
টস হওয়ার কয়েক সেকেন্ড আগেও শরীফুল ইসলাম জানতেন, তিনি একাদশে নেই। কিন্তু হুট করেই ডান হাঁটুতে অস্বস্তি অনুভব করেন মোস্তাফিজুর রহমান। তাঁর জায়গায় একাদশে সুযোগ পেয়ে যান শরীফুল। সুযোগটা কাজেও লাগান।
প্রথম ওয়ানডেতে তাঁকে দলের সেরা বোলারও বলা যেতে পারে। ১০ ওভারে মাত্র ২৭ রান দিয়েই যে ২ উইকেট নিয়েছিলেন এই বাঁহাতি পেসার।
দ্বিতীয় ওয়ানডের আগে দলের প্রতিনিধি হয়ে তিনি এসেছেন সংবাদ সম্মেলনেও। তিনি ভালো বোলিং করলেও ২৬ রানে ম্যাচটা হেরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচটা তাই শরীফুলদের জন্য হয়ে গেছে সিরিজ বাঁচানোর লড়াই।
বাঁহাতি পেসার আজ মিরপুরে শোনালেন আশার কথাই, ‘এখনো আমাদের হাতে দুইটা ম্যাচ আছে। আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর মতো সামর্থ্য আছে। একটা ম্যাচে হয়তো আমরা ভুল করেছি। তারা অবশ্যই ভালো দল, আমরাও ভালো দল। পরের ম্যাচেই ঘুরে দাঁড়াব।’
সেই ম্যাচে শরীফুল খেলবেন কি না, তা নিয়েও এখন মধুর সমস্যায় পড়তে হবে টিম ম্যানেজমেন্টকে। কারণ, ১৬ মাস পর ওয়ানডেতে ফেরা শরীফুল যাঁর জায়গায় খেলেছেন, সেই মোস্তাফিজ এখন পুরোপুরি ফিট। একাদশে থাকবেন কি না, সেই ভারটা অবশ্য শরীফুল তুলে দিয়েছেন টিম ম্যানেজমেন্টের কাঁধেই।
শরীফুল বলেছেন, ‘পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে যে ১৫ জন স্কোয়াডে আছি, সবাই তৈরি থাকি ম্যাচ খেলতে। এখন সিদ্ধান্ত কোচ নেবে। এটা তো আমার হাতে কিছু নেই। যে দল দেবে, আমরা তা নিয়েই মাঠে নামব।’
দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে হলে ব্যাটসম্যানদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। প্রথম ওয়ানডেতে ২৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও ২২১ রানে অলআউট হয়ে গেছে বাংলাদেশ। তাদের ওপর অবশ্য কোনো দায় দিতে রাজি নন শরীফুল।
ব্যাটিং ব্যর্থতা নিয়ে শরীফুল আর কী বলবেন, শুধু বললেন, ‘হেরে গেলে আমাদেরও খারাপ লাগে ব্যাটসম্যানদেরও খারাপ লাগে।’
বরং ব্যাটসম্যানদের দায় কমাতেই হয়তো আরও ভালো বোলিং করার তাগিদ অনুভব করছেন, ‘আমরা যদি আরেকটু ভালো বোলিং করতাম, হয়তো তাদের জন্য সহজ হতো। পরের ম্যাচে ব্যাটসম্যানরা খুব ভালো করবে, আমাদের সমর্থন দেবে। আমরাও তাদের সাপোর্ট দেব দলগতভাবে আমরা ম্যাচ জিতব। ক্রিকেট খেলায় এ রকম আসেই এক বিভাগ ভালো করে, অন্য বিভাগ ব্যর্থ হয়। এটা নিয়ে আমরা আশাবাদী যে পরের ম্যাচে ভালো করব।’
সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ আগামীকাল বেলা ১১টায়।