অ্যানাবেল সাদারল্যান্ডের বলটা কোনোরকমে ঠেকিয়ে দিলেন সোবহানা মোস্তারি। সঙ্গে সঙ্গেই দৌড় শুরু করে দিয়েছেন নন–স্ট্রাইক প্রান্তে থাকা নিগার সুলতানা, তাঁর সঙ্গে দৌড় সোবহানা মোস্তারিরও। পপিং ক্রিজ ছুঁয়েও দৌড়ে গেলেন আরও অনেকটা। সেঞ্চুরি বলে কথা!
তাও তো আর যেই-সেই প্রতিপক্ষ নয়, মেয়েদের ক্রিকেটে রীতিমতো প্রতাপশালী দল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। ব্যাট উঁচিয়ে, অন্য প্রান্তে থাকা নিগারকে জড়িয়ে ধরে তাঁর উদ্যাপন তো দেখা গেলই; ড্রেসিংরুমে বসে সতীর্থদেরও উচ্ছ্বাস দেখা গেল স্পষ্ট।
ব্রিসবেনে আজ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয়টিতে সেঞ্চুরি পেয়েছেন সোবহানা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম নারী ক্রিকেটার হিসেবে সেঞ্চুরি পেলেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরে-বাইরে মিলিয়ে আগে যে ছয়টি ওয়ানডে খেলেছে বাংলাদেশের মেয়েরা, কোনোটিতেই দুই শ ছোঁয়া যায়নি। আজ পুরো ৫০ ওভার ব্যাট করে ৬ উইকেট হারিয়ে ২২০ রান করেছে বাংলাদেশ।
এই সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশ করেছিল ১৫৩ রান। অস্ট্রেলিয়ার পেস আর বাউন্সি উইকেটে তা খুব খারাপ কিছুও ছিল না। আজও বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে শুরুটা হয়েছিল খুব বাজে। ইনিংসের ৭.২ ওভারে ৮ রানে তাদের ৩ উইকেট ছিল না।
সেখান থেকে দলের হাল ধরেন সোবহানা মোস্তারি ও নিগার সুলতানা। দুজনের জুটিতে ধীরে ধীরে এগোতে থাকে বাংলাদেশ। ৬৬ বলে নিজের হাফ সেঞ্চুরি পান সোবহানা। তাঁকে দারুণ সঙ্গ দিতে থাকেন অধিনায়ক নিগারও (১১৪ বলে ৭৪ রানে অপরাজিত)।
তাদের জু্টিতেই দল পায় তিন অঙ্কের দেখা। পরে ১২৪ বলে নিজের সেঞ্চুরিও পেয়ে যান সোবহানা। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তাদের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করা অষ্টম ব্যাটার তিনি। বাংলাদেশেরও তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি পেলেন, তার আগে ফারজানা হক দুবার আর নিগার সুলতানা একটি সেঞ্চুরি পেয়েছেন।
১৩৪ বলে ১৮ চারের ইনিংসে ১১৮ রানে ম্যাগান স্কটের বলে বোল্ড হয়ে আউট হয়েছেন সোবহানা। নিগারের সঙ্গে তাঁর ২৪৩ বলের জুটিতে এসেছে ১৯৫ রান।