
অস্ট্রেলিয়ার কোচ হিসেবে ল্যাঙ্গারের ভিত নড়ে উঠেছে গত কিছুদিনে। গত আগস্টে খেলোয়াড় ও সহকারী কোচদের বিদ্রোহে একবার চাকরি হারাতে বসেছিলেন তিনি। কিন্তু সে বাধা পার করে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন, অ্যাশেজেও এসেছে সাফল্য। এরপর চুক্তি নবায়ন নিয়ে বোর্ডের সঙ্গে গত শুক্রবার আলোচনায় বসে বিপাকে পড়েছেন আবার।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আর অ্যাশেজ সাফল্যের পর ল্যাঙ্গার চাইছেন দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্ব। স্বল্পমেয়াদি আর কোনো চুক্তি করতে রাজি নন সাবেক এই ওপেনার। দীর্ঘ মেয়াদে চুক্তি নবায়ন না করা হলে ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তান সফরে না যাওয়ার হুমকিও দিয়েছেন এই কোচ। এমন আচরণের কারণেই উল্টো বিপদে পড়ে গেছেন ল্যাঙ্গার।
খেলোয়াড় হিসেবে ল্যাঙ্গার যা অর্জন করেছেন, সে কারণে দলের ক্রিকেটারদের সম্মান পেলেও, অভিজ্ঞ অধিকাংশ ক্রিকেটার কোচ হিসেবে ল্যাঙ্গারকে লেটার নম্বর দিতে রাজি নন। আগস্টে খেলোয়াড় বিদ্রোহের পর এমনিতেই দলে ল্যাঙ্গার একটু ব্যাকফুটে ছিলেন। সহকারী দুই কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড ও মাইকেল ডি ভেনুটোই বিশ্বকাপ ও অ্যাশেজে মূল ভূমিকা রেখেছেন। এ দুজনের অধীনে দল অনেক নির্ভার ছিল এবং এ কারণেই বেশি ভালো খেলেছে দল।
দলের অনেকেই ভাবছেন, ল্যাঙ্গারকে আবার চুক্তিবদ্ধ করলে ম্যাকডোনাল্ড ও ডি ভেনুটো দল ছেড়ে চলে যেতে পারেন। এর মধ্যে পাকিস্তান সফরও এগিয়ে এসেছে। তিন টেস্টের এই সিরিজের আগে কি বোর্ডের সামনে মেজাজ হারিয়ে নিজের ভাগ্য নির্ধারণ করে ফেললেন ল্যাঙ্গার?
সব মিলিয়ে বেশ বাজে অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট। এমন অবস্থায় অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের বাকি আর সবার মতো চিন্তিত সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্কও। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকে এই কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান অনুরোধ করেছেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এ ব্যাপারে একটা সিদ্ধান্তে আসতে।
স্কাই স্পোর্টস রেডিওর ‘বিগ স্পোর্টস ব্রেকফাস্ট’ অনুষ্ঠানে ঘরের খবর বাইরে কীভাবে বেরোলো, সেটা নিয়ে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ক্লার্ক, ‘সে সভায় কী হয়েছে, এটা মিডিয়া জেনে গেছে এখন। আপনি মোটামুটি বলে দিতে পারবেন, সেদিন ল্যাঙ্গারের সঙ্গে বোর্ডের সভায় কী হয়েছে না হয়েছে। সবাই পড়েও ফেলেছেন।
কীভাবে হলো এটা? কেন এসব ব্যাপার গোপনীয় থাকল না? নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে ব্যাপারগুলো। আমি জানি না কোন মাধ্যম থেকে খবরগুলো বেরোচ্ছে, কীভাবে বেরোচ্ছে। যেভাবেই বের হোক না কেন, ব্যাপারটা আমাদের সাহায্য করছে না একটুও। ল্যাংয়ের (ল্যাঙ্গার) জন্যও যেমন ব্যাপারটা ভালো নয়, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার জন্যও নয়। আশা করব যে সিদ্ধান্তই নেওয়া হোক না কেন, সেটা যেন তাড়াতাড়ি নেওয়া হয়।’
দল নিয়ে এই বিষাক্ত পরিস্থিতি মোটেও স্বস্তি দিচ্ছে না ক্লার্ককে, ‘ল্যাং যদি দায়িত্ব ছাড়তে চান, তাড়াতাড়ি তাঁকে দায়িত্ব ছাড়তে দেওয়া হোক। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া যদি তাঁকে দিয়ে আবারও চাকরির জন্য আবেদন করাতে চায়, আর ল্যাঙ্গার যদি রাজি না হয়ে সরে দাঁড়াতে চান, তাহলে সেটাই তাড়াতাড়ি হোক। ল্যাঙ্গার যদি নতুন চুক্তিতে সই করতে চান, সেটাই নাহয় তাড়াতাড়ি করা হোক। এই ঝামেলা তাড়াতাড়ি শেষ করুন। এই মুহূর্তে ব্যাপারটি মোটেও ভালো ঠেকছে না।’
সফল এক মৌসুমের পর এসব ব্যাপার একদম মন ভেঙে দিয়েছে ক্লার্কের, ‘মাত্রই অসাধারণ একটা গ্রীষ্ম কাটালাম আমরা, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতলাম। আর এখন এসব পড়তে হচ্ছে। ব্যাপারটা দুঃখজনকই।’