রাইট টু গ্রো কান্ট্রি কনসোর্টিয়াম ও প্রথম আলোর উদ্যোগে ‘অনূর্ধ্ব–৫ বছর বয়সী শিশুদের উন্নয়নে জাতীয় পর্যায়ে ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে বাজেট বরাদ্দের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪ ঢাকার প্রথম আলো কার্যালয়ে।

মো. সাইদুর রহমান
সচিব
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়
শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করতে হলে মাতৃগর্ভকালীন পুষ্টির বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রসূতি মা যেন পুষ্টিকর খাবার পান, সে বিষয়ে বাড়তি গুরুত্ব দিতে হবে। গর্ভাবস্থায় মা পুষ্টিকর খাবার না পেলে অপুষ্ট শিশু জন্ম নেবে। সুস্থ ও সবল শিশু পরিবারে যুক্ত করতে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এককভাবে এ কাজে সাফল্য পাওয়া যাবে না। পরিবার থেকে শুরু করে সরকারি নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যু প্রতিরোধে সুরক্ষিত ডেলিভারি নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করা দরকার। প্রসূতিসেবা ও সুরক্ষা শতভাগ নিশ্চিত করতে সব সেক্টরের কর্মীদের মনোযোগী হতে হবে।
শিশুদের সঠিক ও সমন্বিত পুষ্টি নিশ্চিতে স্থানীয় সরকারের বাজেটে বিশেষ মনোযোগী হতে হবে। শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করতে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিদের কাজ করতে হবে। কাজ গতিশীল রাখতে নিয়মিত মনিটরিং করা জরুরি।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর মতো বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিশুরা পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছে কি না, সেটি বিবেচনায় নিয়ে কাজ করতে হবে। সব শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করা সরকারের প্রতিনিধিত্বে আমাদের দায়িত্ব।
সব শিশুই আমাদের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় সব শিশুর জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে, যাতে সব শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। খাবার দামি হলেই সেটি পুষ্টিকর না–ও হতে পারে। এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে জোর দিতে হবে। শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত মন্ত্রণালয়গুলোর সম্মিলিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
একেএম তারিকুল আলম
অতিরিক্ত সচিব
প্রশাসন অনুবিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ
আমাদের দেখতে হবে একটি শিশুর উন্নতির জন্য কী কী প্রয়োজন। প্রথমত তার খাবার প্রয়োজন। এরপর তার স্বাস্থ্যের বিষয়টি আসবে। তার বস্ত্র প্রয়োজন, যত্ন প্রয়োজন। তার পরিবারের স্বাস্থ্য কেমন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারের শিক্ষার অবস্থা, সাহস, নৈতিকতার বিষয়গুলোও বিবেচনা করতে হবে। এভাবে পরিবার থেকে সমাজে যেতে হবে। এভাবেই একটি শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশ সুন্দর হবে।
একসময় আমরা শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করেছি। এখন আমরা খর্বাকৃতির শিশুদের কথা ভাবছি, কাজ করছি। এটি একটি ইতিবাচক পরিবর্তন বলে আমি মনে করি।
আমাদের অনেক উপাত্তই সঠিক নয়। উপাত্ত সংগ্রহের ক্ষেত্রে নতুন করে দক্ষ লোকবল নিয়োগ দেওয়ার উপযুক্ত সময় এখন। প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্য একজন উপাত্ত সংগ্রহকারী থাকবেন, যিনি সব উপাত্ত অনলাইনে প্রদান করবেন। তাঁরা স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি বা বিবিএসের কর্মকর্তাদের আওতাধীন থাকবেন। এটি করা গেলে বেশ ভালো ও কার্যকরী উপাত্ত সংগ্রহ সম্ভব। তখন সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া সহজ হবে।
অনূর্ধ্ব পাঁচ বছরের শিশুদের জন্য জাতীয় পর্যায়ে বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ অবশ্যই রাখতে হবে। শিশুদের জন্য বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়কে তথ্য–উপাত্ত দিয়ে সহযোগিতা করতে পারেন এনজিওর কর্মীরা। রাইট টু গ্রোর এই প্রকল্পের কথাই ধরা যাক। যখন এই প্রকল্প শুরু হয়, তখন সেখানকার শিশুদের কী অবস্থা ছিল, আর প্রকল্প শেষে তা কী অবস্থায় দাঁড়িয়েছে, তা জানা প্রয়োজন। এই তথ্য জানা সম্ভব হলে আমরা একে আমাদের বরাদ্দ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে পারব। সত্যিকার অর্থে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ব্যতীত কার্যকর প্রভাব রাখা সম্ভব নয়।
তানিয়া খান
অতিরিক্ত সচিব, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং
মহাপরিচালক, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শিশুদের অধিকার ও সুরক্ষার ব্যাপারে খুবই যত্নশীল। শিশুদের উন্নয়নে কার্যকর বেশ কিছু পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। এর মধ্যে নারী ও শিশুদের নিয়ে স্বল্পমেয়াদি কিছু ক্রাশ প্রোগ্রাম গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেগুলোতে শিশুদের পুষ্টির বিষয়টি অধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শিশু একাডেমির মাধ্যমে সারা দেশে ছয়টি শিশু বিকাশ কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে। আমরা এ সেবাকে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা করছি। এখানে সুবিধাবঞ্চিত ও পথশিশুরাও স্থান পাবে। তাদের পুষ্টি নিশ্চিত করা হবে আমাদের প্রথম কাজ। পাশাপাশি তাদের প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষা ও প্রাক্–শৈশব যত্নের ব্যবস্থাও থাকবে।
মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে মা ও শিশুযত্ন সুবিধা কর্মসূচি চালু আছে। সমাজভিত্তিক সমন্বিত শিশুযত্ন কেন্দ্রের মাধ্যমে শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশ ও সুরক্ষা এবং সাঁতার সুবিধা প্রদান (আইসিবিসি) প্রকল্প রয়েছে। শিশুদের সাঁতার শেখানোর জন্য গ্রামভিত্তিক দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এখানে এক থেকে পাঁচ বছরের শিশুদের সেবা দেওয়া হচ্ছে।
পৃথিবীর অনেক দেশের চেয়ে পুষ্টি খাতে বাংলাদেশের বিনিয়োগ অনেক বেশি। এসব বরাদ্দ যথাযথভাবে ব্যবহার করলে শিশুর পুষ্টি নিশ্চিতকরণ সম্ভব হবে।
অনূর্ধ্ব–৫ বছর বয়সী শিশুর পুষ্টি চাহিদা পূরণ করতে হলে বিভিন্ন প্রকল্পে পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের জায়গা শক্তিশালী করা প্রয়োজন। নারীদের জন্য আলাদা অধিদপ্তর থাকলেও শিশুদের ক্ষেত্রে সে রকম কিছু নেই। আমরা বাজেট বাড়ানোর চেষ্টা করছি। বর্তমানে এ খাতে যা বরাদ্দ আছে সেটি কার্যকরভাবে খরচ করা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
সাইফুর রহমান
প্রকল্প পরিচালক
সিআর ওয়াশ প্রকল্প, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর
বাংলাদেশের জাতীয় উপাত্ত অনুযায়ী ২৫ শতাংশ শিশু অপুষ্টির শিকার। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন নিয়ে কাজ করে। কয়েক বছর আগেও অনেকে জানত না যে পানির সঙ্গে পুষ্টির সম্পর্ক রয়েছে। পানি থেকে আমরা অনেক খনিজ পদার্থের জোগান পাই। শিশুদের বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে পানির গুণগত মান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণাঞ্চলে উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা একটি বড় সমস্যা। এটি পানির গুণগত মানের সঙ্গে সম্পর্কিত। এর সঙ্গে খর্বকায় হওয়ার একটা সম্পর্ক রয়েছে। এ রকম জায়গাগুলোয় গবেষণা করা দরকার।
আইসিডিডিআরবি এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে পানির গুণগত মানের সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও খর্বতার সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা হচ্ছে। সামনের দিনগুলোতে হয়তো এ বিষয়ে আমরা আরও বিস্তারিত জানতে পারব।
আমরা টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টর (এসডিজি) অংশ হিসেবে পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন নিয়ে কাজ করছি। বাংলাদেশে প্রায় ৯৮ শতাংশ মানুষকে নিরাপদ পানির সুবিধা প্রদানের পাশাপাশি ৮৪ শতাংশ মানুষকে উন্নত স্যানিটেশন–সুবিধার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। এতে খুশি হওয়া উচিত নয়। কারণ, স্যানিটেশন ও নিরাপদ পানির চাহিদা শতভাগ পূরণ করা যায়নি। পানির গুণগত মান সরাসরি পুষ্টির সঙ্গে সম্পর্কিত। সুতরাং পুষ্টি নিয়ে যাঁরা কাজ করেন, এদিকে তাদের নজর দিতে হবে।
পুষ্টি খাতে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব নিতে হবে, জবাবদিহি করতে হবে। আমাদের খরচ করতে হবে নিয়মতান্ত্রিক ও গোছানো পদ্ধতিতে। পুষ্টি খাতে যে অর্থ খরচ করা হয়, তা-ই যদি একটু পরিকল্পিতভাবে খরচ করা হয়, তাহলে তার প্রভাব অনেক বেশি হবে।
এএফএম ইকবাল কবির
পরামর্শক
বাংলাদেশ জাতীয় পুষ্টি পরিষদ
২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে প্রথম শিশুদের জন্য বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়। আবার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষায় বরাদ্দ থাকলেও সেখানে পুষ্টি নিয়ে বরাদ্দের আলাদা খাত নেই।
মোট শিশুর ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বাস করে অর্থনৈতিকভাবে খুব দরিদ্র পরিবারে। ৭০ শতাংশের বেশি শিশু ন্যূনতম পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ খাদ্যও গ্রহণ করছে না। এ জন্য শিশু মৃত্যুর ৪৫ শতাংশ হয় অপুষ্টির কারণে। শিশুপুষ্টি খাতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগের মাধ্যমে শিশুর অসুস্থতা ও উচ্চ মৃত্যুহার ঠেকানো সম্ভব। পর্যাপ্ত পুষ্টি পেয়ে বেড়ে ওঠা শিশুরা প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করলে তাদের আয় ৫-৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। গবেষণায় দেখা যায়, পুষ্টিতে ১ টাকা বিনিয়োগ করলে ১৬ টাকার পরিমাণ ফল ফেরত পাওয়া যায়।
শিশুর খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় থাকা বিশ্বের শীর্ষ ২০টি দেশের মধ্যে ১টি বাংলাদেশ। আট শিশুর মধ্যে এক শিশু মারাত্মক খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে। গ্রামের চেয়ে শহরের বস্তির শিশুরা বেশি পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচক ২০২৪-এর তথ্যানুযায়ী ১২৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮১তম।
অনূর্ধ্ব পাঁচ বছর বয়সী শিশুর পুষ্টি নিশ্চিতকল্পে সরকারের কিছু প্রধান মন্ত্রণালয়, বিশেষ করে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদের এবং জাতীয় পর্যায়ের বাজেটে পুষ্টি খাতে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ ও তা যথাযথ ব্যয় নিশ্চিত করা খুব জরুরি। সেই সঙ্গে শিশুপুষ্টি খাতে বরাদ্দ ও ব্যয়ের তথ্য সংরক্ষণে আন্তমন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভাগসমূহের মধ্যে সমন্বয় ও মনিটরিং ব্যবস্থা সচল থাকাও গুরুত্বপূর্ণ।
ওসমান হারুনি
সিনিয়র নীতি উপদেষ্টা
কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তা, বাণিজ্য ও ব্যবসা উন্নয়ন, ঢাকার নেদারল্যান্ডস দূতাবাস
অনূর্ধ্ব-৫ বছর বয়সী শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করতে হলে সমন্বিত প্রচেষ্টা জরুরি। বাংলাদেশে শিশুর বিকাশের জন্য চমৎকার কিছু নীতিমালা রয়েছে। সমন্বয়ের অভাবে এগুলো বাস্তবায়ন করতে অনেক সময় সমস্যা হয়। বাংলাদেশে ২২ থেকে ২৫টি বিভাগ পুষ্টিসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কাজ করে। যখনই বলা হয় এটি আমাদের সবার দায়িত্ব, তখনই কেমন যেন গা ছাড়া ভাব চলে আসে সবার মধ্যে।
রাইট টু গ্রো প্রকল্পে ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে পুষ্টি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আমরা দেখেছি বিভিন্ন ধরনের কমিটি থাকলেও সত্যিকার অর্থে কোন বিভাগের কতটুকু কাজ, সে বিষয়ের কোনো সীমা নির্ধারণ করা নেই। আমদের শিশুদের নিয়ে আরও আন্তরিক হতে হবে।
আমাদের দেশে অনেক উপাত্ত আছে, কিন্তু উপাত্তের মান ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে অনেক বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে। বাংলাদেশে শিশুদের অপুষ্টিজনিত খর্বতার বিবেচনায় খুলনা খুবই ভালো অবস্থানে রয়েছে। কিন্তু খুলনার সব জায়গায় কিন্তু একই চিত্র দেখা যায় না, উপকূলীয় এলাকার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমরা উপাত্তের ক্ষেত্রে গড় ধারণা করি, যা প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে না।
শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিতে বেসরকারি খাতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের খাদ্যব্যবস্থা নিয়ে আরও কাজ করতে হবে। এখন শহর-গ্রাম, সবখানেই প্রক্রিয়াজাত খাদ্য পৌঁছে যাচ্ছে। খাবার প্রক্রিয়াজাতকরণের সঙ্গে যারা যুক্ত, তাদের পুষ্টি সম্পর্কে সচেতন বা সংবেদনশীল করতে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। বরাদ্দসহ প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রকে আরও বেশি ডিজিটালাইজড করতে হবে। আমাদের হয়তো সীমাবদ্ধতা থাকবে, কিন্তু তা উন্নত করার ব্যবস্থাও থাকতে হবে।
ড. তারিকুল ইসলাম
কান্ট্রি ডিরেক্টর, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ও চেয়ারপারসন, রাইট টু গ্রো কান্ট্রি স্টিয়ারিং কমিটি
শিশুদের পুষ্টি নিরাপত্তার প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের লক্ষ্যে এনআইএলজি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা বৃদ্ধি ও দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। ম্যাক্রো লেভেলের দক্ষতা মাইক্রো লেভেলে স্থানান্তর করা প্রয়োজন। রাইট টু গ্রো কর্মসূচির মাধ্যমে ৪০টি ইউনিয়ন পরিষদে এ ধরনের দক্ষতা স্থানান্তর বিষয়টি কার্যকর তা প্রমাণিত হয়েছে।
শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে যে পরিমাণ চাহিদা রয়েছে, তার তুলনায় জোগান যথেষ্ট নয়। এ ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি সেখানে এনজিওসহ বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে, সেগুলোকে বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে। শিশুদের জন্য মানসম্মত পুষ্টি পুরোপুরি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বৃহত্তর প্রাইভেট সেক্টরকে অবশ্যই এগিয়ে আসতে হবে। জাতীয় খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নীতি পুনর্বিবেচনার সুযোগ এসেছে। এ ক্ষেত্রে আমাদের দাবি, সরকার যেন শিশুদের পুষ্টির বিষয়ে অভিজ্ঞ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং সুশীল সমাজের পরামর্শ নেয়।
সায়কা সিরাজ
কান্ট্রি ডিরেক্টর,
নিউট্রিশন ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ
বাংলাদেশ যদি ২০৩০ WHO-এর খর্বতা কমানোর লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারে, তাহলে বছরে আনুমানিক দেড় লাখ শিশুকে খর্ব হওয়া থেকে রক্ষা করা যাবে এবং মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচানো যাবে ৩ হাজার ৭০০ শিশুকে।
শিশুদের বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নয়নের মাধ্যমে ২ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। তাই অনূর্ধ্ব-৫ বছর বয়সী শিশুদের পুষ্টির উন্নয়নে যথাযথ বাজেট বরাদ্দের কোনো বিকল্প নেই।
পুষ্টির বহুমাত্রিকতা বিবেচনা করে অনূর্ধ্ব-৫ বছর বয়সী শিশুদের উন্নয়নে শিশুর পুষ্টির জন্য জাতীয় ও স্থানীয় সরকার পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট বাজেট বরাদ্দ ও কার্যক্রমের স্পষ্টতা সৃষ্টির জন্য সমন্বিতভাবে সরকারের স্বাস্থ্য, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, স্থানীয় সরকার, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একযোগে কাজ করতে হবে। পুষ্টিসংক্রান্ত সরকারের যেকোনো উদ্যোগের সঙ্গে থাকতে নিউট্রিশন ইন্টারন্যাশনাল প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
আকমল শরীফ
কান্ট্রি ডিরেক্টর,
অ্যাকশন এগেইনস্ট হাঙ্গার বাংলাদেশ
সম্প্রতি প্রকাশিত ‘বিশ্ব ক্ষুধা সূচক’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষুধা সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে থাকলেও পুষ্টিহীনতা, খর্বতা ইত্যাদি নেতিবাচক পরিসংখ্যানগুলো উদ্বেগের। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জগুলো জটিল ও বহুমাত্রিক।
কোভিড মহামারি–পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে মুদ্রাস্ফীতি বেড়েই চলেছে। এটি এখন অনেক বড় একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানে আয়ের বৈষম্য অনেক বেশি দৃশ্যমান। আর এর গভীর প্রভাব পড়ছে পারিবারিক পর্যায়ে পুষ্টি ও খাদ্যনিরাপত্তার ওপর।
আমি মানুষের আচরণগত পরিবর্তনের কথা বলতে চাই। সন্তানের সঙ্গে মা-বাবার সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার অনেক দেশে শিশু পালনের দায়িত্ব প্রধানত নারীদের ওপর বর্তায়। এটি পরিবর্তন করার জন্য আমরা ‘রাইট টু গ্রো’ ক্যাম্পেইন থেকে কাজ করছি। এটি এমন একটি বিষয়, যেখানে পুরুষদের গঠনমূলকভাবে সন্তান লালনপালনে যুক্ত করা প্রয়োজন।
রিফাত বিন সাত্তার
ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর,
সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশ
অনূর্ধ্ব ৫ শিশুদের উন্নয়ন কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত পুষ্টি নিশ্চিতকরণ। স্থানীয় সরকারের ক্ষেত্রে পুষ্টিকে ফোকাস করে উন্নয়ন কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সমন্বয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সরকারি–বেসরকারি খাত, সংবাদ ও এনজিওমাধ্যমকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে ফলপ্রসূ কাজ হবে। এ ক্ষেত্রে অংশীদারদের ভূমিকা পরিষ্কার থাকতে হবে।
ইউনিয়ন পরিষদের বাজেট বরাদ্দ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া, নীতিনির্ধারক পর্যায়ে জবাবদিহির জায়গা থাকতে হবে। শিশুদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে কীভাবে শিশুবান্ধব বাজেট হতে পারে, তা নিয়ে ভাবা প্রয়োজন। শিশুর পুষ্টি নিশ্চিতে তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া ও বরাদ্দের ক্ষেত্রে তথ্যের ঘাটতি ও অসামঞ্জস্যতা রয়েছে। অঞ্চলভেদে ভিন্নতা দেখা গেলে বরাদ্দও সেভাবে রাখতে হবে। সুবিধাবঞ্চিত, প্রতিবন্ধী ও অন্যান্য শিশুর প্রত্যেকের চাহিদা অনুসারে আলাদা বরাদ্দ রাখতে হবে।
চন্দন জেড গোমেজ
সিনিয়র ডিরেক্টর অপারেশনস,
ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ
দারিদ্র্য ও পুষ্টিহীনতা একই সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দরিদ্র পরিবারে পুষ্টিকর খাদ্য কী, তারা তা জানেই না। অনূর্ধ্ব পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের জন্য পুষ্টি খুবই জটিল একটি বিষয়। জটিল বলছি, কারণ এর মধ্যে আরও অনেক বিষয় সম্পৃক্ত। শিশুর স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টির বিষয়গুলো নিয়ে একেবারে শিকড় থেকে কাজ শুরু করা উচিত। মা–বাবাকে অপুষ্টি সম্পর্কে সচেতন করতে হবে।
এ ছাড়া তিন থেকে পাঁচ বছরের শিশুদেরও কীভাবে প্রারম্ভিক বিকাশের মধ্যে আনা যায়, এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। সরকারকে দায়িত্ব নিয়ে এ বিষয়ে ক্ষুদ্রমেয়াদি প্রকল্প থেকে দীর্ঘমেয়াদি মূল প্রকল্পে নিয়ে যেতে হবে। সরকারি পদক্ষেপে এ কার্যক্রম সারা দেশে বাস্তবায়ন করলে ফলপ্রসূ হবে। পুষ্টির জন্য ন্যূনতম বাজেট বরাদ্দ রাখতে হবে।
তবে শিশুদের পুষ্টি নিয়ে মায়েদের সচেতনতা বেশি জরুরি। কারণ, পরিবারের স্বাস্থ্যসম্মত খাবার মায়েরা তৈরি করে। দেশেই প্রচুর পুষ্টিকর খাবার আছে, শুধু প্রস্তুত করা জানতে হবে।
ড. গোলাম মহিউদ্দিন খান সাদী
পুষ্টিবিশেষজ্ঞ
ইউনিসেফ
বাংলাদেশে অপুষ্টিতে ভোগা বেশির ভাগ শিশু গ্রামাঞ্চলে অথবা শহরাঞ্চলের বস্তি এলাকায় থাকে। এ দুটি জায়গায় সরকারের কার্যকর সংগঠন স্থানীয় সরকার প্রশাসন। স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে অর্থায়ন করে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করা গেলে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পুষ্টি, পয়োনিষ্কাশন, সামাজিক সুরক্ষা, নিরাপত্তা—সার্বিকভাবে সবা সেবাই দেওয়া সম্ভব।
গর্ভকালীন থেকে অনূর্ধ্ব পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিতে বরাদ্দের পরিমাণ বাড়ানো প্রয়োজন। মায়ের গর্ভকালীন এবং শিশুর জন্ম পরবর্তী দুই বছর এ সময়কে ‘গোল্ডেন থাউজ্যান্ড ডে’ বলা হয়।
এ সময়ে যদি পুষ্টি নিশ্চিত না হয়, তবে যে ক্ষতিগুলো হবে, তা অপূরণীয়। সরকারি উদ্যোগে প্রকল্প গ্রহণ করলে সেটি দীর্ঘমেয়াদি ও ফলপ্রসূ হবে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার বড় ভূমিকা রাখতে পারে। এ জন্য আনুষঙ্গিক অর্থসহায়তা, কৌশলগত প্রস্তুতি, দাতা ও অন্যান্য অংশীজন ভিত্তিতে সামগ্রিকভাবে অংশীদার নির্ধারণ করা খুবই জরুরি।
ড. রুহুল আমিন তালুকদার
জ্যেষ্ঠ নীতি উপদেষ্টা
আইএফপিআরআই
অনূর্ধ্ব-৫ বছর বয়সী শিশুদের পুষ্টির জন্য রাইট টু গ্রো কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে যে অনুশীলন হয়েছে, তা বেশ কার্যকর। খর্বকায় ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কমাতে পুষ্টি খাতে বিনিয়োগ করতে হবে। ইউনিয়ন পর্যায়ে পুষ্টির বরাদ্দ এবং এর মাধ্যমে কীভাবে উৎকর্ষ সাধন করা যায়, সে বিষয়ে দৃষ্টি দিতে হবে।
স্থানীয় সরকার পর্যায়ে যে আলোচনাগুলো শুরু হয়েছে, তা প্রতিষ্ঠানিকীকরণ করা দরকার। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন কার্যক্রম চালু রয়েছে। এখানে সরকারি ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। পর্যালোচনা করে তা সংযোজন–বিয়োজন করতে হবে।
জাতীয় পুষ্টি পরিষদের (বিএনএনসি) নেতৃত্বে উপজেলা পুষ্টি কমিউনিটি এবং জেলা পুষ্টি কমিউনিটি কীভাবে কাজ করবে, তার ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি হয়েছে। এই কাজটাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেলে আমাদের সীমাবদ্ধতাগুলো দূর করা সম্ভব হবে।
তবেই আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব।
মো. নাসির উদ্দিন
চেয়ারম্যান, গোলখালী ইউনিয়ন পরিষদ
গলাচিপা, পটুয়াখালী
দারিদ্র্য পুষ্টিহীনতার অন্যতম কারণ। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিশুরাই মূলত পুষ্টিহীনতায় ভোগে। আমাদের ইউনিয়নে যে বাজেট করি, সেখানে অল্প হলেও পুষ্টির জন্য বরাদ্দ রাখি।
রাইট টু গ্রোর উদ্যোগে শিশুদের পুষ্টির মানোন্নয়নে কার্যক্রম শুরু হয়। ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব অর্থায়নে ও এলাকার সচ্ছল মানুষদের সহযোগিতায় আমরা খর্বকায় শিশুদের বাছইকরণ ও পুষ্টির অভাব পূরণে কাজ করছি।
স্থানীয় সরকারের সর্বশেষ পর্যায় ইউনিয়ন পরিষদ। স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে এবং ইউনিয়ন পরিষদকে শক্তিশালী করার মধ্য দিয়েই অনূর্ধ্ব-৫ বছরের শিশুদের পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করা যাবে।
দৈহিক ও মেধাবিকাশে পুষ্টির কোনো বিকল্প নেই। সে ক্ষেত্রে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে শিশুদের জন্য বাজেট রাখার বিশেষ অনুরোধ রইল। শিশুদের নিয়ে এই চিন্তাচেতনা বাস্তবায়িত হলে তা আগামীর সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে সহায়ক হবে।
উৎপল বসাক
প্রশাসনিক কর্মকর্তা, মাঘুরাঘুনা ইউনিয়ন
ডুমুরিয়া, খুলনা
২০২১-২২ অর্থবছরে ডুমুরিয়ায় রাইট টু গ্রো কাজ শুরু করে। ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও শিশুপুষ্টি উন্নয়নে পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে কাজ করছে।
আমাদের ইউনিয়নে ২০২২-২৩ অর্থবছরে অপুষ্টিতে আক্রান্ত ১ হাজার ৮০০ শিশুর জন্য প্রথমবারের মতো পুষ্টি খাতে বরাদ্দ রাখা হয়, যা পুষ্টি প্যাকেজ, মনি মিক্স, এএনসি-পিএনসি ভিজিট নিশ্চিতে যাতায়াত ভাতা প্রদান ইত্যাদি খাতে ব্যয় করা হয়। এই শিশুরা পরবর্তী সময়ে আর অপুষ্টিতে ভুগছে কি না, সেটি নিয়মিত ফলোআপ করা হতো।
এই অভিজ্ঞতা থেকে আমাদের ইউনিয়নে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আগের বরাদ্দকে তিন গুণ করা হয়। আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৫ গুণ বরাদ্দ রাখা হয়। পুষ্টি খাতে অর্থ ব্যয়ের গুরুত্ব রাইট টু গ্রো আমাদের বুঝিয়েছে।
জাতীয় বাজেটেও যদি এমন বরাদ্দ রাখা হয় এবং এই বরাদ্দ যদি যথাযথ ব্যয় হয়, তবে ১০ বছর পর এর চমৎকার সুফল পাওয়া যাবে।
মোহাম্মদ ইকবাল আজাদ
টিম লিড, রাইট টু গ্রো কান্ট্রি কনসোর্টিয়াম বাংলাদেশ, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন
রাইট টু গ্রো কর্মসূচি ছয়টি অান্তর্জাতিক সংস্থা ম্যাক্স ফাউন্ডেশন, সেভ দ্য চিলড্রেন, দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট, অ্যাকশান এগেইনস্ট হাঙ্গার, ওয়ার্ল্ড ভিশন ও সিগা এবং তিনটি স্থানীয় সংস্থার সমন্বয়ে পরিচালিত একটি অ্যাডভোকেসি কনসোর্টিয়াম, যা ডাচ সরকারের অর্থায়নে বাংলাদেশে ২০২১ সাল থেকে কাজ করছে। ম্যাক্স ফাউন্ডেশনের নেতৃত্বে পরিচালিত এই কনসোর্টিয়াম উপকূলীয় ৪ জেলার ৪০টি ইউনিয়নে অনূর্ধ্ব–৫ বছর বয়সী ৩০ হাজার ৫০০ শিশুর ওপর গবেষণা করেছে, যেখানে দেখা যায় শিশুর পুষ্টিতে বিনিয়োগের সঙ্গে খর্বকায়তা হ্রাসের ইতিবাচক যোগসূত্র রয়েছে।
কয়েক দশকের উল্লেখযোগ্য চেষ্টার পরও দেশের এক-চতুর্থাংশ শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে। অপুষ্টি মোকাবিলা করা শুধু শিশুদের বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা প্রদানই নয় বরং দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কল্যাণের ধারা চলমান রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য রাইট টু গ্রো স্থানীয় সরকার ও জাতীয় বাজেটে অনূর্ধ্ব–৫ শিশুদের জন্য পুষ্টি বাজেট রাখার অনুরোধ করছে।
সুপারিশ
অনূর্ধ্ব-৫ বছরের শিশুদের সঠিক ও সমন্বিত পুষ্টি নিশ্চিতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও জাতীয় পর্যায়ে বাজেট বরাদ্দ রাখা।
অনূর্ধ্ব-৫ বছরের শিশুদের জাতীয় নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনা।
স্থানীয় সরকার পর্যায়ে কাজ গতিশীল রাখতে নিয়মিত মনিটরিং জোরদার করা।
শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্বাস্থ্য ও পুষ্টির সঙ্গে সম্পৃক্ত মন্ত্রণালয়সমূহের সম্মিলিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা ।
স্থানীয় পর্যায়ে উপাত্ত সংগ্রহের ক্ষেত্রে নতুন করে দক্ষ লোকবল নিয়োগ দেওয়া।
শিশুদের জন্য মানসম্মত পুষ্টি নিশ্চিতকরণে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পৃক্ততার উদ্যোগ গ্রহণ।
সুবিধাবঞ্চিত, প্রতিবন্ধী ও অন্যান্য শিশুর প্রত্যেকের চাহিদা অনুসারে আলাদা বরাদ্দ নিশ্চিত করা।
এ ছাড়া আরও অংশগ্রহণ করেন তানিয়া শারমিন, পরিচালক, সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশ; জমিরুল ইসলাম, ডেপুটি ডিরেক্টর, দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট; গোলাম রহমানী কোরায়শী, প্রকল্প বিশেষজ্ঞ, পিএমইউ-রাইট টু গ্রো, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ; হোসনে আরা হাসি, চিফ এক্সিকিউটিভ, জাগো নারী; মো. কাউসার আলম, হেড অব ডিপার্টমেন্ট-ওয়াশ, অ্যাকশন অ্যাগেইনস্ট হাঙ্গার; মো. জাফর উল্লাহ খান, অ্যাডভাইজার-পলিসি অ্যাডভোকেসি, সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশ; তাওফিকুল ইসলাম, প্রকল্প ম্যানেজার, রাইট টু গ্রো, সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশ; মো. আবদুল মান্নান, প্রকল্প ইন চার্জ, রাইট টু গ্রো, এইচএলপি ফাউন্ডেশন; জগন্ময় প্রজেস বিশ্বাস, প্রকল্প কর্মকর্তা, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ; অহিদুল ইসলাম, হেড অব প্রোগ্রাম ডিজাইন অ্যান্ড কোয়ালিটি, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ; কুমকুম সাজিয়া কুতুবুদ্দিন, এইচআর অপারেশনস ও প্রকিউরম্যান্ট অ্যাডভাইজার; মো. আমাদ উদ্দিন চৌধুরী, সিনিয়র ম্যানেজার, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ; ফয়সাল আহমেদ, প্রকল্প ম্যানেজার, রাইট টু গ্রো; মিথুন গুপ্তা, প্রোগ্রাম ম্যানেজার, হেলদি ভিলেজ ইন আরবান; মো. মিজানুর রহমান, ম্যানেজার, মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ। সঞ্চালনা করেন ফিরোজ চৌধুরী, সহকারী সম্পাদক, প্রথম আলো।