বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশে আয়োজিত ‘আবহাওয়া, দুর্যোগ ও জনস্বার্থে সাংবাদিকতা’ শীর্ষক মিডিয়া সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা। ১১ জুন ২০২৬, প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশে আয়োজিত ‘আবহাওয়া, দুর্যোগ ও জনস্বার্থে সাংবাদিকতা’ শীর্ষক মিডিয়া সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা। ১১ জুন ২০২৬, প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে

আবহাওয়া, দুর্যোগ ও জনস্বার্থে সাংবাদিকতা

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ আয়োজিত ‘আবহাওয়া, দুর্যোগ ও জনস্বার্থে সাংবাদিকতা’ শীর্ষক মিডিয়া সংলাপ অনুষ্ঠিত হয় ১১ জুন ২০২৬, প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে।

মো. আশরাফ উদ্দিন

সচিব, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, জনসংখ্যার ঘনত্ব ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে এটি বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। প্রতিবছরই ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, বজ্রপাত, তাপপ্রবাহ, ভারীবর্ষণ বা ভূমিধসের মতো দুর্যোগের মুখোমুখি হতে হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এসব দুর্যোগের তীব্রতা বাড়ছে। তবে আশার কথা হলো, বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশ্বে একটি সফল উদাহরণ ও মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগে মৃত্যুর সংখ্যা অনেক বেশি ছিল, কিন্তু এখন উন্নত পূর্বাভাস, আগাম সতর্কবার্তা ও আমাদের সংবাদমাধ্যমগুলো খুব দ্রুত জনগণের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়ায় মৃত্যুর হার অনেক কমে এসেছে।

দুর্যোগঝুঁকি হ্রাসে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণ আবহাওয়া বা দুর্যোগ–সম্পর্কিত তথ্য সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমেই জানতে পারে। সাংবাদিকেরা যদি সতর্কবার্তা সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করে জনগণের কাছে পৌঁছে দেন, তবে তা জীবন রক্ষার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। তবে দুর্যোগের ক্ষেত্রে কিছু টেকনিক্যাল শব্দ ব্যবহৃত হয়, যার অর্থ অনেকের কাছে সহজে বোধগম্য নয়। দুর্যোগের প্রভাব সবার ওপর সমানভাবে পড়ে না; নারী, শিশু, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ওপর এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি হয়। সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলো বিবেচনায় আনা দরকার।

বাংলাদেশ সরকার ‘আর্লি ওয়ার্নিং ফর অল’ উদ্যোগের লক্ষ্য অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা চাই প্রত্যেক মানুষ সময়মতো নির্ভরযোগ্য ও বোধগম্য সতর্কবার্তা পাক এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারুক। অনেক সময় দেখা যায় জনগণ বাড়ি ছেড়ে আসতে চায় না। সম্পত্তি বা গবাদি পশুর চিন্তায় অনেকে সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ঘরে বসে থাকে। এ বিষয়ে গাইডলাইন ও প্রসিডিউর আছে, যা সবার জানা জরুরি।

কবিতা বোস

কান্ট্রি ডিরেক্টর, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ

প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তা—দুই ক্ষেত্রেই সমানভাবে কাজ করে। দুর্যোগের সময় আমরা সব সময় একটি বিষয় গুরুত্ব দিই—‘সব মানুষ সমানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না’। বয়স, জেন্ডার, শারীরিক সক্ষমতা ও সামাজিক অবস্থানের কারণে কন্যাশিশু, নারী, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকে। তাই আমরা কাজ করি, যেন এসব মানুষ দুর্যোগের আগাম বার্তা পায়, প্রয়োজনীয় সহায়তা পায় এবং রাষ্ট্র ও সমাজের কাছে তাদের প্রাপ্য অধিকার বাস্তবায়িত হয়।

দুর্যোগের আগে, পরে ও চলাকালে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কীভাবে কাজ করে এবং জনস্বার্থে সাংবাদিকতা সেই প্রক্রিয়াকে কীভাবে আরও কার্যকর করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা জরুরি। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র, পানি উন্নয়ন বোর্ড, সাইক্লোন প্রিপেয়ার্ডনেস প্রোগ্রাম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি এ প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

আমাদের বিশ্বাস, আরও শক্তিশালী অংশীদারত্বের মাধ্যমে আর্থিক ও মানবিক—উভয় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি আরও কমিয়ে আনা সম্ভব। বিশেষ করে ভোলা, সুনামগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নোয়াখালী, কক্সবাজারসহ দেশের প্রত্যন্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের মানুষের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছে দিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ১৯৯৪ সাল থেকে দেশে কাজ করছে। বর্তমানে আমরা শিশু, কিশোর-কিশোরী, যুবসমাজ, নারী এবং বিভিন্ন জেন্ডার পরিচয়ের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করছি। আবহাওয়া ও দুর্যোগসংক্রান্ত আগাম সতর্কতাব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে আমরা বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সঙ্গে কাজ করছি এবং আগামী পাঁচ বছর এ বিষয়ে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

রেজওয়ানুর রহমান

মহাপরিচালক, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর

গ্লোবাল ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্সের সবশেষ প্রকাশনায় বাংলাদেশকে বিশ্বের ১৩তম দুর্যোগপ্রবণ দেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আগে আমাদের অবস্থান ছিল শীর্ষ ১০-এর মধ্যে। দুর্যোগ মোকাবিলায় ধারাবাহিক কর্মকাণ্ডের ফলে এই অবস্থার উন্নতি হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর দুর্যোগের আগে, দুর্যোগের সময় ও দুর্যোগের পর—এই তিন পর্যায়েই কাজ করে। দেশের বিভিন্ন দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় এখন যে আশ্রয়কেন্দ্রগুলো তৈরি হচ্ছে, সেগুলো বহুমুখী ব্যবহারের উপযোগী। সাধারণ সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবহৃত হলেও দুর্যোগের সময় সেগুলো আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়। সেখানে নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকে। গবাদিপশু রাখার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যাতে মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে আরও উৎসাহিত হন।

গণমাধ্যমের সঙ্গে নিয়মিত তথ্য বিনিময় মানুষকে সচেতন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আজ আমরা ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ আগাম অনুসরণ করতে পারি। কিন্তু অনেক মানুষ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে চান না। এখানেই জনস্বার্থে সাংবাদিকতার গুরুত্ব। গণমাধ্যমের সহযোগিতায় মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া সহজ হয় ও প্রাণহানি কমে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন কমিটিতেও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা যুক্ত আছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও বাঁধ ভেঙে বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। এসব বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে তথ্যভিত্তিক সংবাদ অত্যন্ত কার্যকর।

বাংলাদেশের দুর্যোগ মোকাবিলার সাফল্য আজ বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। এই সাফল্য ধরে রাখতে সরকার, গণমাধ্যম, উন্নয়ন সংস্থা ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই।

মোহাম্মদ নাজমুল আবেদীন

যুগ্ম সচিব ও পরিচালক, প্রশাসন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়

বাংলাদেশের সার্বিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি)। আমাদের কার্যক্রম মূলত আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কবার্তার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। এই কর্মসূচির অধীন প্রায় ৮০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন। তাঁদের প্রধান দায়িত্ব হলো সতর্কবার্তা পাওয়ার পর দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মানুষের কাছে পৌঁছানো ও তাঁদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা।

এই সমন্বিত উদ্যোগের কারণেই বাংলাদেশ দুর্যোগ মোকাবিলায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ে যেখানে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৫ থেকে ১০ লাখের মধ্যে, সেখানে বর্তমানে তা ২০ জনের নিচে নেমে এসেছে। এটি কোনো একক প্রতিষ্ঠানের সাফল্য নয়, বরং সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।

এই বৃহৎ কার্যক্রমে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সংকেত পেলে আমাদের স্বেচ্ছাসেবকেরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে সতর্ক করেন, তখন মানুষ গণমাধ্যমের প্রচারিত তথ্যের ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেয়। টেলিভিশন, অনলাইন সংবাদমাধ্যম কিংবা অন্যান্য মাধ্যমে কত নম্বর সতর্কসংকেত প্রচার করা হচ্ছে, মানুষ সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে।

এই জায়গায় সাংবাদিকদের দায়িত্ব ও ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দুর্যোগের সময় মানুষের কাছে দ্রুত, সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছে দেওয়া শুধু তথ্য পরিবেশনের কাজ নয়, বরং মানুষের জীবন রক্ষার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা যদি একসঙ্গে কাজ করে, তাহলে আমরা আরও ভালো ফল অর্জন করতে পারব। জনস্বার্থে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা ও কার্যকর দুর্যোগ প্রস্তুতি—এই দুইয়ের সমন্বয়ই আমাদের ভবিষ্যৎ সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি।

মো. মোমেনুল ইসলাম

পরিচালক, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর

বাংলাদেশে দুর্যোগ মোকাবিলায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনের মধ্যে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি আগাম সতর্কবার্তা প্রদান ও বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে গণমাধ্যম। এই চারটি প্রতিষ্ঠান যদি সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে, তাহলে যেকোনো দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।

তবে বর্তমান ডিজিটাল গণমাধ্যমের যুগে একটি নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। আমরা দেখছি, বিভিন্ন ধরনের ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে। অনেক সময় একটি ছোট ভুল তথ্যও বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আবার সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে অসংখ্য মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব। এ কারণেই সংবাদকর্মীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আবহাওয়া, জলবায়ু ও দুর্যোগসংক্রান্ত তথ্য কীভাবে মানুষের কাছে উপস্থাপন করতে হবে, সে বিষয়ে আরও আলোচনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে আমাদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যবহৃত পরিভাষা ও তথ্য উপস্থাপনের পদ্ধতি নিয়েও পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াতে হবে। এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য আমি প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরও তাদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আরও কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে। আমরা সবাই মিলে সহজ, বোধগম্য ও নির্ভুলভাবে মানুষের দোরগোড়ায় তথ্য পৌঁছে দিতে চাই। কারণ, সঠিক তথ্যই দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়। দৈনন্দিন আবহাওয়ার পূর্বাভাসও যদি আমরা যথাযথভাবে অনুসরণ করি, তাহলে আমাদের জীবন আরও সহজ, কর্মময় ও নিরাপদ হবে।

ড. সাজ্জাদ হোসেন

অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, পানিবিজ্ঞান, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড

আমরা যারা বন্যার পূর্বাভাস তৈরি করি, আমাদের কাজের প্রকৃত মূল্য তখনই তৈরি হয়, যখন সেই তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছায়। আর সে কাজটিই সবচেয়ে কার্যকরভাবে করেন সাংবাদিকেরা। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বন্যা ব্যবস্থাপনায় অবকাঠামোগত ও অবকাঠামোবহির্ভূত—উভয় ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র নদীর পানির উচ্চতার তথ্যের ভিত্তিতে পূর্বাভাস তৈরি করে। তবে সেই তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে সহজ ভাষায় পৌঁছে দেওয়া এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘদিন ধরে গণমাধ্যম আমাদের এ কাজে সহযোগিতা করে আসছে।

তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই যুগে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো অপতথ্যের বিস্তার। তাই আমরা চাই, সাংবাদিকেরা আমাদের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করুন, যাতে মানুষের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছায় এবং বিভ্রান্তি তৈরি না হয়।

আমার একটি সুপারিশ রয়েছে। দুর্যোগসংক্রান্ত বিষয়ে যদি গণমাধ্যমে বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিবেদক থাকেন অথবা একই প্রতিবেদক নিয়মিত আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন, তাহলে তথ্য আরও নির্ভুল ও সহজভাবে মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে। আরেকটি বিষয় হলো তথ্যচিত্রভিত্তিক উপস্থাপন। এখন প্রযুক্তির কারণে তথ্যচিত্র তৈরি অনেক সহজ হয়েছে। অনেক সময় বন্যা শুরু হওয়ার পর সাংবাদিকেরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু পূর্বাভাস প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই যদি তথ্যচিত্রের মাধ্যমে সেই তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়, তাহলে পূর্বপ্রস্তুতি নেওয়া অনেক বেশি কার্যকর হবে।

বন্যা বা দুর্যোগসংক্রান্ত কোনো তথ্য বা পূর্বাভাস বুঝতে সমস্যা হলে আমাদের কাছে বারবার জানতে পারেন। আমরা সব সময় সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত আছি।

ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক

আবহাওয়াবিদ, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর   

আবহাওয়া, দুর্যোগ ও জনস্বার্থে সাংবাদিকতার সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর যে পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা দেয়, তার ভিত্তি হলো পর্যবেক্ষণ ও সংখ্যাতাত্ত্বিক গাণিতিক মডেল। পূর্বাভাসের মধ্যেও কিছু অনিশ্চয়তা থাকে। আমাদের লক্ষ্য হলো সেই ত্রুটি যতটা সম্ভব কমিয়ে এনে পূর্বাভাসকে আরও নির্ভুল ও নিখুঁত করা। বর্তমানে আমরা তাৎক্ষণিক পূর্বাভাস থেকে শুরু করে পাঁচ দিনের পূর্বাভাস এবং আরও পাঁচ দিনের সম্প্রসারিত পূর্বাভাস দিয়ে থাকি। তিন দিনের পূর্বাভাস অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও জনগণের কাছে তা নিশ্চিন্তে পৌঁছে দেওয়া যায়।

এখানে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক তথ্য যেমন জীবন বাঁচাতে পারে, তেমনি ভুল তথ্য মানুষের ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই আবহাওয়া–সংক্রান্ত তথ্য উপস্থাপনের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা জরুরি। আবহাওয়া অফিসের ওয়েবসাইটে সাংবাদিকদের জন্য প্রতিবেদন তৈরির নির্দেশিকাও রয়েছে। আমরা রংভিত্তিক মানচিত্রের মাধ্যমে পূর্বাভাস চালু করেছি, যাতে সব শ্রেণির মানুষ সহজে ঝুঁকি বুঝতে পারেন। 

ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষেত্রে এখন ৭ থেকে ১০ দিন আগেই সম্ভাব্য পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। তবে জনগণের মধ্যে এখনো অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। যেমন অনেকে মনে করেন ১০ নম্বর মহাবিপৎসংকেত ৮ নম্বরের চেয়ে বেশি শক্তিশালী। বাস্তবে সংকেত নম্বর মূলত ঘূর্ণিঝড় কোন এলাকা দিয়ে উপকূল অতিক্রম করবে, তা নির্দেশ করে।

আমরা উপজেলা পর্যায়ে পূর্বাভাস দিচ্ছি, ভবিষ্যতে ইউনিয়ন পর্যায়েও তা নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে শুধু পূর্বাভাস দিলেই হবে না, সেটি মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে এবং মানুষকে তার অর্থ বুঝতে হবে। এখানে গণমাধ্যমের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। সাংবাদিকদের সমালোচনা ও পরামর্শ আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করি, কারণ তা আমাদের সেবার মান উন্নত করতে সহায়তা করে।

মীর মাসরুর জামান

প্রধান বার্তা সম্পাদক, চ্যানেল আই

আবহাওয়া ও দুর্যোগবিষয়ক সাংবাদিকতাকে আমি শুধু দুর্যোগের সময়ের সাংবাদিকতা হিসেবে দেখি না; বেশির ভাগ সময় এটি ঘটনাভিত্তিক সাংবাদিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু জনস্বার্থে সাংবাদিকতা হওয়া উচিত একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। দুর্যোগ হওয়ার পর শুধু সংবাদ প্রকাশ করলে মানুষকে রক্ষা করা সম্ভব নয়; বরং সারা বছর দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি, ঝুঁকি হ্রাস ও করণীয় বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ করতে হবে। তবেই এটি প্রকৃত অর্থে ইস্যুভিত্তিক, তথা জনস্বার্থভিত্তিক সাংবাদিকতা হবে।

আবহাওয়া ও দুর্যোগ নিয়ে আমাদের সমাজে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের ভুল ধারণা প্রচলিত ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব ধারণা বদলাচ্ছে। বাংলাদেশে আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যের চেয়ে বিদেশি কোনো উৎস বা ইন্টারনেটের তথ্যকে বেশি বিশ্বাস করার প্রবণতাও রয়েছে। এ জায়গায় গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরসহ দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা, উন্নয়ন ও বিশ্বাসযোগ্যতা মানুষের সামনে তুলে ধরতে হবে।

সাংবাদিকেরা সাধারণ মানুষ, বিশেষজ্ঞ ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে একটি সেতুবন্ধ তৈরি করেন। তাঁরা যত বেশি মানুষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও বিশেষজ্ঞদের সংযুক্ত করবেন, তত বেশি মানুষের আস্থা তৈরি হবে।

আবহাওয়া ও দুর্যোগবিষয়ক সাংবাদিকতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভাষা। আবহাওয়া ও দুর্যোগসংক্রান্ত তথ্য অনেক সময় অত্যন্ত কারিগরি ও জটিল হয়। সমস্যা হলো, অনেক ক্ষেত্রে প্রতিবেদক নিজেই পরিভাষাগুলো পুরোপুরি বুঝতে পারেন না। আবার তথ্যকে অতিরিক্ত সহজ করতে গিয়ে মূল অর্থও বদলে যেতে পারে।

তাই তথ্যের নির্ভুলতা বজায় রেখে মানুষের বোধগম্য ভাষায় তা উপস্থাপন করা জরুরি। এ জন্য আরও প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

এস এম কামরুল হাসান

আবহাওয়াবিদ, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর

সঠিক তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের সবার সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন। জলবায়ু ও আবহাওয়াসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে ইতিমধ্যে অনেক গবেষণা ও আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আমরা কাজ করেছি। তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে তাপজনিত অসুস্থতা বাড়তে পারে, বৃষ্টি কমে এবং অনিয়মিত হলে ডেঙ্গুর প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে ও কৃষিতে খরার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। এসব বিষয়ে মানুষকে আগাম জানানো ও সচেতন করা গুরুত্বপূর্ণ।

বজ্রপাত মোকাবিলার ক্ষেত্রেও নানা উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। আমরা শুধু বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপন বা তালগাছ লাগানোকে একমাত্র সমাধান হিসেবে দেখি না। বিশেষ করে হাওর অঞ্চলের জন্য বিশেষ নকশার আশ্রয়কেন্দ্রের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যেখানে বজ্রনিরোধক ব্যবস্থা, সাইরেন ও আলোকসংকেত থাকবে। কোনো সতর্কবার্তা জারি হলে সেখানে তাৎক্ষণিকভাবে সংকেত প্রদর্শন ও সতর্কতা প্রচার করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া তাপপ্রবাহ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আবহাওয়া ও জলবায়ু–সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য নতুন প্রকল্পও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

আবহাওয়া ও দুর্যোগবিষয়ক সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও দক্ষতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবহাওয়া ও জলবায়ুবিষয়ক বিভাগ চালু হয়েছে এবং নতুন প্রজন্ম এ বিষয়ে পড়াশোনা করছে। সাংবাদিকতা শিক্ষায়ও আবহাওয়া ও দুর্যোগবিষয়ক পাঠ বা প্রশিক্ষণ যুক্ত হলে তথ্য আরও নির্ভুল ও কার্যকরভাবে মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

মো. সেরাফৎ হোসেন খান

উপপরিচালক (প্রশাসন), ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি)

ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া সতর্কবার্তা স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে থাকে। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো উপকূলীয় জনগণের দুর্যোগ মোকাবিলা সক্ষমতা বৃদ্ধি করে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা।

সিপিপির কার্যক্রম দেশের ১৩টি উপকূলীয় জেলার ৪২টি উপজেলায় বিস্তৃত। প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক ও বিস্তৃত বেতার যোগাযোগ নেটওয়ার্কই এ কর্মসূচির মূল শক্তি। আবহাওয়ার বার্তা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ১৭২টি বেতার স্টেশনের মাধ্যমে তা দ্রুত জেলা থেকে ইউনিয়ন, চর ও দ্বীপাঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হয়।

স্বাভাবিক সময়ে সিপিপি স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণ, জনসচেতনতা কার্যক্রম, মহড়া ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ভিত্তিক উদ্যোগ পরিচালনা করে। সতর্কসংকেতের সময় স্বেচ্ছাসেবকেরা স্থানীয়ভাবে বার্তা প্রচার ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন আর হুঁশিয়ারি ও বিপৎসংকেতের মাইকিং, সংকেত পতাকা উত্তোলন, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী চিহ্নিত করেন।

মহাবিপৎসংকেত জারি হলে তাঁরা মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিতে সহায়তা করেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি, নারী, শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি অগ্রাধিকার দেন এবং খাদ্য, পানি ও জরুরি সহায়তা বিতরণে প্রশাসনকে সহযোগিতা করেন। পাশাপাশি উদ্ধারকাজ, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজন হলে অপসারণ কার্যক্রমেও অংশ নেন।

দুর্যোগের পরপরই কী পরিমাণ সম্পদ ও জীবনের ক্ষতি হয়েছে, তার দ্রুত জরিপ করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ত্রাণ ও জরুরি মানবিক সহায়তা বিতরণে স্থানীয় প্রশাসনকে সহযোগিতা প্রদান করা।

পার্থ প্রতীম বড়ুয়া

উপবিভাগীয় প্রকৌশলী, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা মানুষের কাছে সহজভাবে পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের ওয়েবসাইটে নদীভিত্তিক তথ্য, পর্যবেক্ষণ ও পূর্বাভাস নিয়মিত প্রকাশ করা হয়। কোনো বন্যা সতর্কতা থাকলে ব্যবহারকারীরা প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে তা দেখতে পারেন। সেখানে দৈনিক বুলেটিন, পানি বৃদ্ধির হার, বিপৎসীমার অবস্থা এবং বিভিন্ন মেয়াদের পূর্বাভাস পাওয়া যায়। তবে যত দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস দেওয়া হয়, তার অনিশ্চয়তাও তত বেশি থাকে। তাই পূর্বাভাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে এর সীমাবদ্ধতাও বিবেচনায় রাখতে হবে।

আমরা সাধারণ মানুষের জন্য সহজ ভাষায় বন্যা পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করি। পাশাপাশি হাওর অঞ্চলের ফসল সুরক্ষায় বিশেষ পূর্বাভাস ও বৃষ্টির তথ্যও প্রকাশ করা হয়।

আরেকটি বিষয় হলো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। বন্যা বা আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখলে তার উৎস ও তথ্যদাতার সক্ষমতা যাচাই করা জরুরি। বাংলাদেশে এ ধরনের সরকারি পূর্বাভাস প্রদানের দায়িত্ব মূলত আবহাওয়া অধিদপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের।

আমাদের কারিগরি তথ্যগুলো সহজ ভাষায় প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমন্বয় ও তথ্যপ্রবাহ যত শক্তিশালী হবে, দুর্যোগ মোকাবিলাও তত কার্যকর হবে। ২০২৪ সালের ফেনীর বন্যার অভিজ্ঞতা আমাদের শিখিয়েছে, অনেক সময় পূর্বাভাস থাকলেও সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে তা মানুষের কাছে সময়মতো পৌঁছায় না। এই জায়গাতেই আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে।

সুপারিশ :

  • আবহাওয়া ও দুর্যোগ প্রতিবেদনে বিশেষায়িত সাংবাদিক গড়ে তুলতে হবে।

  • পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা সহজ ভাষায় সবার বোধগম্য করা জরুরি।

  • অপতথ্য রোধে তথ্য যাচাইভিত্তিক সাংবাদিকতা জোরদার করতে হবে।

  • আবহাওয়া ও দুর্যোগ সংস্থাগুলোর সঙ্গে গণমাধ্যমের সমন্বয় থাকা দরকার।

  • তথ্যচিত্র, মানচিত্র ও উপাত্তভিত্তিক প্রতিবেদন বাড়ানো প্রয়োজন।

  • দুর্যোগের আগে, চলাকালে ও পরে ধারাবাহিক সংবাদ পরিবেশন নিশ্চিত করতে হবে।

  • সাংবাদিকদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার আয়োজন প্রয়োজন।

  • স্থানীয় পর্যায়ে দুর্যোগ–সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও প্রচার আরও শক্তিশালী করতে হবে।

প্রধান অতিথি

মো. আশরাফ উদ্দিন

সচিব, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়

অতিথি ও আলোচক

কবিতা বোস

কান্ট্রি ডিরেক্টর, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ

রেজওয়ানুর রহমান

মহাপরিচালক, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর

মোহাম্মদ নাজমুল আবেদীন,

যুগ্ম সচিব ও পরিচালক (প্রশাসন),

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়

মো. মোমেনুল ইসলাম

পরিচালক, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর

ড. সাজ্জাদ হোসেন

অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, পানিবিজ্ঞান, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড

মীর মাসরুর জামান

প্রধান বার্তা সম্পাদক, চ্যানেল আই

ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক

আবহাওয়াবিদ, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর

এস এম কামরুল হাসান

আবহাওয়াবিদ, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর

মো. সেরাফৎ হোসেন খান

উপপরিচালক, ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি

পার্থ প্রতীম বড়ুয়া

উপবিভাগীয় প্রকৌশলী, বন্যা পূর্বাভাস

ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র

সাংবাদিক

এম আবুল কালাম আজাদ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, টাইমস অব বাংলাদেশ

পার্থ শঙ্কর সাহা

সহকারী বার্তা সম্পাদক, প্রথম আলো

হেলেমুল ইসলাম বিপ্লব

সিনিয়র রিপোর্টার, দ্য ডেইলি স্টার

পান্থ রহমান

বিশেষ প্রতিনিধি, চ্যানেল আই

জাহিদুর রহমান

সিনিয়র রিপোর্টার, দৈনিক সমকাল

নাজনীন আখতার

সিনিয়র রিপোর্টার, প্রথম আলো

শেখ তানভীর মাহমুদ

বাংলা এডিটর, গ্লোবাল ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম নেটওয়ার্ক

কেফায়েত শাকিল

সিনিয়র রিপোর্টার, বাংলাভিশন

সালমা মুক্তা

রিপোর্টার, বৈশাখী টিভি

ফজলে রাব্বী সৌরভ

রিপোর্টার, ডিবিসি

তৌহিদুর রহমান

স্টাফ রিপোর্টার, এটিএন বাংলা       

নিবিড় দীপু

রিপোর্টার, স্টার নিউজ

নাহিদ প্রিন্স

রির্পোটার, এনটিভি          

মৃন্ময় মাসুদ

অনলাইন ইনচার্জ, দীপ্ত টেলিভিশন

শর্মিলা সিনড্রেলা

সিনিয়র সাব–এডিটর, টাইমস অব বাংলাদেশ

মারুফ ইসলাম

সিনিয়র সাব–এডিটর, ঢাকা স্ট্রিম

ফারুক আহমেদ আরিফ

স্টাফ রিপোর্টার, প্রতিদিনের বাংলাদেশ

আফগানী বিন জহর

রিপোর্টার, টাইমস অব বাংলাদেশ

আতিকুর রহমান ফয়সাল

সিনিয়র রিপোর্টার, আজকের পত্রিকা

মাজমুর ওয়াস্তা

রিপোর্টার, আগামীর সময়

আফরোজা লামিয়া

রিপোর্টার, স্টার নিউজ

ইমরান ইমন

রিপোর্টার, এশিয়ান এজ

ফারহান শাহরুখ

রিপোর্টার, ঢাকা ট্রিবিউন   

মুহম্মদ আকবর

স্টাফ রিপোর্টার, যুগান্তর

আরফাতুন নাবিলা

সাব–এডিটর, প্রতিদিনের বাংলাদেশ

জিন্নাত আরা ঋতু

নিউজরুম এডিটর, এশিয়া পোস্ট

নিশীতা মিতু

সিনিয়র সাব–এডিটর, ঢাকা মেইল

মিফতাহুল জান্নাত

স্টাফ রিপোর্টার, মানব জমিন

হক ফারুক

স্টাফ রিপোর্টার, যুগান্তর

রবিউল ইসলাম রানা

যুগান্তর ডিজিটাল

ফারজানা আক্তার

রিপোর্টার, একাত্তর টিভি

জুহি রুবাবা জুরানা

রিপোর্টার, নিউ এজ

মো. জাহিদ খান

সংবাদকর্মী, যমুনা টেলিভিশন

এ বি এম শামীম

সোশ্যাল মিডিয়া এক্সিকিউটিভ, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড   

আহসান হাবিব মুরাদ

রিপোর্টার, দৈনিক ইত্তেফাক

শিমুল জাবালি

রিপোর্টার, ভিউজ বাংলাদেশ         

 শিউলি শবনম

রিপোর্টার, দীপ্ত টিভি

সঞ্চালনা:

ফিরোজ চৌধুরী

সহকারী সম্পাদক, প্রথম আলো