বিরাট কোহলির সেঞ্চুরি-খরা সম্ভবত সময়ের ক্রিকেটে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি। এক সময়ে যার সেঞ্চুরি ছিল ক্রিকেটে সবচেয়ে নিয়মিত ছবির একটি, সেই কোহলির ব্যাটই প্রায় দুই বছরে টেস্টে তিন অঙ্কের দেখা পায়নি একবারও।
একেবারে রান পাচ্ছেন না কোহলি, এমন নয়। মাঝেমধ্যে ফিফটি ঠিকই পাচ্ছেন। কিন্তু বড় স্কোর আসছে না ভারত অধিনায়কের ব্যাট থেকে। তাঁর এই সেঞ্চুরি-খরা অধিনায়কত্বের চাপ থেকেই কি না, এ নিয়েও আলোচনা হচ্ছে অনেক। নেতৃত্বের চাপ কোহলিকে ব্যাটিংয়ে পুরো মনোযোগ দিতে দিচ্ছে না, এমন বিশ্লেষণ শোনা যাচ্ছে প্রায়ই। এমনকি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর কোহলি ভারতের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির অধিনায়কত্ব থেকে সরে যাবেন, এমন গুঞ্জনও উঠেছে।
তবে ভারতের কিংবদন্তি অধিনায়ক কপিল দেবের চোখে, কোহলির এই সেঞ্চুরি-খরার সঙ্গে অধিনায়কত্বের চাপের সম্পর্ক নেই। কোহলি একবার ছন্দ খুঁজে পেলে শুধু সেঞ্চুরিই নয়, ট্রিপল সেঞ্চুরিই করবেন বলে মনে হচ্ছে কপিল দেবের।
কপিলের যুক্তিটা সহজ। অধিনায়কত্বের চাপই যদি কোহলির সেঞ্চুরি-খরার কারণ হবে, তাহলে অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর থেকে এত বছরে এত রান, এত সেঞ্চুরি কীভাবে করেছেন কোহলি! রেকর্ড-বই বলছে, অধিনায়ক হিসেবে ৬৫ টেস্টে ২০ সেঞ্চুরিসহ সাড়ে ৫ হাজারেরও বেশি রান করেছেন কোহলি। ওয়ানডেতে ৯৫ ম্যাচে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার রান করেছেন ২১ সেঞ্চুরিতে।
একবার যদি পুরোনো ছন্দে ফিরতে পারে, বিরাট তখন শুধু সেঞ্চুরি বা ডাবল সেঞ্চুরি করেই থামবে না, ও ৩০০ করবে!কোহলিকে নিয়ে ভারতের কিংবদন্তি অধিনায়ক কপিল দেব
ক্রিকেটবিষয়ক অনুষ্ঠান আনকাটে তাই কপিল বলছেন, ‘এত বছর ধরে ও যখন রান করছিল, তখন কেউই অধিনায়কত্ব বিরাটের ব্যাটিংয়ে প্রভাব ফেলা নিয়ে কিছুই বলেনি। এখন হঠাৎ করে ওর গ্রাফে একটু ওঠা-নামা আসতেই অনেক মত চলে আসছে। ও যখন ওই ডাবল সেঞ্চুরিগুলো করেছিল, এত সেঞ্চুরি করেছিল, তখন অধিনায়কত্বের চাপ ছিল না? এটার মানে হচ্ছে, ওর অধিনায়কত্ব করা-না করা নিয়ে এত আলোচনার দরকার নেই। বরং ও কী করতে পারে সেটি আলোচনার মূল বিষয় হওয়া উচিত।’
কোহলির ব্যাটে সেঞ্চুরি নিয়েও কথা বলেছেন কপিল। ১৯৮৩ বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় দলের অধিনায়কের মনে হচ্ছে, কোহলি যখন সেঞ্চুরিতে ফিরবেন, তখন শুধু ১০০ রানেই থামবেন না।
কপিলের চোখে, কোহলি এমন কিছু করবেন যেটা ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসে করতে পেরেছেন শুধু দুজন ব্যাটসম্যান—ট্রিপল সেঞ্চুরি!
‘(কোহলির) গ্রাফে অবশ্যই ওঠা-নামা হচ্ছে, কিন্তু সেটা কত দিন যাবে? ২৮ থেকে ৩২ বছর বয়সেই আপনি সত্যিকার অর্থে বিকশিত হতে শুরু করেন। ও এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি অভিজ্ঞ, অনেক বেশি পরিণত। একবার যদি পুরোনো ছন্দে ফিরতে পারে, বিরাট তখন শুধু সেঞ্চুরি বা ডাবল সেঞ্চুরি করেই থামবে না, ও ৩০০ করবে! ও এখন ব্যাটিংয়ে অনেক পরিণত, আর কোহলির ক্ষেত্রে ফিটনেস নিয়ে তো প্রশ্নই নেই। ওর শুধু নিজেকে একবার ফিরে পাওয়া দরকার, বড় স্কোরের পথ খুঁজে পাওয়া দরকার।’