সেগুলো অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্যবিষয়ক কার্যক্রমে এক স্বাস্থ্যকে যেন স্বাভাবিকভাবেই অন্তর্ভুক্ত থাকে, এমনভাবে ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
ইউএসএআইডির বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ মো. আবুল কালাম বলেন, এককভাবে কোনো দেশ এক স্বাস্থ্য নিয়ে এগোতে পারবে না। এক দেশের সঙ্গে অন্য দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। যেকোনো রোগের প্রাদুর্ভাবের আগেই তা শনাক্ত করতে পারতে হবে। এর জন্য সক্ষমতাও বাড়ানো প্রয়োজন।
গোলটেবিলে আরও শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বন অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান বন সংরক্ষক ইশতিয়াক আহমেদ, ওয়ান হেলথ বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক এম সেলিম উজ্জামান, প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম। বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন ওয়ান হেলথ বাংলাদেশের ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেটর নীতীশ চন্দ্র দেবনাথ ও প্রথম আলোর সহকারী সম্পাদক ফিরোজ চৌধুরী।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন আইসিডিডিআরবির সহযোগী বিজ্ঞানী ও ইনফেকশাস ডিজিজেস ডিভিশনের প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর এবং ইউএসএআইডির স্টপ স্পিলওভার প্রোজেক্টের বাংলাদেশ টিম লিড নাদিয়া আলী রিমি।