ব্যাট হাতে একেবারেই ফর্মে নেই সাকিব।
ব্যাট হাতে একেবারেই ফর্মে নেই সাকিব।

কী হয়েছে সাকিবের?

অনুশীলনে চেষ্টার কমতি রাখেননি। বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের আগে অনুশীলনের বেশির ভাগ সময়ই ব্যয় করেছেন ব্যাটিংয়ে। কিন্তু মাঠে এর ফল পাচ্ছেন না সাকিব আল হাসান। টুর্নামেন্টে ৮ ম্যাচ খেলে তাঁর ব্যাট থেকে রান এসেছে মাত্র ৮২। বোলিংয়ে নিয়েছেন ৫ উইকেট।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটটা বাংলাদেশে সাকিবের চেয়ে ভালো বোঝার কথা নয় কারওই। এই টুর্নামেন্টেই সাকিব টি-টোয়েন্টিতে নিজের পাঁচ হাজার রান পূর্ণ করেছেন। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি তো আছেই, বিশ্বের প্রায় সব ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগেই খেলেছেন তিনি। আর বিদেশি ক্রিকেটাররা না খেলায় মানের দিকে বিপিএল থেকেও পিছিয়ে থাকবে বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ। এরপরও কেন এখানে আপন আলোয় জ্বলে উঠতে পারবেন না সাকিব?

আপন আলোয় জ্বলতে পারছেন না সাকিব।

৮ ইনিংসে একবারও ২০-এর ঘরে যেতে পারেননি। চারবার আউট হন এক অঙ্কের ঘরে। স্পিন, পেস-সব বলেই ভুগেছেন সাকিব। পেসারদের বলে আউট হয়েছেন চারবার, স্পিনারদের বলেও তা-ই। ছয়বারই আউট হন আকাশে বল তুলে, একবার বোল্ড, একবার বল স্টাম্পে টেনে। বড় শট খেলতে গিয়েই যত গড়বড় করছেন সাকিব।

লিগ পর্বের সব ম্যাচেই সাকিবের ব্যাটিং পজিশন নিয়ে ছিল ধোঁয়াশা। প্রথম দুই ম্যাচে ৩ নম্বরে নেমেছেন। এরপরের দুই ম্যাচে সাকিব খেলেন ওপেনার হিসেবে। পরে খেলেছেন মিডল অর্ডারে। সাফল্য আসেনি কোনো জায়গা থেকেই।

এক বছর ক্রিকেটের বাইরে থাকায় আত্মবিশ্বাসে মরচে ধরেছে সাকিবের?

টি-টোয়েন্টির ব্যাটিং নিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী সাবেক ইংলিশ ব্যাটসম্যান কেভিন পিটারসেনের কথা, ‘নিজেকে ১০ বল দাও। ১০ বলে দু-একটি বাউন্ডারির বল পাবে। সেটি কাজে লাগালে দেখবে ১০ বলে ১২ রান এসে গেছে। তুমি ততক্ষণে উইকেটে থিতুও হলে। এরপর দিনটা তোমার হলে বড় ইনিংস আসবে। না হলে আউট।’

এই প্রক্রিয়া মেনে টি-টোয়েন্টি খেলেন বিশ্বের অধিকাংশ টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানই। সাকিবও ব্যতিক্রম নন। বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টিতেও প্রায় প্রতি ম্যাচেই সাকিব নিজেকে গড়ে অন্তত ১০টি বল দিয়েছেন। এর মধ্যে কিছু বাউন্ডারিও পেয়েছেন। কিন্তু এরপরই ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হয়ে যাচ্ছেন বাউন্ডারি লাইনে। এখন পর্যন্ত ৮ ইনিংসে সাকিবের ব্যাট থেকে এসেছে মাত্র একটি ছক্কা। আর ছক্কা মারার চেষ্টায় আউট হয়েছেন ছয়বার।

সাকিবের টানা ব্যর্থতায় অবশ্য খুব একটা চিন্তিত নন জাতীয় দলের নির্বাচক হাবিবুল বাশার। তাঁর ধারণা, হাত আর চোখের সমন্বয়টা একবার ঠিক হয়ে গেলেই সাকিবের শটগুলো বাউন্ডারি ছাড়া হতে শুরু করবে। আইসিসির নিষেধাজ্ঞায় লম্বা সময় ক্রিকেটের বাইরে থাকায়ও বল বাউন্ডারি ছাড়া করার আত্মবিশ্বাসে মরচে ধরতে পারে। হাবিবুল সেই আশঙ্কাও উড়িয়ে দেননি, ‘এই সমন্বয়টা গুরুত্বপূর্ণ। সাকিব খুবই আত্মবিশ্বাসী ছেলে। তবে অনেক দিন পর খেলায় ফিরলেও সবার প্রত্যাশা ছিল, সে ফিরেই ১০০ করবে। নামের চাপ তো ওর ওপর সব সময়ই থাকে।’

টুর্নামেন্টের সংস্করণটা টি-টোয়েন্টি হওয়াতেই হয়তো সাকিবের চেনা রূপে ফেরা কঠিন হচ্ছে। প্রতি ম্যাচেই দ্রুত রান করার চাপ নিয়ে নামতে হচ্ছে তাঁকে। টি-টোয়েন্টির জায়গায় ওয়ানডে বা টেস্ট হলে নিজেকে মেলে ধরার সময় পেতেন। হাবিবুল বলছিলেন, ‘টি-টোয়েন্টিটা ওর ফেরার জন্য আদর্শ নয়। ওয়ানডে কিংবা টেস্ট ক্রিকেট হলে হয়তো ফেরাটা একটু সহজ হতো। এখানে দলের চাওয়া থাকে ক্রিজে গিয়েই মারা। নিজেরও তাগাদা

থাকে দ্রুত রানের। এক বছর পর এটা করা একটু কঠিন।’

পুরোনো রূপে ফিরতে সাকিবের দরকার একটি বড় ইনিংস, টি-টোয়েন্টিতে যেটি সহজ নয় মোটেও। কে জানে, হয়তো বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টির প্লে-অফের জন্যই বড় ইনিংসটি জমা রেখেছেন তিনি! হাবিবুলও সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিলেন না, ‘বড় ক্রিকেটাররা সাধারণত বড় মঞ্চেই ভালো খেলে।’