
কারখানাগুলোর উৎপাদন বাড়াতে হলে শ্রমিকদের স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিতে হবে। এ জন্য পোশাক কারখানার নারী শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
গতকাল মঙ্গলবার এসএনভি ও প্রথম আলোর উদ্যোগে এক ভার্চ্যুয়াল আলোচনা সভায় বক্তারা এ কথা বলেন।
ঢাকার নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের সহযোগিতায় পরিচালিত এসএনভি বাংলাদেশের ওয়ার্কিং উইথ ওমেন প্রকল্প-২ এবং প্রথম আলোর যৌথ উদ্যোগে ‘পোশাক খাতে প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা’ শিরোনামে ছয় পর্বের আলোচনার গতকাল ছিল শেষ পর্ব।
ভার্চ্যুয়াল সভায় ঢাকার নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের এসআরএইচআর অ্যান্ড জেন্ডারের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক মাশফিকা জামান সাতিয়ার বলেন, কারখানাগুলোর উৎপাদন বাড়াতে হলে শ্রমিকদের স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিতে হবে। তিনি বলেন, নেদারল্যান্ডস দূতাবাস শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। এখন কারখানাগুলোতে আগের চেয়ে অনেক পরিবর্তন এসেছে। কারখানাগুলোতে স্যানিটারি ন্যাপকিনের ব্যবহার বেড়েছে।
কারখানাগুলোতে এখন প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে জানিয়ে মাশফিকা জামান বলেন, সরকার–বেসরকারি সংস্থা এবং পোশাক খাতের সংগঠনগুলো মিলে এখন শ্রমিকদের উন্নয়নে একযোগে কাজ করছে।
বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েই প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার বিষয়গুলো দেখার কথা বলেন পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহসভাপতি আরশাদ জামান দীপু। তিনি বলেন, নারী শ্রমিকদের চাহিদা কী রকম, তা এ দেশীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখতে হবে। তিনি কিছু সুপারিশ তুলে ধরেন, ডে–কেয়ার সেন্টার করা, যেখানে শিশুদের পুষ্টির পাশাপাশি মায়েদের পুষ্টি ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার বিষয়েও পরামর্শ দেওয়া হবে।এগুলোকে তিনি স্থানীয়ভাবে গুচ্ছপদ্ধতিতে করার পরামর্শ দেন।
এসএনভি বাংলাদেশের আরএমজি ইনক্লুসিভ বিজনেস প্রোগ্রামসের টিম লিডার ফারথিবা রাহাত খান বলেন, কারখানার উন্নয়নের জন্য শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্ব অনেক। বাংলাদেশে পলিসি অনেক রয়েছে, তবে প্রয়োগে এখনো ঘাটতি আছে। তিনি শ্রমিকদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্বের কথাও বলেন। এ ছাড়া স্বাস্থ্যবিমার কোনো বিকল্প নেই বলে জানান।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রথম আলোর সহকারী সম্পাদক ফিরোজ চৌধুরী।