
>ক্রিকেটের সেই চিরচেনা দৃশ্য না-ও দেখা যেতে পারে ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা ওয়ানডে সিরিজে। স্বাস্থ্যগত কারণে থুতু দিয়ে বল ঘষাকে নিরুৎসাহিত করছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে অনেক কিছুর ওপরই এসেছে নিষেধাজ্ঞা। কারও সঙ্গে হাত না মেলানো, অচেনা ব্যক্তির সংস্পর্শে না আসা—এগুলো তো আছেই। কিন্তু ভারতীয় ক্রিকেট দলের ওপর এমন পরিস্থিতিতে নির্দেশনা এসেছে বলে থুতু দিয়ে তা পলিশ না করতে।
ক্রিকেটে খুবই পরিচিত দৃশ্য এটি। বোলার বা ফিল্ডাররা বলে থুতু লাগিয়ে তা চকচকে করার জন্য হাত দিয়ে বা ট্রাউজারে ঘষছেন। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে এ মুহূর্তে এটা না করারই নির্দেশ দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)।
আজ ধর্মশালায় শুরু হচ্ছে ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা ওয়ানডে সিরিজ। দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেট দলকে ভারতে এসে কারও সঙ্গে হাত না মেলানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিসিসিআইও ভারতীয় ক্রিকেট দলের জন্য একটা স্বাস্থ্যবিধি প্রণয়ন করেছে। সেখানে ক্রিকেটারদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার, সাবান দিয়ে ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধোয়ার নির্দেশনার পাশাপাশি ভক্তদের সঙ্গে সেলফি না তোলা, এমনকি হোটেলের বাইরে কোনো রেস্তোরাঁয় গিয়ে না খাওয়ার কথাও বলা হয়েছে। তবে এ নির্দেশনায় রীতিমতো বিপদে পড়ে গেছেন ভারতীয় বোলাররা।
বল চকচকে রেখে সুইং করাতে বল পলিশ করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটা ক্রিকেটের আবহমান কালেরই অংশ। কিন্তু থুতুর ব্যবহারে স্বাস্থ্যঝুঁকিও থেকে যায় এতে। আর করোনাভাইরাসের মতো ছোঁয়াচে রোগের সংক্রমণের অন্যতম উৎস তো এই থুতুই। ভারতীয় পেসার ভুবনেশ্বর কুমার ব্যাপারটা নিয়ে নিজের দুশ্চিন্তার কথাই জানিয়েছেন, ‘এ মুহূর্তে স্বাস্থ্যঝুঁকি প্রবল। আমাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। কিন্তু বল ঠিকঠাকমতো ঘষে চকচকে না করতে পারলে সুইং পাব কীভাবে? আমরা তো মার খেয়ে যাব।’
ভুবনেশ্বর এ ব্যাপার চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়ার কথাই বলেছেন, ‘দলে আমাদের একজন চিকিৎসক আছেন। আমরা তাঁর সঙ্গে কথা বলব। দেখি উনি কী পরামর্শ দেন।’
ভারতের এখন পর্যন্ত ৬৭ জন করোনা-রোগী শনাক্ত হয়েছে; যদিও এঁদের বেশির ভাগই ইউরোপ থেকে আসা পর্যটক।