মিতব্যয়ী বোলিং করেছেন মোস্তাফিজুর রহমান
মিতব্যয়ী বোলিং করেছেন মোস্তাফিজুর রহমান

দিল্লির জয়ের দিন ‘দুর্ভাগা’ মোস্তাফিজ

তখনো দিল্লি ক্যাপিটালস ইনিংসের পঞ্চম ওভার শেষ হয়নি। কলকাতা নাইট রাইডার্স অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ারের তখন মাথায় হাত। দিল্লির ব্র্যাবোর্ন স্টেডিয়ামে টসে জিতে দিল্লিকে ব্যাটিংয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্তটা হয়তো ভুল মনে হচ্ছিল শ্রেয়াসের। দিল্লির দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ডেভিড ওয়ার্নার ও পৃথ্বী শ ব্যাটিং পাওয়ারপ্লেতেই তুলেছেন ৬৮ রান!

সেই ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে দিল্লি ২০ ওভারে করে ৫ উইকেটে ২১৫ রান। বাকি কাজটা করেছেন দিল্লির বোলাররা। রান তাড়ায় ১৭১ রানে থেমেছে কলকাতার ইনিংস। ৪৪ রানের জয়ের দিন বাঁহাতি রিস্ট স্পিনার কুলদীপ যাদব ছিলেন দিল্লির সেরা বোলার। ৪ ওভারে ৩৫ রান নিয়ে ৪ উইকেট শিকার করেছেন তিনি। মিতব্যয়ী বোলিং করেছেন মোস্তাফিজুর রহমান। ৪ ওভার করে কোনো উইকেট না পেলেও রান দিয়েছেন মাত্র ২১।

৪ ওভার করে কোনো উইকেট না পেলেও রান দিয়েছেন মাত্র ২১

অথচ ইনিংসের প্রথম ওভারেই কলকাতার উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান অজিঙ্কা রাহানের উইকেট পেতে পারতেন মোস্তাফিজ। প্রথম বলে কট বিহাইন্ড হয়ে রিভিউ নিয়ে রক্ষা পেয়েছেন। দ্বিতীয় বলে এলবিডব্লুর আবেদনে আম্পায়ার সাড়া দিলেও এবারও রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান রাহানে। তৃতীয় বলেও কট বিহাইন্ড হয়েছেন, কিন্তু দিল্লির কেউই আউটের আবেদন করেননি। পরে রিভিউতে দেখা গেছে বল উইকেটকিপারের কাছে যাওয়ার আগে রাহানের ব্যাট ছুঁয়ে গেছে। সেই দুর্ভাগ্য ইনিংসের শেষ পর্যন্ত হানা করেছে মোস্তাফিজকে। বেশ কয়েকবার মোস্তাফিজের বলে ক্যাচ উঠেছে, কিন্তু বল পড়েছে ফাঁকা জায়গায়।

তবে ভাগ্য ভালো ছিল আরেক বাঁহাতি পেসার খলিল আহমেদের। মোস্তাফিজ ও শার্দুল ঠাকুরের ভালো বোলিংয়ের ফল পেয়েছেন তিনি। রান রেটের সঙ্গে পাল্লা দিতে কলকাতার ব্যাটসম্যানরা খলিলের বলেই দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু মারতে গিয়ে উল্টো খলিলের বলে আউট হয়েছেন কলকাতার তিন ব্যাটসম্যান। ৪ উইকেট নিয়ে খলিলকে ছাড়িয়ে গেছেন কুলদীপ। ৩৩ বলে ৫৪ রান করে ভয়ংকর হয়ে ওঠা শ্রেয়াসকে আউট করে উইকেটের খাতা খোলেন তিনি। বাকি ৩টিই এসেছে ইনিংসের ১৬তম ওভারে। শেষ পর্যন্ত ১৯.৪  ওভারে ১৭১ রানে থেমেছে কলকাতার ইনিংস।

৪৪ রানে জিতেছে দিল্লি

এর আগে বিকেলে মুম্বাইয়ের পুরোনো স্টেডিয়ামে চার-ছক্কার বৃষ্টি নামিয়েছেন ওয়ার্নার-শ জুটি। দুজন মিলে উদ্বোধনী জুটিতে যোগ করেন ৯৩ রান। বরুণ চক্রবর্তীর বলে শ বোল্ড হওয়ার আগে ২৯ বল খেলে করেছেন ৫১ রান। ৭টি চার ও ২টি ছক্কা ছিল শ’র ইনিংসে। এবারের আইপিএলে এটি শ’র টানা দ্বিতীয় অর্ধশত, কলকাতার বিপক্ষে পঞ্চম। সব কটিই এসেছে সর্বশেষ ৭ ইনিংসে।

ইনিংসের নবম ওভারে পৃথ্বী শ আউট হলেও ওয়ার্নার টিকে ছিলের মাঝের ওভার অবধি। ঋষভ পন্তের সঙ্গে জুটি গড়ে ওভারপ্রতি দশের বেশি রানরেটে রান তুলতে থাকেন ওয়ার্নার। দুজনের ৫৫ রানের জুটিটি আসে চোখের পলকে। আন্দ্রে রাসেলের বলে ১৪ বলে ২৭ রান করে পন্ত আউট হওয়ার পর ছোটখাটো ধস নামে দিল্লির মিডল অর্ডারে।

অর্ধশতক পেয়েছেন ওয়ার্নার-শ

সুনীল নারাইনের পরপর দুই ওভারে আউট ললিত যাদব ও রভম্যান পাওয়েল। ১০ রানের ব্যবধানে দুই উইকেট পতনের পর বড় ধাক্কাটা আসে ১৭তম ওভারে ওয়ার্নারের বিদায়ে। ৪৫ বলে ৬টি চার ও ২টি ছক্কায় ৬১ রান করে একটু অসময়েই আউট হন তিনি। ডেথ ওভারে দুই বোলিং অলরাউন্ডার অক্ষর প্যাটেল (২২), শার্দূল ঠাকুর (২৯) কেমন করেন সেটাই ছিল দিল্লির দুশ্চিন্তা। কিন্তু দেখা গেল দুজন মিলে ইনিংসের শেষ দুই ওভারে যোগ করেন ৩৯ রান। শেষের ঝড়ে দিল্লির রান গিয়ে ঠেকে ২১৫ রানে।