
বৃষ্টির কারণে কাল লর্ডস টেস্টের প্রথম দিনে বল মাঠে গড়ায়নি। এতে শচীন টেন্ডুলকারও লর্ডসের ঐতিহ্যবাহী ঘণ্টা বাজানোর সুযোগ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। লর্ডসে ঘণ্টা বাজিয়ে টেস্ট শুরুর প্রচলন রয়েছে।
ক্রিকেট ক্যারিয়ার নিয়ে শচীন টেন্ডুলকারের কোনো দুঃখ না থাকতেই পারে। টেস্ট ও ওয়ানডের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক এবং সর্বোচ্চসংখ্যক সেঞ্চুরিয়ান বলে কথা! তবে লর্ডস নিয়ে টেন্ডুলকারের আজীবন দুঃখ থেকে যাওয়াই স্বাভাবিক। ‘ক্রিকেট মক্কা’ খ্যাত এই কুলীন স্টেডিয়ামের অনার্স বোর্ডে যে তাঁর নাম নেই। এই মাঠে কোনো সেঞ্চুরিই পাননি তাই। টেন্ডুলকারের এই লর্ডস-দুঃখে কাল যোগ হলো আরেকটি আক্ষেপ। সে জন্য দায়ী বৃষ্টি।
ইংল্যান্ড-ভারত টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ কাল লর্ডসে শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বৃষ্টি হানা দেওয়ায় কাল টেস্টের প্রথম দিনে বল মাঠে গড়ায়নি। এদিকে প্রথমবারের মতো লর্ডসের বিখ্যাত ঘণ্টা বাজানোর অপেক্ষায় ছিলেন টেন্ডুলকার। এই ঘণ্টা বাজিয়ে খেলা শুরুর প্রচলন হয়েছে ২০০৭ সাল থেকে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার, ক্রিকেট সংগঠক কিংবা ক্রিকেটানুরাগীদের দিয়ে পাঁচ মিনিট এই ঘণ্টা বাজিয়ে খেলা শুরু করা হয় লর্ডসে। ১৯৯০ সালে লর্ডসে প্রথম টেস্ট খেলা এবং ২০১০ সালে এমসিসির আজীবন সম্মানিত সদস্যপদ পাওয়া টেন্ডুলকারকে এবার নিমন্ত্রণ করা হয়েছিল ঘণ্টা বাজানোর জন্য। কিন্তু বৃষ্টি তাঁকে সে সুযোগটা দেয়নি।
ব্যর্থ মনোরথে টেন্ডুলকার তাই ফিরে গেছেন নিজ দেশ ভারতে। লর্ডসে ঘণ্টা বাজাতে না পারার হতাশা তিনি টুইটারে জানিয়েছেন এভাবে, ‘আজ (কাল) দ্বিতীয় টেস্ট শুরু করতে ঘণ্টা বাজানোর সব আয়োজন প্রস্তুত ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে প্রকৃতি ভেবেছে অন্য কিছু। আশা করি বাকি চার দিনে লর্ডসে দারুণ ক্রিকেট লড়াই দেখা যাবে।’
লর্ডসে আজ দ্বিতীয় দিনেও ঘণ্টা বাজিয়ে খেলা শুরু হবে। ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক টেড ডেক্সটার আজ ঘণ্টা বাজাবেন। তবে কালকের মতো বৃষ্টি বাগড়া দিয়ে বসলে ডেক্সটারকেও হয়তো টেন্ডুলকারের ভাগ্য মেনে নিতে হবে। গত পাঁচ বছরের মধ্যে ইংল্যান্ডে কালই প্রথমবারের মতো টেস্টে গোটা একদিনের খেলা বৃষ্টির গর্ভে পতিত হয়েছে। আর লর্ডসে কোনো টেস্ট ম্যাচে গোটা দিনের খেলা বৃষ্টির কারণে সর্বশেষ পণ্ড হয়েছে ১৭ বছর আগে—২০০১ সালে ইংল্যান্ড-পাকিস্তান টেস্ট।