পুরো বিশ্বই আজ থেকে বুঁদ হয়ে যাবে ফুটবল বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞে। বাংলাদেশও তার বাইরে নয়। তবে বাংলাদেশের মানুষকে এখনই সে সুযোগ পুরোপুরি দিচ্ছে না বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।
পরশু প্রথম ওয়ানডেতে সহজ জয়ের পর আজ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেও জিতে গেলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জয়ের আনন্দে ভাসবে বাংলাদেশ।
কাজেই সুদূর যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো আর কানাডার বিশ্বকাপের সঙ্গে আজ চোখ রাখতে হবে মিরপুরে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের দিকেও।
টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক জশ ইংলিস। আগের ম্যাচেও তিনি টস জিতেছিলেন, তখন বেছে নিয়েছিলেন ফিল্ডিং। বৃষ্টি আইনে ৮৬ রানে ওই ম্যাচ হারের পর আজ টস জেতার পর সিদ্ধান্তেও বদল এসেছে তাঁর।
আবার একাদশে ফিরেছেন সৌম্য সরকার, তাঁকে জায়গা দিতে বাদ পড়েছেন সাইফ হাসান। সর্বশেষ ৩ ম্যাচে তাঁর রান ৮, ০ আর ৫। এছাড়া বাংলাদেশ দলের একাদশে আর পরিবর্তন নেই কোনো।
অস্ট্রেলিয়া তাদের শক্তি বাড়িয়েছে পেসে। ম্যাচ শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে স্কোয়াডে ঢোকা পেসার রিলে ম্যারিডিটকে একাদশে রাখা হয়েছে। ২০২১ সালে সর্বশেষ ওয়ানডে খেলেছিলেন তিনি।
বাংলাদেশ একাদশ : মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান, সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন, লিটন দাস, তাওহিদ হৃদয়, মোসাদ্দেক হোসেন, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, নাহিদ রানা, তানভীর ইসলাম।
অস্ট্রেলিয়া একাদশ: জশ ইংলিস (অধিনায়ক), জেভিয়ার বার্টলেট, অ্যালেক্স ক্যারি, কুপার কনোলি, নাথান এলিস, ক্যামেরন গ্রিন, মারনাস লাবুশেন, ম্যাথু রেনশ, লিয়াম স্কট, ম্যাট শর্ট ও অ্যাডাম জাম্পা।
পুরো বিশ্বেই ফুটবল বিশ্বকাপ এলে বয়ে যায় এই টুর্নামেন্টের হাওয়া। পতাকা ওড়ে, গায়ে ওঠে প্রিয় দলের জার্সি। তা থেকে বাদ যান না জাতীয় দলের ক্রিকেটাররাও। আর সবার মতো ফুটবল বিশ্বকাপে তাঁদের সমর্থনেও আছে বৈচিত্র্য, প্রতিদ্বন্দ্বিতা আর বিশ্বকাপ নিয়ে কাড়াকাড়ি।
তা কেমন? পড়তে পারেন আমাদের ক্রীড়া প্রতিবেদক মাহমুদুল হাসানের এই লেখায়।
আগের ম্যাচে ইনিংসের প্রথম বলেই বোল্ড হয়ে গিয়েছিলেন ম্যাথু শর্ট, বোলার ছিলেন তাসকিন আহমেদও। এবারও বোল্ড হয়েছেন শর্ট, চতুর্থ বলে তাঁকে বোল্ড করেছেন তাসকিনই।
সেই রেশ কাটতে না কাটতেই দ্বিতীয় ওভারে উইকেট নিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমানও। দ্বিতীয় ওভারে তাঁর প্রথম বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ তুলে দিয়েছেন কুপার কনোলি।
অস্ট্রেলিয়ার রান এখনও শূন্য, কিন্তু ২ উইকেট নেই!
বাংলাদেশ ভালো খেলছে ঠিক, আগের ম্যাচটা জিতেছেও। কিন্তু তাই বলে এমন দৃশ্য!
অস্ট্রেলিয়া কি না কোনো রান করার আগেই হারিয়ে ফেলেছে ৩ উইকেট। এমন কিছু হয়তো সুদূর কল্পনাতেও আসেনি বাংলাদেশের সমর্থকদের। এখন সেটাই ঘটছে। শর্টকে বোল্ড করে শুরুটা করেছিলেন তাসকিনই।
মোস্তাফিজের পরের ওভারের প্রথম বলেই আউট হয়ে যান কনোলিও। এবার ম্যাট রেন শও ক্যাচ দিয়েছেন উইকেটের পেছনে। আম্পায়ার শুরুতে আউট দেননি। কিন্তু বাংলাদেশ রিভিউ নিতেই ড্রেসিংরুমের পথে হাঁটা ধরেন রেন শ। শূন্য রানে ৩ উইকেট!
তৃতীয় ওভারে এসে তাসকিনের নো বলে প্রথম রানটা পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তাদের আপাতত বেশ করুণ অবস্থাই!
এখন পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া ওয়ানডে খেলেছে ১০২৪টি। এর আগে কেবল দুবারই দলটির দুই ওপেনারই আউট হয়েছিলেন ডাক মেরে। প্রথমটি ২০০৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে, পরেরটি ২০২২ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে। আজ ম্যাথু শর্ট ও কনোলিকে শূন্য রানে ফিরিয়ে তৃতীয় ঘটনাটি ঘটাল বাংলাদেশ।
অস্ট্রেলিয়া: ৪ ওভারে ৯/৩
৫ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার রান এখন ৩ উইকেটে ১৭। যেকোনো দলের ক্ষেত্রেই হতে পারে এমন। কিন্তু এই তিন উইকেট কিন্তু তারা হারিয়ে ফেলেছিল শূন্য রানেই।
এক হাজারের বেশি ওয়ানডে খেলে কখনো এমন পরিস্থিতিতে পড়েনি অস্ট্রেলিয়া। এমনকি আগে সবচেয়ে কম রানে যখন তারা ৩ উইকেট হারিয়েছিল, তখনও তাদের রান ছিল ৫। এবার বাংলাদেশ যা করল, তা তাই এক কথায় অবিশ্বাস্যই।
এমন অভিজ্ঞতা অবশ্য বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের সময়ও একবার হয়েছিল— ২০০৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শূন্য রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল বাংলাদেশ। বাকি দুটি ঘটনা পাকিস্তানের।
এবার অস্ট্রেলিয়ার চতুর্থ উইকেটও তুলল বাংলাদেশ। শূন্য রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলার পর জস ইংলিশ আর অ্যালেক্স ক্যারির ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছিল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু ১৭ বলে ১৩ রান করে মোস্তাফিজের বলে নাজমুলের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন ক্যারি।
এখন উইকেটে এসেছেন গ্রিন। আগের ম্যাচে ফিফটি পেয়েছিলেন তিনি। চাপের মুখে তাঁকেই বাঁচাতে হবে বাংলাদেশকে।
অস্ট্রেলিয়া: ৮ ওভারে ২৫/৪
পাওয়ার প্লের ১০ ওভার শেষ হয়ে গেছে। মোস্তাফিজুর রহমান আর তাসকিন আহমেদ মিলে অবিশ্বাস্য ঘটনার সাক্ষী করেছেন শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের দর্শকদের। শূন্য রানে রেকর্ড ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল অস্ট্রেলিয়া। সেখান থেকে এখন স্কোরকার্ডটা একটু ভদ্রস্থ— ১০ ওভারে ৩৭ রানে তাদের ৪ উইকেট নেই।
শূন্য রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলার পরই ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টার শুরুটা করেছিলেন জস ইংলিস। সেই চেষ্টায় কিছুক্ষণ তাঁর সঙ্গী ছিলেন অ্যালেক্স ক্যারি। তিনি ফেরার পরও চেষ্টাটা চালিয়ে যাচ্ছেন ইংলিস।
আগের চারটি উইকেটই নিয়েছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহেমদ। এবার তাদের সঙ্গী হলেন তানভীর আহমেদ। জমে যাওয়া জুটি তিনি ভেঙেছেন জস ইংলিসকে ফিরিয়ে। তাঁর ও ক্যামেরুন গ্রিনের ৫৮ বলে ৪৩ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছিল অস্ট্রেলিয়া।
অস্ট্রেলিয়া : ১৮ ওভারে ৭৫/৫
আগের ম্যাচে ফিফটি করেছিলেন, এ ম্যাচেও ব্যাটিং বিপর্যয়ের মধ্যেও আশা দেখাচ্ছিলেন। কিন্তু তাঁর ইনিংসটা লম্বা হলো না। তানভীর নিজের বলেই তাঁর দুর্দান্ত একটা ক্যাচ ধরেছেন নিচু হয়ে। এখন উইকেটে এসেছেন বার্টলেট, আরেক পাশে ফর্ম না থাকা লাবুশেন। তাদের কেউ কি ত্রাতা হতে পারবেন?
অস্ট্রেলিয়ার রান এখন ২১.১ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ৮১।
অবশেষে এক শ পেরিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। এর মধ্যেই তারা হারিয়েছে ৬ উইকেট। এখন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন মার্নাস লাবুশেন ও বার্টলেট। কতদূর যেতে পারবেন তারা, দেখা যাক!
অস্ট্রেলিয়া: ২১ ওভারে ১০৮/৬
অবশেষে একটি বলার মতো জুটি পেল অস্ট্রেলিয়া। ৮১ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারানো দলটি লাবুশেন ও বার্টলেটের জুটিতে পঞ্চাশ রান পেয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া: ৩০.২ ওভারে ১৩১/৬।
চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহের দিকে এগোচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। উইকেটে জমে গেছে লাবুশেন–বার্টলেটের সপ্তম উইকেট জুটি। লাবুশেন ৪৩ (৬২ বলে), বার্টলেট ৩৬ রানে (২৯ বলে) ব্যাট করছেন।
অস্ট্রেলিয়া: ৩৪ ওভারে ১৫৭/৬।
ক্যামেরুন গ্রিন যখন আউট হন, তখন মনে হচ্ছিল অস্ট্রেলিয়ার রানটা দুই শ হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। কিন্তু ওটুকু সম্ভাবনাকেই প্রায় সত্যি করে ফেলেছেন বার্টলেট ও মার্নাস লাবুশেন। দুজনেই ফিফটি পেয়েছেন। তাদের জুটিতে লড়াই করার মতো একটা পুঁজির পথেই ছিল অস্ট্রেলিয়া।
কিন্তু তাদের ১১৫ বলে ১০৪ রানের জুটি ভেঙে দিয়েছেন তাসকিন। ৪৮ বলে ৫২ রান করে তাঁর বলে বোল্ড হয়ে গেছেন বার্টলেট। উইকেটে এসে টিকতে পারেননি অ্যাডাম জাম্পাও, তিনিও বোল্ড হয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়া: ৪১ ওভারে ১৮৬/৮
শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বৃষ্টি নেমেছে। কাভারে ঢাকা হচ্ছে পিচ। খুব যে জোরাল, তা নয়। কিন্তু খেলা চালিয়ে যাওয়ার মতোও নয়। শুরুর বিপর্যয় কাটিয়ে অস্ট্রেলিয়া ৪২ ওভার শেষে ৮ উইকেটে ১৮৭ রান করেছে। আপাতত বৃষ্টির বিরতি।
বৃষ্টির এই সময়ে চাইলে আজ রাত থেকে শুরু হওয়া ফুটবল বিশ্বকাপ সংক্রান্ত কিছু খবর পড়তে পারেন—
আমেরিকান বিশ্বকাপ নিয়ে লিখেছেন প্রথম আলোর প্রধান ক্রীড়া সম্পাদক উৎপল শুভ্র।
যে বিশ্বকাপের পদে পদে ট্রাম্পের আমেরিকার ছাপ
বিশ্বকাপের অর্থনীতি নিয়ে লিখেছেন প্রথম আলোর হেড অব অনলাইন শওকত হোসেন।
বিশ্বকাপের সঙ্গে অর্থনীতি মিশলে যা হয়
আজ মেক্সিকোর যে স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে, সেই আজতেকার আত্মকথন লিখেছেন মেহেদী হাসান।
আজতেকা: অমরত্বের ডাক শুনতে কি পাও
যুক্তরাষ্ট্র সর্বশেষ বিশ্বকাপ হয়েছিল ১৯৯৪ সালে। ওই টুর্নামেন্ট নিয়ে লিখেছেন মোস্তাকিম হোসেন।
সেই যুক্তরাষ্ট্রে আরও একবার: ফিরে আসবে কি অঘটন, কেলেংকারি আর সাম্বা
মিরপুরে এখনও বৃষ্টি পড়ছে। পিচ ঢাকা আছে কাভারে। খুব দ্রুত খেলা শুরুর সম্ভাবনাও নেই। এর মধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি–টুয়েন্টি ও জুনে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের দল ঘোষণা করেছেন নির্বাচকরা। তাওহিদ হৃদয় সুযোগ পেয়েছেন টেস্টে, তাঁর সঙ্গে আছেন রংপুরের পেসার রবিউল হক।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি–টুয়েন্টি সিরিজের দলে আছেন নাহিদ রানা। এখন পর্যন্ত একটিই টি–টুয়েন্টি খেলেছেন রানা, ওয়ানডে ও টেস্টই খেলছিলেন নিয়মিত। প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার জানিয়েছেন, যেহেতু জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্টে তিনি খেলছেন না, তাই তাঁকে দলে নেওয়া।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি–টুয়েন্টি দল:
লিটন দাস (অধিনায়ক), পারভেজ হোসেন, তানজিদ হাসান, সাইফ হাসান, শামীম হোসেন, তাওহিদ হৃদয় (সহঅধিনায়ক), নুরুল হাসান, মেহেদী হাসান, নাসুম আহমেদ, রিশাদ হোসেন, শরীফুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা ও আব্দুল গাফফার।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের দল:
নাজমুল হোসেন, সাদমান ইসলাম, মাহমুদুল হাসান, তানজিদ হাসান, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস, তাইজুল ইসলাম, নাঈম হাসান, খালেদ আহমেদ, ইবাদত হোসেন, হাসান মাহমুদ, তাওহিদ হৃদয়, অমিত হাসান, রবিউল হক।
শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বৃষ্টি থেমেছে। শুরু হয়েছে মাঠ শুকানোর কাজ। সাধারণত বৃষ্টি থামার ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই খেলা শুরু করা যায়। আকাশে অবশ্য মেঘও আছে, আবার বৃষ্টি না নামলে হয়!
বিরতির এই সময়ে পড়তে পারেন কামরুল হাসানের লেখা—
বৃষ্টি থেমেছে ঘণ্টাখানেক আগেই। এখন চলছে মাঠ শুকানোর কাজ। এর মধ্যেই জানা গেছে, ৫টা ১৫ মিনিটে শুরু হবে খেলা, ৪১ ওভারে বাংলাদেশকে ১৯২ রান করতে হবে।
শুরুর ৮ ওভার হবে প্রথম পাওয়ার প্লে, ৮ থেকে ২৫ ওভার পর্যন্ত দ্বিতীয় পাওয়ার প্লে আর ২৬ থেকে ৪১ ওভার পর্যন্ত তৃতীয় পাওয়ার প্লে। একজন বোলার সর্বোচ্চ ৯ ওভার করতে পারবেন।
প্রথম বলেও এলবিডব্লুর আবেদন করেছিল অস্ট্রেলিয়া, কিন্তু আম্পায়ার সাড়া দেননি। রিভিউ নেয়নি অস্ট্রেলিয়াও। তবে তাদের উইকেটের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। ইনিংসের দ্বিতীয় বলে বোলার বার্টলেটের হাতেই ক্যাচ দিয়ে আউট হয়ে গেছেন তানজিদ। শূন্য রানেই প্রথম উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ।
বোলারের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন নাজমুলও। কিন্তু ফলো থ্রুটা শেষ করে তা আর হাতে জমাতে পারেননি বার্টলেট।
রিভিউ নিয়ে বেঁচেছেন নাজমুল হোসেন। ক্যাচ তুলে দেওয়ার পরের বলেই তাঁকে এলবিডব্লু দিয়েছিলন আম্পায়ার। পরে রিভিউতে দেখা গেছে, বলটা স্টাম্পেই হিট করত না। দ্বিতীয় ওভারে এসে ওয়াইড থেকে প্রথম রান পেয়েছে বাংলাদেশ।
দ্বিতীয় বলেই উইকেট হারিয়েছিল বাংলাদেশ, নাজমুল হোসেনও খেলতে পারছিলেন না স্বাচ্ছন্দ্যে। তবে সময়ের সঙ্গে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন নাজমুল। সৌম্যর সঙ্গে তাঁর জুটিতে দলও পেরিয়ে গেছে ৫০ রান। বাংলাদেশের লক্ষ্য ৪১ ওভারে ১৯২ রান।
শুরু থেকে ভালোই খেলছিলেন সৌম্য। বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রানও তুলছিলেন। তবে পঞ্চাশের আগেই আউট হয়ে গেছেন সৌম্য।
ভালো খেলতে খেলতে ফিরে গেলেন ৪২ রান করা নাজমুল হোসেনও। রাইলি মেরেডিথের বল নাজমুলের ব্যাট লেগে জমা পড়ে উইকেটকিপার জশ ইংলিসের হাতে। আম্পায়ার অস্ট্রেলিয়ার আবেদনে সাড়া না দিলে রিভিউ নিয়ে নাজমুলের বিদায় নিশ্চিত করে অতিথিরা। নাজমুলের বিদায়ের সময় বাংলাদেশে রান ৩ উইকেটে ৯৮। ক্রিজে লিটন দাসের সঙ্গে যোগ দিলেন তাওহিদ হৃদয়।
দারুণ ছন্দে ব্যাট করতে থাকা লিটনকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের চাপ বাড়ালেন ক্যামেরন গ্রিন। ১৮ বলে ২১ রান করা লিটন গ্রিনের শর্ট বল সামলাতে না পেরে ক্যাচ তুলে দেন উইকেটকিপার জশ ইংলিসের হাতে। বাংলাদেশের রান ২৩.২ ওভারে ১২২/৪। জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ১০৬ বলে ৭০ রান।
অ্যাডাম জাম্পার বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ফিরলেন ১৫ রান করা মোসাদ্দেক হোসেনও। বাংলাদেশের রান এখন ২৭.২ ওভারে ১৪৪/৫। জয়ের জন্য প্রয়োজন ৮২ বলে ৪৮ রান। উইকেটে আছেন তাওহিদ হৃদয় ও মেহেদী হাসান মিরাজ।
তাওহিদ হৃদয় ও মেহেদী হাসান মিরাজের জুটিতে জয়ের পথে আছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের প্রয়োজন ৫৪ বলে ২৯ রান। তাওহিদ ২৪ ও মিরাজ ১২ রানে অপরাজিত আছেন। বাংলাদেশের রান ৩২ ওভারে ১৬৩/৫
৩৪তম ওভারে নাথান এলিসের বলে মাথায় আঘাত পেয়েছেন মিরাজ। মাঠের মাঝখানে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি। এসেছে স্ট্রেচারও। যদিও চিকিৎসা নিয়ে আবার ব্যাট করছেন তিনি। বাংলাদেশের রান ১৭৪/৫। জয়ের জন্য প্রয়োজন ৪২ বলে ১৮ রান।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশের জয় ৫ উইকেটে।
বৃষ্টি আইনে অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া ১৯২ রানের লক্ষ্য ৩৬ বল ও ৫ উইকেট হাতে রেখে টপকে গেছে বাংলাদেশ। দারুণ এই জয়ের পথে অপরাজিত ছিলেন তাওহিদ হৃদয় (৪০)* ও মেহেদী হাসান মিরাজ (২২)*।
এর আগে প্রথমে ব্যাট করতে নামা অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস বৃষ্টির কারণে ৪২ ওভারে ৮ উইকেটে ১৮৭ রানে থেমে যায়। তবে বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪১ ওভারে ১৯২ রান। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে মারনাস লাবুশেন করেন ৫৫ ও জেভিয়ার বার্টলেট করেন ৫২ রান। বাংলাদেশের হয়ে ৩টি করে উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান।
লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতে তানজিদ হাসান ফিরলেও বাংলাদেশকে এগিয়ে নেন সৌম্য সরকার ও নাজমুল হোসেনে। দুজনই ফিরেছেন ৪২ রান করে। এরপরও অবশ্য পথ হারায়নি বাংলাদেশ। লিটন দাস করেন ১৮ বলে ২১ রান। আর ম্যাচ শেষ করেন হৃদয় ও মিরাজ।