
সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচের প্রথম দিনটা দলকে নিরাপত্তা দিয়েছেন ওলি পোপ। ৪ উইকেটে ১২২ রানে ভুগতে থাকা ইংল্যান্ড দিন শেষে হাসতে পারছে এই ব্যাটসম্যানের অপরাজিত ৯১ রানের সুবাদে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৪ উইকেটে ২৫৮ রান তুলে এগিয়ে গেছে স্বাগতিকেরা।
দলকে এমন নিরাপদ অবস্থানে আনা পোপ অবশ্য নিজেই নিরাপত্তা বলয় নিয়ে কিছুটা অস্বস্তিতে আছেন। মাঠের খেলায় নয়, টেস্ট খেলার জন্য জৈব নিরাপত্তার যে বলয় তৈরি করা হয়েছে সেটায় এখনো অভ্যস্ত হতে পারছেন না পোপ।
সিরিজে আগের চার ইনিংসে মোটে ৪৩ রান করেছিলেন পোপ। প্রথম দুই টেস্টে তাঁর হাইলাইটস খুঁজতে গেলে শর্ট লেগে ঝাঁপিয়ে ধরা ক্যাচটিই শুধু পাওয়া যাচ্ছিল। কিন্তু কাল, ২২ বছর বয়সী দলের প্রয়োজনে ঠিকই দাঁড়িয়ে গেলেন। তবে নিজের ব্যাটিংয়ের চেয়ে 'বায়ো-সিকিউরিটি বাবল' নিয়েই বেশি চিন্তিত মনে হলো তাঁকে, 'সত্যি বলতে, এমন পরিবেশে থাকাটা চ্যালেঞ্জিং মনে হচ্ছে আমার কাছে। প্রথম দুই ম্যাচে কিছু করতে পারিনি এবং সে ধাক্কা সামলানোর জন্য বেরও হতে পারিনি। হোটেল থেকেই মাঠ দেখা যায়। কফি খেতে বের হওয়া যায় না, পরিবারের সঙ্গে দেখা করা যায় না। এটা সহজ না। সারাক্ষণ নিজের ব্যাটিং, নিজের ব্যর্থতা মাথায় ঘুরতে থাকে। স্বাভাবিকের তুলনায় তীব্রতাটা একটু বেশি এখন। তাই আজ রান পেয়ে ভালো লাগছে।'
জৈব নিরাপত্তার কঠিন বলয় ভাঙায় এমনিতেই এক ম্যাচ খেলতে পারেননি জফরা আর্চার। ফলে নিরাপত্তার বিষয়টা আরও কঠোর হয়েছে। আর এত কড়া নিয়ম মেনে খেলার ফলে পুরো সময়টায় হাঁপ ফেলতে পারছেন না ক্রিকেটাররা। এ সময় ব্যর্থতা মনে কতটা প্রভাব ফেলে সেটা জানালেন পোপ, 'সাউদাম্পটনে দ্বিতীয় ইনিংসে দিনের খেলা শেষ হওয়ার একটু আগেই আউট হয়েছিলাম। আর আউট হওয়ার ২০ মিনিটের মধ্যে রুমে ফিরে এসেছি। ফলে পুরো সময়টা এ ব্যর্থতা নিয়ে ভেবেছি। তবে দলের সবাই আমাকে সাহায্য করেছে। সবাই খুব কাছাকাছি এখানে। ফলে কেউ মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও অন্যরা সাহায্য করছে।'
৯১ রানে অপরাজিত পোপের সামনে আজ সুযোগ এসেছে ১০ টেস্টের ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি বুঝে নেওয়ার। পঞ্চম উইকেটে ১৩৬ রানের জুটি গড়া পোপ আজ সে পথে এগোতে চান, তবে ধীরে সুস্থে, ' অবশ্য সেঞ্চুরিটা চাইছি। কিন্তু আজ (কাল) এ নিয়ে আর ভাবব না। মজা করব, মুভি দেখব আর শোয়ার সময় একটা ঘুমের ট্যাবলেট খাব। আমি এখনো পাইনি সেটা (সেঞ্চুরি), হলে দারুণ লাগবে।'