
থাইরয়েড টাস্কফোর্স, বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি ও প্রথম আলোর আয়োজনে ‘থাইরয়েডজনিত রোগ: বাংলাদেশে বর্তমান পরিস্থিতি ও করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ১৪ আক্টোবর ২০২১। নুভিস্তা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড এই উদ্যোগের সায়েন্টিফিক পার্টনার। গোলটেবিল আলোচনার বক্তব্য সংক্ষিপ্ত আকারে এই ক্রোড়পত্রে ছাপা হলো।
অংশগ্রহণকারী
অধ্যাপক মো. ফারুক পাঠান
সভাপতি, বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি অধ্যাপক, এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ, বারডেম হাসপাতাল
অধ্যাপক এস এম আশরাফুজ্জামান
সহসভাপতি, বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি অধ্যাপক, এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ, বারডেম হাসপাতাল
অধ্যাপক রোবেদ আমিন
লাইন ডিরেক্টর, নন–কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল (এনসিডিসি), স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
ডা. শাহজাদা সেলিম
সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি
সহযোগী অধ্যাপক, এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)
ডা. ফারিয়া আফসানা
আহ্বায়ক, বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি সহকারী অধ্যাপক, বারডেম হাসপাতাল
ডা. এম সাইফুদ্দিন
যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি
সহযোগী অধ্যাপক, ঢাকা মেডিকেল কলেজ
অধ্যাপক ফারহানা দেওয়ান
প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট, অবস্টেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ (ওজিএসবি)
অধ্যাপক সুরাইয়া বেগম
ইউনিট প্রধান, এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
সালেহা বেগম নীলা
সহকারী জেনারেল ম্যানেজার, মার্কেটিং
নুভিস্তা ফার্মা লিমিটেড
সূচনা বক্তব্য
আব্দুল কাইয়ুম
সহযোগী সম্পাদক, প্রথম আলো
সঞ্চালনা
ফিরোজ চৌধুরী
সহকারী সম্পাদক, প্রথম আলো
সুপারিশ
■ শিশুর জন্মের পর থাইরয়েড পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকা উচিত। তাহলে শিশু এ সমস্যা থেকে মুক্ত থাকতে পারবে।
■ থাইরয়েড প্রতিক্রিয়া ধীরে ধীরে হয় বলে ৫০ শতাংশের বেশি রোগী পরীক্ষার বাইরে থেকে যায়। এদের পরীক্ষা করা জরুরি।
■ আয়োডিন মাপার ওপর জোর দিতে হবে। আয়োডিন ঘাটতি কোথায় বেশি, কোথায় কম—এ বিষয়ে গবেষণা করতে হবে।
■ মেধাবী ও শারীরিকভাবে সুস্থ মানুষের সমাজ গঠনে প্রত্যেকের পরিমিত আয়োডিন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
■ গর্ভবতী নারীদের সবারই থাইরয়েড হরমোন পরীক্ষা করে নিতে হবে।
■ সঠিক সময়ে পরীক্ষা করে চিকিৎসা করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে থাইরয়েড সমস্যা প্রতিরোধ করা যায়।
■ কী লক্ষণ হলে একজন মনে করবেন যে তাঁর থাইরয়েড সমস্যা আছে, এটা জানা থাকা জরুরি।
■ বিভিন্ন গণমাধ্যমে থাইরয়েড হরমোনজনিত সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করা উচিত।
■ উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্স ও কমিউনিটি ক্লিনিকে থাইরয়েড সমস্যা কীভাবে যুক্ত করা যায়, সেটা ভাবতে হবে।
■ পরিচালক এনসিডিসি, উপজেলা হেলথ কেয়ার অপারেশন প্ল্যান ও কমিউনিটি ক্লিনিকের অপারেশন প্ল্যান একসঙ্গে কাজ করলে সমস্যা নিরসন সম্ভব হবে।
■ গর্ভাবস্থায় থাইরয়েডের ওষুধ খেলে কোনো অসুবিধা নেই, কিন্তু থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে তা না জেনে গর্ভধারণ করলে সন্তানের জন্মগত ত্রুটি হতে পারে।
আলোচনা
আব্দুল কাইয়ুম
থাইরয়েডের ব্যাপারে সবাই সচেতন নয়। খাদ্য থেকে সেলের মাধ্যমে শক্তি উৎপন্ন হয়। সেই শক্তি দিয়ে আমরা যাবতীয় কাজ করি। কিন্তু থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে অনেক সময় কম বা বেশি হরমোন বের হয়। এ জন্য শরীরে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে কী করণীয়, সে বিষয়গুলো আলোচনায় আসবে। আয়োডিনের অভাব হলে আয়োডিনযুক্ত লবণ ও শাকসবজি থেকে আয়োডিন পেতে পারি। অনেক সময় গলগণ্ড হয়। এটাকে আমরা অবহেলা করি। এটাও থাইরয়েডের সমস্যা। এরও চিকিৎসা আছে। আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসাব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
হরমোনের ভারসাম্য না থাকলে ডায়াবেটিস হয়। ডায়াবেটিসের জন্য কিন্তু আমরা চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছি। থাইরয়েড হরমোনের সমস্যার জন্যও আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসাব্যবস্থা দরকার। থাইরয়েডের জন্য আমাদের যে ক্ষতি হচ্ছে, সেটা হবে না। আবার শিশুর জন্মের পর থাইরয়েড পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকা উচিত। তাহলে শিশুর কোনো সমস্যা থাকলে সেটারও একটা ব্যবস্থা হবে। আজকের আলোচনায় এসব বিষয় আসবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এখান থেকে করণীয় ঠিক করতে পারবেন বলে আশা করি।
মো. ফারুক পাঠান
থাইরয়েড সমস্যা নিয়ে কেন আজকের আলোচনা, সেটা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। হরমোনজনিত রোগের ক্ষেত্রে সবাই ডায়াবেটিস নিয়ে চিন্তা করে। ডায়াবেটিসের রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। এ ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মানুষের মধ্যে সচেতনতাও সৃষ্টি হচ্ছে। থাইরয়েড সমস্যা নিয়ে আলোচনা খুব কম হয়। বিষয়টি খুব বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে কোনো গবেষণা বা দেশের কতসংখ্যক মানুষ থাইরয়েড সমস্যায় ভুগছে, এর সঠিক সংখ্যা জানা যাচ্ছে না। বর্তমানে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা ২৫ শতাংশ। এটা খুব ভয়াবহ। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশে প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ থাইরয়েড সমস্যায় ভুগছে। ২০০৬ সালের খুলনা এলাকার এক তথ্য থেকে দেখা যায়, ২০ শতাংশ মানুষের থাইরয়েড সমস্যা আছে। সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও ধারণা করছি ৩০ শতাংশ মানুষ থাইরয়েড সমস্যায় ভুগছে। মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাবে থাইরয়েডের রোগী চিকিৎসকের কাছে কম আসে। প্রতিক্রিয়াটা ধীরে ধীরে হয় বলে প্রায় ৫০ শতাংশের বেশি থাইরয়েডের রোগী পরীক্ষার বাইরে থেকে যায়। এদের পরীক্ষা করা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে মনে করি। কেন আমরা এটা নিয়ে চিন্তা করছি। মাতৃগর্ভ থেকেই শিশুর থাইরয়েড গ্রন্থি তৈরি হয়। যদি মাতৃগর্ভে শিশুর থাইরয়েড গ্রন্থি সঠিকভাবে তৈরি না হয়, তাহলে সে পৃথিবীতে শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে আসবে। গর্ভধারণের আগেই থাইরয়েড সমস্যা পরীক্ষা করা দরকার। পরিণত বয়সেও এ রোগের প্রকোপ যথেষ্ট আছে। এ বিষয় নিয়ে শুধু আলোচনা করলেই হবে না। বিশেষজ্ঞ আলোচক যাঁরা আছেন, তাঁদের সঙ্গে সরকারের বিশেষ ভূমিকা আছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গে অংশীদার হিসেবে আমরা কাজ করতে চাই। সরকারের সহযোগিতা ছাড়া কোনো কাজ করা সম্ভব নয়। আমরা সরকারের প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। তিনি এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেবেন বলে আশা করি। অমাদের কাজ হলো সচেতনতা তৈরি করা, মানুষকে জানানো।
এস এম আশরাফুজ্জামান
প্রতিবছরের ২৫ মে বিশ্ব থাইরয়েড দিবস পালন করা হয়। এটা নিয়ে সারা বিশ্বে সপ্তাহ, মাস ও বছরব্যাপী কর্মসূচি হয়। বাংলাদেশও প্রতিবছর ২৫ মে থাইরয়েড দিবস পালন করে। এত দিন আমরা অধ্যাপক ফারুক পাঠানের নেতৃত্বে এ ক্ষেত্রে কাজ করেছি। ডায়াবেটিস নিয়ে অনেক সমিতি–সংগঠন কাজ করে। কিন্তু থাইরয়েড নিয়ে তেমনভাবে কাজ হচ্ছে না। এ বিষয়ে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
থাইরয়েড কী অবস্থায় আছে, সেটা জানা যেমন প্রয়োজন, তেমনি থাইরয়েডজনিত রোগ প্রতিকারের জন্য উদ্যোগ নেওয়া দরকার। ১৯৯০ সালের প্রথম দিকে বাংলাদেশ সরকার প্রথম অনুধাবন করে যে উত্তরবঙ্গে আয়োডিনের অভাবে মানুষের সমস্যা হচ্ছে। তখন থেকে আয়োডিন নিয়ে চিন্তা হয়। শুরু হয় আয়োডিনের ফর্টিফিকেশন। লবণে আয়োডিনের ফর্টিফিকেশন প্রায় বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর পর থেকে থাইরয়েড রোগের প্রবণতা অনেক কমে এসেছে। এ জন্য বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির পক্ষ থেকে সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।
এই উদ্যোগকে আরও ত্বরান্বিত ও গতিশীল করার সুযোগ আছে। থাইরয়েড রোগী আইডেন্টিফিকেশনে আমাদের আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। থাইরয়েড রোগের অনেক কারণের মধ্যে একটা হলো আয়োডিনের ঘাটতি। মাতৃগর্ভ থেকেই আয়োডিনের ঘাটতি শুরু হয়। পরবর্তীকালে আরও বিভিন্ন কারণে আয়োডিনের ঘাটতি হয়। সামুদ্রিক মাছ, ফলমূল, শাকসবজিসহ বিভিন্ন খাদ্য থেকে আমরা আয়োডিন গ্রহণ করে থাকি। সবচেয়ে বেশি আয়োডিন পাই পানি, মাটির নিচের শাকসবজি ও আয়োডিনযুক্ত লবণ থেকে। পৃথিবীর তিন ভাগের এক ভাগ মানুষের এখনো আয়োডিনের ঘাটতি রয়েছে। কোনো এলাকায় এটা অনেক বেশি, কোথাও মধ্যম, কোথাও কম। ভারতে এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০ বছরের নিচে যাদের বয়স, তাদের ইউরিন টেস্টে ৩০ শতাংশ আয়োডিনের ঘাটতি। এটা হলো সর্বনিম্ন মাত্রায় আয়োডিনের ঘাটতি। আর বেশি মাত্রায় আয়োডিনের ঘাটতি আছে প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষের। আমাদের অনেক দূরে যেতে হবে। এটা যে শুধু হরমোনের রোগ, তা নয়। সাধারণ গয়টার থেকে এটা হতে পারে। গলা ফুলে যায়। ভেতরে টিউমার হয়। ক্যানসারও হতে পারে। আবার অনেকের হরমোনের রোগ হতে পারে। হরমোন কারও কমে যায়, আবার কারও বেড়ে যায়।
১০ থেকে ৩০ শতাংশ লোকের কোনো না কোনোভাবে আয়োডিনের সমস্যা থাকে। এটা ডায়াবেটিস থেকে কম নয়। এখন থাইরয়েড নিয়ে অনেক কাজ করতে হবে। আয়োডিন মাপার ওপর জোর দিতে হবে। আয়োডিনের ঘাটতি কোথায় বেশি, কোথায় কম—এসব বিষয়ে গবেষণা করতে হবে। শরীরে আয়োডিন বেশি হলে সমস্যা, আবার কম হলেও সমস্যা। এগুলো সবই বিজ্ঞান। এখন আর অন্ধকারে ঢিল মারার সুযোগ নেই। রোগনির্ণয়ের ওপর জোর দিতে হবে। প্রতিরোধের ওপর জোর দিতে হবে। এর সুচিকিৎসার জন্য আরও মানবসম্পদ তৈরি করতে হবে।
শাহজাদা সেলিম
বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি থেকে আজ যে কাজ শুরু হলো, এটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সারা দেশের মানুষকে যুক্ত করে এখনো কোনো গবেষণা হয়নি যে কত মানুষের থাইরয়েড সমস্যা আছে। ভারতের কলকাতায় মোট জনসংখ্যার ২০ থেকে ৩০ শতাংশ থাইরয়েড সমস্যায় আক্রান্ত। যুক্তরাষ্ট্রে এখনো দুই কোটির বেশি মানুষ থাইরয়েড সমস্যায় আক্রান্ত। তারপরও যুক্তরাষ্ট্রে এখনো ৬০ শতাংশ রোগী শনাক্ত হয়নি। ডায়াবেটিসে ৫৭ শতাংশ শনাক্ত হয়নি। এ থেকে থাইরয়েডের অবস্থা বোঝা যায়। আমরা যা দেখছি, তা বাইরে থেকে একটা ক্ষুদ্র অংশকে দেখছি। আমরা যদি সব দেশকে যুক্ত করি, এখানে কিন্তু সমুদ্রের সঙ্গে নৈকট্যের বা পাহাড়ের সঙ্গে দূরত্বের একটা সম্পর্ক আছে। আমরা জানি, বাংলাদেশের সমুদ্র থেকে যত উত্তর দিকে যেতে থাকি, তত আয়োডিনের পরিমাণ কমতে থাকে। বিশ্বে ৭০ কোটির বেশি মানুষ থাইরয়েড সমস্যায় আক্রান্ত। শুধু চীনেই ১৩ কোটির বেশি মানুষ আক্রান্ত থাইরয়েড রোগে। ভারতে আক্রান্ত সাত থেকে আট কোটি মানুষ।
আমরা ধারণা করছি, বাংলাদেশে চার কোটির বেশি মানুষ থাইরয়েড সমস্যায় আক্রান্ত। নবজাতক, শিশু-কিশোর, যুবক–যুবতী সবার মধ্যে আয়োডিনের ঘাটতি আছে। গড়ে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ মানুষের আয়োডিনের সমস্যা আছে। পরমাণু শক্তি কমিশনের এক গবেষণা থেকে জানা যায়, প্রতি ১ হাজার ২০০ জীবন্ত শিশুর মধ্যে ১ জন কঞ্জেনিটাল হাইপোথাইরয়েডিজমে আক্রান্ত। পৃথিবীর অন্যান্য দেশে কোথাও ২ হাজারে ১ জন, কোথাও ৩ হাজারে ১ জন। সে তুলনায় বাংলাদেশে অনেক বেশি। আরেকটি খুব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিচ্ছি, আমরা সম্প্রতি একটি গবেষণা সদ্য সমাপ্ত করেছি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গাইনি বিভাগে যেসব নারী প্রসবের জন্য এসেছেন, তাঁরা জানেন, তাঁদের থাইরয়েডের সমস্যা নেই। তাঁদের মধ্যে দেখা গেল, ৮ দশমিক ৬ শতাংশ হাইপোথাইরয়েডিজমে আক্রান্ত। তাঁরা কখনোই কোনো চিকিৎসকের কাছে যাননি ও তাঁদের কোনো পরীক্ষা করা হয়নি। এর ফল খারাপ হতে পারে। যেমন মা ও শিশু—দুজনেরই ক্ষতি হতে পারে। গর্ভধারণের ১২ সপ্তাহের মধ্যে ওই নবজাতকের বুদ্ধিবৃত্তিক ও শারীরিক কাঠামোর একটা ধস নেমেছে, যা পরবর্তী সময়ে কোনোভাবেই আমরা সংশোধন করতে পারব না। আমরা মেধাবী ও শারীরিকভাবে সুস্থ–সুন্দর মানুষের একটি সমাজ চাই। এটা নিশ্চিত করতে হলে আমাদের সবার থাইরয়েড ফাংশন ভালো থাকতে হবে।
আমরা এখানে ইউথাইরয়েড বলতে বোঝাচ্ছি থাইরয়েড ফাংশন ঠিক আছে। হাইপারথাইরয়েডিজমও নয় আবার হাইপোথাইরয়েডিজমও নয়, সঠিক মাত্রায় থাইরয়েড হরমোন শরীরে থাকতে হবে। আমরা সবার জন্য এটি চাই। এ জন্যই বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি এই উদ্যোগ নিয়েছে। আমি খুবই গর্বিত যে বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে থাইরয়েড টাস্কফোর্সের সমন্বয় করার। আমরা জনগণ, চিকিৎসক, নীতিনির্ধারকসহ সবাইকে স্বাগত জানাই আমাদের এই উদ্যোগে সহযোগিতার জন্য।
ফারিয়া আফসানা
থাইরয়েড সমস্যায় কী ক্ষতি হয়, সেটা সবার জানা থাকা প্রয়োজন। কী লক্ষণ হলে একজন মনে করবেন যে তাঁর থাইরয়েড সমস্যা আছে, এটা জানা থাকা জরুরি। থাইরয়েড সমস্যার দুটি কারণ দেখা যায়। এক. কম হরমোন তৈরি হওয়া; আরেকটা হলো বেশি হরমোন তৈরি হওয়া। থাইরয়েডের বিভিন্ন রোগের মধ্যে হাইপোথাইরয়েডিজম সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। সাধারণত দুই ধরনের থাইরয়েড রোগেই সবচেয়ে বেশি যে লক্ষণটি দেখা যায়, তা হলো গলগণ্ড। এ ছাড়া হাইপোথাইরয়েডিজমের ক্ষেত্রে ওজন বেড়ে যাওয়া, শরীর ফুলে যাওয়া, কাজকর্মে অনীহা, দুর্বল লাগা এবং নারীদের ক্ষেত্রে অনিয়মিত মাসিক, বারবার অ্যাবরশন, বন্ধ্যত্ব—এ ধরনের লক্ষণগুলো দেখা দেয়। বয়স্কদের ক্ষেত্রে অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের সমস্যা—এসব ক্ষেত্রে স্ক্রিনিং করতে গিয়ে থাইরয়েডের সমস্যা ধরা পড়ে।
অন্যদিকে থাইরয়েড থেকে যদি অতিমাত্রায় হরমোন তৈরি হয়, তাহলে অনেক বেশি ক্ষুধা লাগে। তারপরও ওজন কমে যাওয়া, বুক ধড়ফড় করা, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, পেটের সমস্যাসহ আরও সমস্যা দেখা দিতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে শারীরিক বৃদ্ধি কম হলে, বুদ্ধি কম হলে, বিকলাঙ্গ হলে থাইরয়েড হরমোন পরীক্ষা করা উচিত।
যেসব নারী বন্ধ্যত্বের সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের অবশ্যই থাইরয়েড স্ক্রিনিং করা উচিত। এখন গর্ভবতী নারীদের সবারই থাইরয়েড হরমোন পরীক্ষা করে নিতে হবে। কোনো সমস্যা থাকলে সেভাবে চিকিৎসা করে নিতে হবে। সঠিক সময় পরীক্ষা করে চিকিৎসা করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটা প্রতিরোধ করা যায়।
এম সাইফুদ্দিন
অনেক রোগী এসে বলে, ফেসবুকে দেখেছি থাইরয়েডের সমস্যা হলে এগুলো হয়, আমার যে সমস্যাগুলো হচ্ছে, তা থাইরয়েডের সমস্যার জন্য হচ্ছে কি না।। আবার অনেকে বলে, হরমোন কী—এটা জানতে এসেছি। তাদের বলি, আমাদের গলায় প্রজাপতি আকৃতির যে থাইরয়েড গ্রন্থি আছে, সেখান থেকে যে হরমোন নিঃসৃত হয়, সেটিই থাইরয়েড হরমোন। এটা বিভিন্ন শারীরিক কাজ করছে। রোগীদের বলে থাকি যে হরমোন হলো তরকারিতে লবণের মতো। একটু বেশি হলেও ক্ষতি, আবার কম হলেও ক্ষতি। হরমোন বেশি হলে তাকে হাইপারথাইরয়েডিজম বলে। এর লক্ষণ বুক ধড়ফড়, ওজন কমা, থাইরয়েড গ্ল্যান্ড বড় হওয়া, রোগীর মধ্যে অস্থিরতা ইত্যাদি। আবার হরমোন কম হলেও যেটা হতে পারে, স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া, হাত-পা ঝিঁঝিঁ করা, হার্টের বিভিন্ন সমস্যা হওয়া ইত্যাদি হাইপোথাইরয়েডিজমের লক্ষণ। রোগীরা নানা সমস্যায় বিভিন্ন চিকিৎসকের কাছে যেতে পারে। এখন সারা দেশেই থাইরয়েড হরমোনের পরীক্ষা হয়। একটু মনোযোগ দিয়ে শুনলে থাইরয়েডের কোনো রোগী আমাদের কাছ থেকে বাদ পড়বে না। সাধারণ মানুষ অনেক কিছুই বুঝতে পারে না। পায়ে পানি এসেছে, মনে করবে নিশ্চয়ই কিডনির সমস্যা। কিন্তু থাইরয়েডের সমস্যায়ও এটা হতে পারে। এসব বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। নুভিস্তা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি ও প্রথম আলোকে আবারও ধন্যবাদ।
ফারহানা দেওয়ান
শরীরে কখনো থাইরয়েড হরমোন কম আসে, আবার কখনো বেশি আসে। সব গর্ভবতী নারীর মধ্যে সাধারণত ১ থেকে ২ শতাংশের ক্ষেত্রে থাইরয়েডের সমস্যা দেখা যায়। থাইরয়েড সমস্যা কম বা বেশি—দুটোতেই সমস্যা হতে পারে। হরমোন কম হলে গর্ভবতী মা–সন্তান—দুজনেরই সমস্যা হবে। হরমোন কম থাকলে সন্তান সন্তান পেটে নষ্ট হতে পারে, সময়ের আগে প্রসব হতে পারে, প্রি–একলাম্পসিয়া বা ডায়াবেটিসও হতে পারে। আবার বেশি হলেও সমস্যা হতে পারে। নারীদের গর্ভধারণের আগেই জানা উচিত, তার থাইরয়েড হরমোনের সমস্যা আছে কি না। তাহলে তাঁরা চিকিৎসকের কাছে আসবেন। তখন যদি থাইরয়েড হরমোন কম বা বেশি থাকে, তাহলে এটা স্বাভাবিক মাত্রায় এনে চিকিৎসক তাঁদের গর্ভধারণের পরামর্শ দেবেন। তিনি চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকবেন। থাইরয়েড হরমোনের ওষুধ খেয়ে গর্ভাবস্থা চালিয়ে যাবেন। যাঁর হরমোন বেশি আছে, তাঁরও পরীক্ষা করতে হবে। থাইরয়েডের দুটি পরীক্ষা করা হয়ে থাকে—একটি হলো টিএসএইচ ও অপরটি ফ্রি টি-ফোর। এটা করে আমরা তাঁদের চেকআপে রাখি। এর মাধ্যমে হরমোন একটা নির্দিষ্ট মাত্রার নিচে রাখার চেষ্টা করা হয়। এ জন্য ওষুধ খেয়ে যেতে হয়। ধরা যাক একজন নারীর গর্ভধারণের বয়স ১২ সপ্তাহ। তিনি আমাদের কাছে এসেছেন। পরীক্ষা করে দেখা গেল, তাঁর থাইরয়েড সমস্যা অনেক বেশি। এ ক্ষেত্রে তাঁর সন্তানের সমস্যা যেন না হয়, সেভাবে আমাদের চিকিৎসায় যেতে হবে। থাইরয়েড হরমোন যাঁদের বেশি, তাঁদের দুই রকম হরমোন ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করতে হবে। অনেক হরমোন ওষুধ আছে, যেটা গর্ভের সন্তানকে ক্ষতি করতে পারে। এমন ওষুধ দেওয়া যাবে না, যে কারণে তার জন্মগত ত্রুটি হতে পারে। অনেক সময় গর্ভধারণ হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে দুই রকম হতে পারে। একেবারেই গর্ভধারণ না হওয়া। আবার গর্ভধারণ হচ্ছে কিন্তু অ্যাবরশন হয়ে যাচ্ছে। এদের টিএসএইচ হরমোনের মাত্রা অনেক বেশি থাকে। তখন এটা স্বাভাবিক মাত্রায় নিয়ে এলে গর্ভধারণ হতে পারে। অনেক বছর ধরে এই পেশায় আছি। প্রথম দিকে থাইরয়েড নিয়ে এত ভাবতাম না। কিন্তু এখন অনেক গর্ভবতী নারীর থাইরয়েড সমস্যা পাচ্ছি।
গর্ভাবস্থায় থাইরয়েডের ওষুধ খেলে কোনো অসুবিধা নেই, কিন্তু থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে তা না জেনে গর্ভধারণ করলে সন্তানের জন্মগত ত্রুটি হতে পারে। এ রকম পরিস্থিতি আমাদের কারোরই কাম্য নয়।
সুরাইয়া বেগম
শিশুদের জন্য সবচেয়ে কমন হরমোনজনিত সমস্যা হলো হাইপোথাইরয়েডিজম। এটা সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে—কনজেনিটাল ও অ্যাকোয়ার্ড। কনজেনিটাল হাইপোথাইরয়েডিজম দুই হাজার থেকে তিন হাজারে একজন। অ্যাকোয়ার্ড হাইপোথাইরয়েডিজম ২ শতাংশ। এটা সাধারণত কৈশোরে হয়। হাইপোথাইরয়েজিমের ক্ষেত্রে শিশুদের বৃদ্ধি থেমে যায়, বিষণ্নতা ও মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। হাড়ের বৃদ্ধির জন্য থাইরয়েড হরমোন একটা গুরুত্বপূর্ণ হরমোন। সে জন্য থাইরয়েড হরমোন কম থাকলে শিশুরা খর্বাকৃতি হয়ে থাকে। কনজেনিটাল হাইপোথাইরয়েজিম সাধারণত গর্ভকালীন অবস্থায় হয়। নবজাতক জন্মের দুই সপ্তাহ পর এটা দেখা যায়। তাই হাইপোথাইরয়েড সমস্যা আছে কি না, সেটা দ্রুত নির্ণয় করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে স্ক্রিনিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ; কারণ, এর মাধ্যমে আমরা হাইপোথাইরয়েডিজম নির্ণয় করতে পারব।
অ্যাকোয়ার্ড হাইপোথাইরয়েডিজমের অনেক রোগী পেয়েছি। সাধারণত পাঁচ বছর বয়সে এটা হয়। অ্যাকোয়ার্ড হাইপোথাইরয়েডিজমেও শিশুরা খর্বাকৃতি হয়। বিষণ্নতায় ভোগে। এদের চিকিৎসা না হলে সুদূরপ্রসারী ফল হয়। এরা শুধু পরিবারের জন্য নয়, সমাজের জন্যও বোঝা হয়ে থাকে। অ্যাকোয়ার্ড হাইপোথাইরয়েডিজম অধিকাংশ সময় মা-বাবা বুঝতে পারেন না। এ জন্য এটা নির্ণয় করতে একটু সমস্যা হয়। গয়টার নিয়ে অনেক মা তাঁদের সন্তানদের নিয়ে আসেন। আরেকটা দেখা যায় যে সাব–ক্লিনিক্যাল হাইপোথাইরয়েডিজম। এটাও শিশুদের দেখা যায়। ধীরে ধীরে মারাত্মক আকার ধারণ করে। এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। এটাও দ্রুত নির্ণয় করতে হবে। প্রথম আলোসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম যেন এটা গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করে। এসব বিষয়ে সবাই যেন সচেতন হয়।
রোবেদ আমিন
মানুষের শরীরে অনেক হরমোন আছে। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে রহস্যজনক হরমোন হলো থাইরয়েড হরমোন। এটা এমন একটা গ্ল্যান্ড, যেখান থেকে যে কারণে বেশি হরমোন আসতে পারে, একই কারণে কমও হতে পারে। এখানে এত বেশি রক্তসঞ্চালন হয় যে ইনফেকশনও হতে পারে। এখানে ক্যানসারও হতে পারে। আমি বুঝতে চেষ্টা করছিলাম, আমাদের দেশে থাইরয়েড রোগের সমস্যা কেমন? এটা জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কি না? একটা বিবৃতিতে দেখেছিলাম বাংলাদেশে প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ কোনো না কোনো থাইরয়েডের সমস্যায় ভুগছেন। এর মধ্যে প্রায় তিন কোটি মানুষ জানেই না যে তাদের থাইরয়েড সমস্যা আছে। ১৯৯৫ সালে একবার আমরা জেনেছিলাম যে ৩৫ শতাংশ মানুষের থাইরয়েড সমস্যা আছে। তখন একটা প্রশ্ন ছিল, বাংলাদেশের মানুষের গ্ল্যান্ড অন্য দেশের মানুষের সমান কি না। এ ক্ষেত্রে আমাদের দেশের এক তথ্যে বলা হয়েছে, মানুষের গ্ল্যান্ড অন্য দেশের মানুষের গ্ল্যান্ডের সমান না–ও হতে পারে। আমাদের দেশের গ্ল্যান্ডের মধ্যে ১০ শতাংশ অস্বাভাবিক দেখা গেছে। লালমনিরহাটের এক তথ্যে দেখা যায়, সেখানে দরিদ্র মানুষের মধ্যে গলগণ্ডের হার ৫৯ দশমিক ৮ শতাংশ। নারী ও পুরুষের মধ্যে পার্থক্যই হচ্ছে ২০ জন নারীর মধ্যে ১ জন পুরুষ। এখানে একটা জেন্ডার ইস্যু এসে যাচ্ছে। তাঁরা অনেকে জানেনই না যে তাঁদের থাইরয়েড সমস্যা আছে। আবার অনেকের থাইরয়েড সমস্যা আছে। অনেকের আবার থাইরয়েড সমস্যা আছে, কিন্তু কোনো উপসর্গ নেই। থাইরয়েড সমস্যা শুধু শরীরের এক জায়গায় ক্ষতি করে না, সব জায়গায় ক্ষতি করে। নাইনটিন সেঞ্চুরিতে ইংল্যান্ডে একবার গলগণ্ডের সমস্যা হয়েছিল। তখন তারা সিভিট খেয়ে উপকার পেয়েছিল। লবণের সঙ্গে যে আয়োডিন দেওয়া হচ্ছে, এর মাত্রা ঠিক আছে কি না, সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আয়রন, সেলেনিয়াম—এসব উৎপাদনের ঘাটতি থাকলেও থাইরয়েড সমস্যা হবে। আমাদের আয়রনের অনেক ঘাটতি আছে। বন্যা, কৃষিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার আয়োডিনের ক্ষতি করছে। শুধু স্বাস্থ্য বিভাগ এর সমাধান করতে পারবে বলে আমি মনে করি না। স্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ও এর সঙ্গে জড়িত। সবাই মিলে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। আমরা অনেক কিছু জানি না। অনেক ক্ষেত্রে ধারণার ওপর কাজ করছি। আমাদের তো জাতীয়ভাবে একটা জরিপ করা উচিত। আমরা যখন পরবর্তী সেক্টর প্রোগ্রামে যাব, তখন এটাকে বিশেষভাবে বিবেচনার বিষয়টি ভাবব। উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্স ও কমিউনিটি ক্লিনিকে থাইরয়েড সমস্যা কীভাবে যুক্ত করা যায়, সেটা ভাবতে হবে। আমাদের অনেক চিকিৎসককে এ বিষয়ে সচেতন করতে হবে। একটা প্রশিক্ষণ মডিউল তৈরি করতে হবে। পরিচালক এনসিডিসি, উপজেলা হেলথ কেয়ার অপারেশন প্ল্যান ও কমিউনিটি ক্লিনিকের অপারেশন প্ল্যান একসঙ্গে কাজ করলে সমস্যা হবে বলে মনে হয় না। আজকের এই উদ্যোগ সফল হোক। সবাই একসঙ্গে কাজ করলে এ থাইরয়েড সমস্যার ক্ষেত্রে সফলতা আসবে।
সালেহা বেগম নীলা
এমন একটি আলোচনার জন্য বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি ও প্রথম আলোকে ধন্যবাদ। আজকের আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশে পাঁচ কোটির বেশি থাইরয়েড রোগী আছে। তিন কোটির বেশি মানুষ জানে না যে তাদের থাইরয়েড রোগ আছে। ছেলেদের তুলনায় নারীদের থাইরয়েড রোগ বেশি হয়। নুভিস্তা ফার্মা নারীর স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করছে। নুভিস্তা ফার্মা বেক্সিমকোর একটা সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান। নারীরা হচ্ছেন পরিবারের একটা কেন্দ্র। আমরা তাঁদের শরীর সুস্থ রাখার জন্য কাজ করছি। সেখানে থাইরয়েড একটা বিশেষ অংশ। এ ছাড়া অর্গাননের উত্তরাধিকার বহনকারী হিসেবে আমরা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে হরমোনজাতীয় ওষুধ নিয়ে কাজ করছি। বাংলাদেশের মানুষকে থাইরয়েড সম্পর্কে সচেতন করার এই উদ্যোগে আমরা নুভিস্তা ফার্মা সায়েন্টিফিক পার্টনার হিসেবে অংশগ্রহণ করতে পেরে গর্বিত। এ বিষয়ে গাইডলাইন তৈরি করা, জাতীভাবে জরিপ করা—এসব ক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতা থাকবে। সবাইকে ধন্যবাদ।
ফিরোজ চৌধুরী
থাইরয়েড এখন ডায়াবেটিসের মতোই একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে আশা করি। আলোচনায় অংশগ্রহণের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।