
কারণ কী?
বাংলাদেশের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার ৯ উইকেটে হারের পর অনেকেই সেটা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন।
অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক ইয়ান চ্যাপেল এমন হারে সরাসরি কাঠগড়ায় তুলেছেন নির্বাচকদের। তাঁর মতে, ভুল খেলোয়াড় নির্বাচনের জন্যই অস্ট্রেলিয়ার এমন দশা।
চ্যানেল নাইনকে চ্যাপেল বলেছেন, ‘যদি ভুল খেলোয়াড় বাছাই করেন, তাহলে সমস্যায় পড়তেই হবে। অস্ট্রেলিয়ার দল নির্বাচন দেখে আমার মনে হয়েছে, তারা বিষয়গুলো খুব একটা ভালোভাবে বোঝে না। আমার কাছে মনে হচ্ছে, নির্বাচকরাই নিজেদের এই সমস্যার মধ্যে ফেলেছেন। এখন তাঁদেরই বের হওয়ার পথ খুঁজে বের করতে হবে। কিন্তু সেই পথ খুঁজে বের করার মতো যোগ্যতা তাঁদের আছে কি না, সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই।’
ডারউইন টেস্টে হারের পর অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় টেস্টের দলে একটি পরিবর্তন এনেছে। ওপেনার জেক ওয়েদারাল্ডকে বাদ দিয়ে দলে ডাকা হয়েছে ম্যাট রেনশকে। চ্যাপেলও মনে করেন, এই মুহূর্তে দলে রেনশকে দরকার। তিনি বলেছেন এভাবে, ‘ওয়েদারাল্ড টেস্ট খেলোয়াড় নয়। তাকে কখনোই ওপেনিংয়ে খেলানো উচিত হয়নি। আমি ওয়েদারাল্ডের আগে রেনশকে খেলাব।’
চ্যাপেল ওপেনিংয়ে আরও একটি পরিবর্তন চান। গত মৌসুমে ওপেনার হিসেবে তিনটি সেঞ্চুরি করার পরও ট্রাভিস হেডকে মিডল অর্ডার দেখতে চান তিনি, ‘হেড পাঁচ নম্বরের ব্যাটসম্যান। আসলে সে ওপেনার নয়। তাকে পাঁচ নম্বরে ফিরিয়ে দেওয়া ভালো হবে। যদিও আমি নিশ্চিত নই, তাদের হাতে আর কোনো ওপেনার আছে কি না।’
সে ক্ষেত্রে ওপেনিংয়ে স্যাম কনস্টাসকে চান চ্যাপেল। তিনি বলেছেন, ‘আপনি যদি রেনশকে কনস্টাসের সঙ্গে ওপেন করান, অন্তত একজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড় তো সেখানে থাকবে। তবে কনস্টাসকে ঠিক করতে হবে, সে কীভাবে খেলতে চায়। সেটা যদি সে বুঝে নিতে পারে, তাহলে তার সুযোগ আছে। কনস্টাসকে নিলে কিছুটা ঝুঁকি হতে পারে। কিন্তু এখন এটাই ব্যাপার—তারা যখন নিজেদের সমস্যার মধ্যে ফেলেছে, তখন সামনে এগোতে চাইলে ঝুঁকি নিতেই হবে।’
অন্যদিকে মারনাস লাবুশেনের রানখরা নিয়েও কথা বলেছেন চ্যাপেল। ২০২২ সালেও যাঁর ব্যাটিং গড় ছিল ৬০, সেই লাবুশেনের গড় এখন ৪৪–এ নেমে এসেছে। টানা তিন বছর তাঁর গড় ৩৫-এর নিচে। টেস্টে তাঁর সর্বশেষ সেঞ্চুরি এসেছিল ম্যানচেস্টারে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে—এরপর পেরিয়ে গেছে প্রায় ২২টি টেস্ট।
চ্যাপেল মনে করেন, লাবুশেনের সমস্যা শুধু রান না পাওয়ায় নয়, তাঁর ব্যাটিংয়ে আগ্রাসনের অভাবও উদ্বেগের বিষয়। আর এ কারণেই তিনি স্মিথকে এক ধাপ ওপরে তুলে তিন নম্বরে ব্যাট করানোর পক্ষে।
তিনি বলেছেন, ‘স্মিথ দলের সেরা ব্যাটসম্যান। জো রুটের ক্ষেত্রেও একই কথা। ইংল্যান্ডের যখন তাকে তিন নম্বরে প্রয়োজন ছিল, সে কি তখন করেনি? অস্ট্রেলিয়ার একজন তিন নম্বর ব্যাটসম্যান দরকার। লাবুশেন তিন নম্বরের মতো খেলছে না। স্মিথের শুরু থেকেই তিন নম্বরে ব্যাট করা উচিত ছিল, কারণ সে সেরা খেলোয়াড় এবং তিন নম্বরে ব্যাট করার জন্য তার সবকিছুই আছে। আর যদি সে চার নম্বরেই শুধু ব্যাটিং করতে চায়, তাহলে সেটা দুর্ভাগ্যের।’