পাকিস্তানকে হারিয়েছি, অস্ট্রেলিয়াকেও হারাতে পারি - আফগান সাহস!

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বড় কিছু চায় আফগানিস্তান। ছবি: এএফপি
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বড় কিছু চায় আফগানিস্তান। ছবি: এএফপি
>দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি আফগানিস্তান। টসে জিতে দিবারাত্রির এই ম্যাচে ব্যাটিং নিয়েছে আফগানরা।

আফগানদের বুকের ছাতি ‘ছাপ্পান্ন ইঞ্চি’র। বুকের পাটা আছে বটে! ‘অস্ট্রেলিয়াকেও হারাতে পারি’ বলার জন্য সাহস তো লাগেই। আজ বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শুরু ম্যাচ নিয়ে আফগানদের কথাবার্তা শুনলে মনে হতে পারে, অস্ট্রেলিয়ার হলুদ জার্সির দিকে তাকিয়ে চোখে অন্তত সর্ষে ফুল দেখছে না তাঁরা। বরং তাদের অধিনায়ক গুলবদন নাইব তো এমনও বলছেন, ‘প্রস্তুতি ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়েছি। ক্রিকেটে যেকোনো দিন যেকোনো কিছু ঘটে যেতে পারে।’

এই ঘটে যাওয়া মানে অঘটন। আফনগানদের ক্রিকেট-উত্থান সাপলুডুর মইয়ে বেয়ে ওঠার মতো হলেও অস্ট্রেলিয়া এখনো তাদের কাছে দূরের কোনো গ্রহ। জিম্বাবুয়েকে তারা ১৫ বার হারিয়েছে ওয়ানডেতে, বাংলাদেশকেও তিনবার। আফগানদের কাছে হেরে যাওয়ার স্বাদ পেতে হয়েছে শ্রীলঙ্কা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকেও। এ ছাড়া টেস্ট খেলুড়ে দেশের মধ্যে তাদের জয় আছে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। এত সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে এই অর্জন মোটেও কম কিছু নয়। আবার এও সত্যি, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ক্রিকেট মানচিত্রে নিজেদের দূরত্বের বাস্তবতাও তারা বোঝে।

কিন্তু তাতে কী! গুলবদন নাইব বলছেন, ‘আমরা বিশ্বকাপ খেলতে এসেছে ভালো একটা দল নিয়ে, যে দলে অনেক বিশ্বমানের খেলোয়াড় আছে। আর এটা ক্রিকেট। প্রস্তুতি ম্যাচে পাকিস্তানকে তো হারিয়েই দিয়েছি। ক্রিকেটে যেকোনো কিছু ঘটে যেতে পারে। ওদের বিপক্ষে আমরা ভালো ক্রিকেট খেলার চেষ্টাই করব। অবশ্যই ক্রিকেট বিশ্বকাপে প্রতিটা দলের প্রতিই আমাদের সমীহ আছে। আর অস্ট্রেলিয়া তো সেখানে চ্যাম্পিয়ন দল। ওদের সেই সম্মানটা করি। তবে আমরাও মাঠে শতভাগ উজাড় করে দেব। নিজের দলের প্রতি আমার পূর্ণ আচ্ছা আছে, গত দুই-তিন বছর ধরে আমরা যেভাবে খেলছি, তাতে এই দলের ওপর ভরসা করাই যায়।’

কিন্তু বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার হাতে রীতিমতো নির্যাতিত হয়েছিল আফগানিস্তান। অস্ট্রেলিয়া তুলেছিল ৪১৭ রান তুলেছিল, যেটি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ। অস্ট্রেলিয়া জিতেছিল ২৭৫ রানে। বিশ্বকাপেও যেটি সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয়ের কীর্তি। তবে গত বিশ্বকাপ থেকে এই ২০১৯ বিশ্বকাপ—এর মধ্যে দুই আফগান দলে অনেক পার্থক্য আছে বলে মনে করেন নাইব, ‘গত বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া কীভাবে খেলেছে তাও তো আপনাদের দেখতে হবে। খেলাটা হয়েছিল তাদের মাটিতে, অস্ট্রেলিয়া দারুণ খেলছিল, শেষে চ্যাম্পিয়নও হয়েছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে আমাদের গত প্রস্তুতি ম্যাচটা দেখুন। এখন আমাদের দল অনেক বদলে গেছে। ২০১৫ সালের মতো আর নেই। এখন সব বদলে গেছে। গত কয়েক বছরে আমরা ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিংয়ে দারুণ উন্নতি করেছি। আশা করছি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আমরা দারুণ খেলব।’

একনজরে মুখোমুখি পরিসংখ্যান

 

ম্যাচ

অস্ট্রেলিয়া

আফগানিস্তান

 মোট

 বিশ্বকাপে

 

ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিং

অস্ট্রেলিয়া

আফগানিস্তান ১০

 

দলীয় সর্বোচ্চ

অস্ট্রেলীয়

 ৪১৭/৬, পার্থ, ২০১৫

আফগানিস্তান

 ২০৬, শারজা, ২০১২

 

দলীয় সর্বনিম্ন

অস্ট্রেলিয়া

 ২৭২/৮, শারজা, ২০১২

আফগানিস্তান

 ১৪২, পার্থ, ২০১৫

 

সবচেয়ে বেশি রান

অস্ট্রেলিয়া

 ২০২, ডেভিড ওয়ার্নার

আফগানিস্তান

 ৭০, আসগর আফগান

 

ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ

অস্ট্রেলিয়া

 ১৭৮, ডেভিড ওয়ার্নার, পার্থ, ২০১৫

আফগানিস্তান

 ৬৬, আসগর আফগান, শারজা, ২০১২

 

সবচেয়ে বেশি উইকেট

অস্ট্রেলিয়া

 ৬, মিচেল জনসন ও মিচেল স্টার্ক

আফগানিস্তান

 ৪, শাপুর জাদরান

 

সেরা বোলিং

অস্ট্রেলিয়া

 ৪/২২, মিচেল জনসন, পার্থ, ২০১৫

আফগানিস্তান

 ২/২২, করিম সাদিক, শারজা, ২০১২