আগের ম্যাচে আফিফ হোসেন ও মেহেদী হাসানের সপ্তম উইকেট জুটিই ভেঙেছিল বেশ কয়েকটি রেকর্ড। আজ বাংলাদেশ জিতল লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিমের তৃতীয় উইকেটে ২০২ রানের জুটিতে ভর করে। শেষ পর্যন্ত ৮৮ রানের বড় জয়ে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে রানের হিসাবে বাংলাদেশের এটি তৃতীয় বৃহত্তম জয়। এ ম্যাচে ভেঙেছে আরও কিছু রেকর্ড।
৬
২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দেশের মাটিতে সর্বশেষ দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ হেরেছিল বাংলাদেশ। এরপর জিতল টানা ৬টি সিরিজ। এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো দেশের মাটিতে টানা ৬টি সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। ২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওই সিরিজ হারের আগেই জিতেছিল টানা ৬টি।
সেরা
লিটন-মুশফিকের জুটির ২০২ রান তৃতীয় উইকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ। আগের সর্বোচ্চ জুটিতেও ছিলেন মুশফিক। ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুরে তামিম ইকবালের সঙ্গে মুশফিকের জুটিতে উঠেছিল ১৭৮ রান। আগে ব্যাটিং করে বাংলাদেশ তুলেছিল ৩২৯ রান, জিতেছিল ৭৯ রানে।
সব মিলিয়ে ওয়ানডেতে পঞ্চমবার বাংলাদেশের কোনো জুটি ২০০ পেরোল। এ সংস্করণে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ জুটি লিটন ও তামিমের। ২০২০ সালের মার্চে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিলেটে প্রথম উইকেটেই ২৯২ রান তুলেছিলেন দুজন।
দ্রুততম
আগের ম্যাচে শুরুতেই আউট হয়ে গিয়েছিলেন লিটন দাস, আজ যেন ফিরলেন ‘স্বরূপে’। ১৩৬ রানের ইনিংস খেললেন ১২৬ বলে। সর্বশেষ ৫ ম্যাচে লিটনের এটি দ্বিতীয় শতক, সব মিলিয়ে ক্যারিয়ারে পঞ্চম। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে লিটন আজ খেললেন ৪৯তম ইনিংস। বাংলাদেশের হয়ে পাঁচ বা এর বেশি শতক আছে মোট চারজনের। তবে পঞ্চম শতকটি ইনিংসের হিসেবে দ্রুততম সময়ে পেলেন লিটনই। ওয়ানডেতে পাঁচটি শতক পেতে সাকিব আল হাসানের লেগেছে ৯৩ ইনিংস, তামিম ইকবালের লেগেছে ১৪১ ইনিংস, মুশফিকের লেগেছে ১৬৩ ইনিংস।
১৩০০০
শতক থেকে ১৪ রান দূরেই থেমেছেন, তবে মুশফিকুর রহিম ঠিকই ছুঁয়েছেন মাইলফলক। বাংলাদেশের দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৩ হাজার রান পূর্ণ করলেন তিনি। দ্বিতীয় ওয়ানডের পর তাঁর রান ১৩০০৮। এ তালিকায় সবার ওপরে আছেন তামিম ইকবাল, তাঁর রান ১৪ হাজার ১৭৫ রান। ১৩ হাজারের কাছাকাছি আছেন সাকিব আল হাসান, দ্বিতীয় ওয়ানডের পর তাঁর রান ১২ হাজার ৫৫৩।
৩০৬/৪
চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে দ্বিতীয়বারের মতো ওয়ানডেতে দেখা গেল ৩০০ রানের স্কোর। প্রথম ৩০০ রানের স্কোরটি এসেছিল ২০০৬ সালে, বাংলাদেশের বিপক্ষে আগে ব্যাট করে শ্রীলঙ্কা করেছিল ৭ উইকেটে ৩০৯ রান।
১৬২
আগের দিন ২ উইকেট নিয়েই গ্লেন ম্যাকগ্রাকে ছুঁয়েছিলেন। আজ আরও ২ উইকেট নিয়ে দেশের মাটিতে সবচেয়ে বেশি উইকেটের তালিকায় তাঁকে ছাড়িয়ে গেলেন বাংলাদেশের বাঁহাতি স্পিনার। দেশের মাটিতে সাকিবের উইকেট এখন ১৬২। এ তালিকায় সবার ওপরে দক্ষিণ আফ্রিকার শন পোলক (১৯৩)। এরপর ১৬৯ উইকেট নিয়ে আছেন অস্ট্রেলিয়ার ব্রেট লি।
৩৩
আজ আফগানিস্তান বোলাররা করেছেন ১৮টি ওয়াইড, লেগ বাই থেকে এসেছে ১১ রান, বাই থেকে আরও ৪ রান। সব মিলিয়ে ৩৩ রানই এসেছে অতিরিক্ত থেকে। আফগানিস্তানের ইতিহাসে ইনিংসে এর চেয়ে বেশি অতিরিক্ত আছে আর দুইবার—২০১৯ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কার্ডিফে ৩৯টি অতিরিক্ত এসেছিল আফগানিস্তানের বোলিং ইনিংসে। ২০১০ সালে কানাডার বিপক্ষে ম্যাচে আফগানিস্তান অতিরিক্ত রান দিয়েছিল ৩৪টি।