
আজ ইংল্যান্ডের শেষ উইকেটটির পতন কি ঘটবে উইকেটের পেছনে? ক্যাচ গেলে সেটি কার কাছে যাবে? কে এল রাহুল, নাকি ঋষভ পন্ত? দুজনই যে আর একটি ক্যাচ ধরলে গড়বেন নতুন বিশ্ব রেকর্ড!
ব্যাট হাতে রীতিমতো শনির দশা চলছে। রাহুর দশা কাটাতে ব্যক্তিগত জ্যোতিষীর সঙ্গে কথাবার্তাও হয়তো সেরে রেখেছেন। তবে মাঠের খেলায় মাঠেই ফিরতে হবে ছন্দে। কে এল রাহুলকে অনুপ্রেরণা জোগাতে পারে একটি রেকর্ড। আজ আর একটি উইকেট তুলে নিলেই ট্রেন্টব্রিজ টেস্টটা জিতে যাবে ভারত। রাহুল তীর্থের কাকের মতো তাকিয়ে থাকবেন এই উইকেটের দিকে। না, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কখনোই বল হাতে না-নেওয়া রাহুলের উইকেটপ্রাপ্তির কোনো সংযোগ নেই। তবে যদি ক্যাচ ওঠে, আর সেটা তিনিই তালুবন্দী করতে পারেন, তাহলেই হয়ে যাবে বিশ্ব রেকর্ড!
এখন পর্যন্ত এই টেস্টে সাতটি ক্যাচ ধরেছেন। আউটফিল্ড খেলোয়াড় হিসেবে (উইকেটকিপার নন এমন) এক টেস্টে সর্বোচ্চ ৮টি ক্যাচ ধরার রেকর্ড আছে। ২০১৫ সালে সেই কীর্তি প্রথম করে দেখান রাহুলেরই সতীর্থ অজিঙ্কা রাহানে। ২০১৭ সালে তা স্পর্শ করেন এবি ডি ভিলিয়ার্স। সাতটি করে ক্যাচ ধরার ছয়টি রেকর্ড আছে। ষষ্ঠ কীর্তিটাই গড়লেন রাহুল। অবশ্য ইংল্যান্ডে কোনো টেস্টে সবচেয়ে বেশি ক্যাচ ধরার রেকর্ডটি এরই মধ্যে হয়ে গেছে তাঁর।
খেলোয়াড় | ক্যাচ | প্রতিপক্ষ | ভেন্যু | সাল |
অজিঙ্কা রাহানে | ৮ | শ্রীলঙ্কা | গল | ২০১৫ |
এবি ডি ভিলিয়ার্স | ৮ | জিম্বাবুয়ে | পোর্ট এলিজাবেথ | ২০১৭ |
গ্রেগ চ্যাপেল | ৭ | ইংল্যান্ড | পার্থ | ১৯৭৪ |
ইয়াজুরবীন্দ্র সিং | ৭ | ইংল্যান্ড | বেঙ্গালুরু | ১৯৭৭ |
হাশান তিলকারত্নে | ৭ | নিউজিল্যান্ড | কলম্বো | ১৯৯২ |
স্টিভেন ফ্লেমিং | ৭ | জিম্বাবুয়ে | হারারে | ১৯৯৭ |
ম্যাথু হেইডেন | ৭ | শ্রীলঙ্কা | গল | ২০০৪ |
কেএল রাহুল | ৭ | ইংল্যান্ড | ট্রেন্টব্রিজ | ২০১৮ |
রাহুলের সঙ্গে এই টেস্টে ক্যাচ ধরা নিয়ে তুমুল প্রতিযোগিতা হচ্ছে ঋষভ পন্তের। পন্তও ৭টি ক্যাচ নিয়েছেন। তবে উইকেটরক্ষকের ভূমিকায়। এই প্রথম কোনো টেস্টে একই দলের দুই খেলোয়াড় সাতটি করে ক্যাচ ধরার কীর্তি গড়লেন। পন্তকেও আসলে ডাকছে বিশ্ব রেকর্ড। অভিষেক টেস্টে সবচেয়ে বেশি ডিসমিসাল করা উইকেটকিপারের কীর্তি। একদিক দিয়ে বিশ্ব রেকর্ড হয়ে গেছে তাঁর। অভিষেক টেস্টে সাতটি ক্যাচ করার সর্বোচ্চ রেকর্ডই আছে পন্তসহ ছয়জনের। একটি ক্যাচ ধরলে নতুন বিশ্ব রেকর্ড হয়ে যাবে পন্তের নামে। শুধু ক্যাচ নয়, স্টাম্পিং করলেও বিশ্ব রেকর্ড ধরা দেবে তাঁকে। অভিষেক টেস্টে আটটি ডিসমিসালের কীর্তি আছে মাত্র দুজনের।
অভিষেকে সর্বোচ্চ ডিসমিসাল
খেলোয়াড় | ডিস. | ক্যা. | স্টা. | প্রতিপক্ষ | সাল |
ব্রায়ান টার্বার | ৮ | ৭ | ১ | দ. আফ্রিকা | ১৯৬৬ |
ক্রিস রিড | ৮ | ৭ | ১ | নিউজিল্যান্ড | ১৯৯৯ |
গিল ল্যাঙ্গলি | ৭ | ৩ | ৪ | উইন্ডিজ | ১৯৫১ |
আর্টি ডিক | ৭ | ৬ | ১ | দ. আফ্রিকা | ১৯৬১ |
অ্যালান নট | ৭ | ৭ | ০ | পাকিস্তান | ১৯৬৭ |
সেলিম ইউসুফ | ৭ | ৫ | ২ | শ্রীলঙ্কা | ১৯৮২ |
চামারা দুনুসিংহে | ৭ | ৭ | ০ | নিউজিল্যান্ড | ১৯৯৫ |
পিটার নেভিল | ৭ | ৭ | ০ | ইংল্যান্ড | ২০১৫ |
ঋষভ পন্ত | ৭ | ৭ | ০ | ইংল্যান্ড | ২০১৮ |
দল হিসেবেই দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ভারত। সিরিজও জমিয়ে তুলছে তারা। আজ শেষ দিনে উইকেটটা তুলে নিতে পারলেই ২-১ হয়ে যাবে। শেষ দুটি টেস্ট তখন জমবে বেশ।
ভারতের ঘুরে দাঁড়ানোর মূল কৃতিত্ব অবশ্যই অধিনায়ক কোহলির। তিনি শুরু থেকেই ভালো খেলে যাচ্ছেন। তবু ভারত পারছিল না। এর অন্যতম বড় কারণ ছিল পেসারদের জ্বলে উঠতে না পারা। এবার পেসাররা জুটি বেঁধে জ্বলে উঠলেন। এই টেস্টে যেমন দুর্দান্ত করলেন হার্দিক পান্ডিয়া আর জসপ্রীত বুমরা। পান্ডিয়া প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছেন। বুমরা নিলেন দ্বিতীয় ইনিংসে।
সেটি আবার ম্যাচের চতুর্থ ইনিংসও। ইংল্যান্ডে এর আগে একজন ভারতীয় পেসারই চতুর্থ ইনিংসে ৫ উইকেট নিতে পেরেছিলেন—ইশান্ত শর্মা।
এই টেস্টে আরও একটি অনন্য কীর্তি হয়েছে। এই প্রথম ম্যাচের চতুর্থ ইনিংসে প্রথম ৫ ব্যাটসম্যানের প্রত্যেকে কমপক্ষে দুই অঙ্ক ছুঁয়েছেন।