
২০১২ এশিয়া কাপের ফাইনালটা দেখেছিলেন দর্শক হয়ে। গত এশিয়া কাপের ফাইনালও দেখেছেন দর্শক হয়ে। মেহেদী হাসান মিরাজের হয়তো এবার আর দর্শক হয়ে এশিয়া কাপ দেখতে হবে না। যদি সুযোগ পান, তরুণ স্পিনার চান অতীতের যন্ত্রণা ভুলতে।
এশিয়া কাপের দলে মেহেদী হাসান মিরাজ থাকবেন কি না, সেটি এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন। আবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে যে বোলিং করেছেন, তাতে ধরে নেওয়া যায় ২০ বছর বয়সী অফ স্পিনার প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপ খেলার স্বপ্ন দেখতেই পারেন।
সব প্রথমের আলাদা একটা রোমাঞ্চ থাকে। মিরাজেরও আছে। আগে কখনো এই টুর্নামেন্ট খেলার সুযোগ হয়নি। ২০১৬ সালে এশিয়া কাপ যখন বাংলাদেশে হলো মিরাজ তত দিনে বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের সীমানা পেরোলেও জাতীয় দলের দরজায় পা রাখতে পারেননি। তবে টি-টোয়েন্টি সংস্করণে হওয়া ২০১৬ এশিয়া কাপের ফাইনাল দেখেছেন মাঠে বসেই। দর্শক হয়ে দেখা সেই ফাইনাল হার ভুলতে পারেন না। তবে বাংলাদেশের আর সবার মতো মিরাজকে বেশি পোড়ায় ২০১২ সালের এশিয়া কাপের ফাইনালের হারটা, ‘ম্যাচটা দেখেছিলাম বরিশালে আমার দাদার বাড়িতে বসে। কী যে কেঁদেছিলাম!’ সেই যন্ত্রণা ভোলার দারুণ সুযোগ আসতে পারে মিরাজের সামনে। তিনি পারবেন পুরোনো কান্নাকে হাসিতে রূপান্তর করতে? ‘জাতীয় দলে আসার পর অনেকগুলো ম্যাচ একটুর জন্য হারের অভিজ্ঞতা হয়েছে। গত নিদাহাস ট্রফির ফাইনাল, দেরাদুনে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ম্যাচটা, গত মাসে গায়ানায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে। খুব কাছে গিয়ে হেরে অনেক কেঁদেছি। এবার হাসতে চাই’—আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে বলছেন মিরাজ।
মিরাজের সামনে প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপ খেলার হাতছানি হলেও আরব আমিরাতে খেলার অভিজ্ঞতা আছে তাঁর। মরুর দেশে ২০১৪ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলেছেন দলের অধিনায়ক হিসেবে। চার বছর আগের অভিজ্ঞতা ভালোই কাজে দেবে বলে মনে করেন তরুণ স্পিনার, ‘এটা আমার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। জাতীয় দলের হয়ে এশিয়া কাপ খেলিনি। লক্ষ্য থাকবে ভালো কিছু করার। আর এশিয়া কাপ যেহেতু আরব আমিরাতে। যদি সুযোগ পাই তাহলে অবশ্যই শতভাগ দেওয়ার চেষ্টা করব। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলেছি ওখানে, উইকেট সম্পর্কে একটু হলেও ধারণা আছে। সব ঠিক থাকলে ভালো করার চেষ্টা করব।’
এশিয়া কাপে যদি সুযোগ পান, ব্যক্তিগত লক্ষ্য কী থাকবে, সেটি অবশ্য বলতে চান না মিরাজ। শুধু বললেন দলের প্রয়োজনে যেটা করতে হবে সেটি করতে তিনি রাজি, ‘দলের প্রয়োজনে যখন যেটা করতে হবে, সেটা করাই আমার লক্ষ্য। পাওয়ার প্লেতে বোলিং করতে হলে কীভাবে ব্যাটসম্যানকে আটকে রাখব, উইকেট বের করতে পারব, ইনিংসের মাঝের ওভারগুলোয় কীভাবে বোলিং করব, এভাবে পরিকল্পনা করে সাধারণত বোলিং করি। এবারও সেটিই করব। ব্যক্তিগত কোনো লক্ষ্য নেই যে এটা করব বা সেটা করব। এমন কোনো চিন্তা নেই। বাড়তি কোনো চাপ নিতে চাই না। দলের চাহিদা বুঝে ভালো খেলতে চাই।’
বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে মিরাজের পরিচিতি ছিল ব্যাটিং অলরাউন্ডার হিসেবে। সেই তিনিই এখন আন্তর্জাতিক খেলছেন বিশেষজ্ঞ অফ স্পিনার হিসেবে। মিরাজের ব্যাটিং সত্তা কি তবে আড়াল হয়ে গেল? মিরাজ কিছু বাস্তবতা তুলে ধরলেন, ‘যখন ব্যাট করতে নামি, তখন দলের হয়তো প্রয়োজন ১০-১৫ রান। অনেক সময় ৩০ রান দরকার থাকে। এ সময় ১০-১৫ কিংবা ২০ রানের ইনিংস অনেক গুরুত্বপূর্ণ। চেষ্টা করব ভালো কিছু করার, সেখানে কীভাবে ভালো করা যায়, সেটা নিয়ে কাজ করছি। আশা করি ভালো কিছু হবে।’