দুই ঘণ্টায় চার বিবৃতি, বিসিবি–আইসিসি ও পাকিস্তান কে বলেছে কী

ভারতে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোয় বাংলাদেশ দলের টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়া এবং তার জেরে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ভারতের বিপক্ষে না খেলার ঘোষণায় গত কয়েক দিনে বেশ উত্তেজনাই ছিল ক্রিকেট–বিশ্বে। রোববার রাতে লাহোরে আইসিসি, পিসিবি ও বিসিবির ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের পর পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসার ইঙ্গিত মেলে, যা আনুষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে সোমবার রাতে বিসিবি, আইসিসি ও পাকিস্তান সরকারের দেওয়া বিবৃতিতে। দুই ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ করা চার বিবৃতিতে কী ছিল, সেটাই একনজরে দেখে নেওয়া যাক।

পাকিস্তানের প্রতি বিসিবির অনুরোধ

বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১০টায় বিবৃতি দেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এবং পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন রাজা নাকভির প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ‘কঠিন সময়ে’ পাকিস্তানের দেওয়া সমর্থনকে ‘ভ্রাতৃত্বের বন্ধন’ হিসেবে অভিহিত করেন।

এরপর তিনি পাকিস্তান সফর ও সেখানে আইসিসিসহ ‘আলোচনার সম্ভাব্য ফলাফলের’ উল্লেখ করে পাকিস্তানকে বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি খেলার জন্য অনুরোধ করেন। আমিনুল বলেন, ‘আমি অনুরোধ করছি, পুরো ক্রিকেট ইকোসিস্টেমের স্বার্থে পাকিস্তান যেন ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচটি খেলে।’

বাংলাদেশ নিয়ে আইসিসির প্রেস নোট

বিসিবির বিবৃতির ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই আইসিসি তাদের ওয়েবসাইটে একটি প্রেস নোট প্রকাশ করে। ৪৭৬ শব্দের প্রেস নোটটিতে বেশ কিছু বিষয় তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেটের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেছে আইসিসি, পিসিবি ও বিসিবি। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি দুর্ভাগ্যজনক এবং বিশ্বকাপে না খেলায় বাংলাদেশের ক্রিকেটে কোনো দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব না ফেলার বিষয়টি নিশ্চিত করবে আইসিসি।

এতে জানানো হয়, বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ায় বিসিবির ওপর কোনো আর্থিক, ক্রীড়াসংক্রান্ত বা প্রশাসনিক জরিমানা আরোপ করা হবে না। বিসিবি চাইলে আইসিসির ডিজপিউট রেজোল্যুশন কমিটিতে যেতে পারবে। এ ছাড়া ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশ একটি আইসিসি ইভেন্ট আয়োজন করার সুযোগ পাবে বলেও জানানো হয়।

প্রেস নোটে আইসিসি সিইও সঞ্জয় গুপ্তর একটি বক্তব্য উল্লেখ করা হয়। সেখানে তিনি বাংলাদেশের বিশ্বকাপে অনুপস্থিতিকে দুঃখজনক অভিহিত করে বলেন, ‘একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেট–দেশ হিসেবে বাংলাদেশের প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতি পরিবর্তন হবে না।’

পাকিস্তান সরকারের সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা

আইসিসির প্রেস নোটের আধা ঘণ্টা সময়ের মধ্যেই পাকিস্তান সরকারের এক্স হ্যান্ডল থেকে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। বলা হয়, বহুপক্ষীয় আলোচনার ফলাফল এবং বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তান সরকার পিসিবিকে নির্দেশ দিয়েছে, ১৫ ফেব্রুয়ারি টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে নির্ধারিত ম্যাচে পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল মাঠে নামবে। মূল বিষয় ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলা হলেও ৩০৭ শব্দের দীর্ঘ বক্তব্যে ভারতের নাম উল্লেখ করা হয়নি।

পাকিস্তান সরকার জানায়, সন্ধ্যায় শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট এইচ ই অনুরা কুমারা দিশানায়েকের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কথা হয়েছে। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট বর্তমান অচলাবস্থা সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে সমাধানে গুরুত্ব দেওয়ার অনুরোধ করেন। বিসিবিও পিসিবিকে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে। সব মিলিয়ে ক্রিকেটের চেতনা রক্ষা এবং অংশগ্রহণকারী সব দেশে ক্রিকেটের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লক্ষ্যে পাকিস্তানের সিদ্ধান্তের কারণ বলে উল্লেখ করা হয়।

আইসিসির চূড়ান্ত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার পর আইসিসি আরেকটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেয়। এতে পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি খেলবে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বর্তমান পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে এটি সম্মত হয়েছে, সব সদস্য আইসিসি ইভেন্টে অংশগ্রহণের শর্তাবলি মেনে চলবে এবং টুর্নামেন্ট সফল করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’