
বাউন্ডারি সীমানার পাশে প্রস্তুত হয়েই ছিলেন রাজশাহীর খেলোয়াড়, কোচ, কর্মকর্তারা। ১৮তম ওভারে আবদুল গাফফারের পঞ্চম বলে মুকিদুল মিডউইকেট বাউন্ডারিতে তানজিদের হাতে ক্যাচ দিতেই সবাই ছুটলেন মাঠের ভেতরে। রাজশাহী বিপিএল চ্যাম্পিয়ন! শুরু হলো জয়োৎসব।
আগে ব্যাট করে রাজশাহী করেছিল ৪ উইকেটে ১৭৪। চট্টগ্রাম তাড়া করতে নেমে অলআউট ১১১ রানে। ৬৩ রানের জয়ে দ্বাদশ বিপিএলে চ্যাম্পিয়ন লিগের নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি রাজশাহী ওয়ারিয়রস।
রাজশাহী ওয়ারিয়রস: ২০ ওভারে ১৭৪/৪ (তানজিদ ১০০, ফারহান ৩০, উইলিয়ামসন ২৪; মুকিদুল ২/২০, শরীফুল ২/৩৩)। চট্টগ্রাম রয়্যালস: ১৭.৫ ওভারে ১১১ (মির্জা ৩৯, আসিফ ২১, নেওয়াজ ১১; বিনুরা ৪/৯, মুরাদ ৩/১৫, নিশাম ২/২৪)। ফল: রাজশাহী ওয়ারিয়রস ৬৩ রানে জয়ী।
দ্বাদশ বিপিএলের ফাইনাল আজ। সন্ধ্যা ৬টায় মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হচ্ছে চট্টগ্রাম রয়্যালস–রাজশাহী ওয়ারিয়রস। শিরোপা লড়াইয়ের এই ম্যাচের তাৎক্ষণিক ঘটনাপ্রবাহ, মাঠ ও মাঠের বাইরের খবর জানতে প্রথম আলোর সঙ্গে থাকুন।
পুরো বিপিএলজুড়ে দেখা যায়নি বিপিএল ট্রফি। আজ ফাইনালের দিন বিকেল সাড়ে চারটায় হেলিকপ্টারে করে ট্রফি নিয়ে মাঠে এসেছেন আকবর আলী ও সালমা খাতুন। বাংলাদেশের হয়ে কোনো টুর্নামেন্টে শিরোপা জেতা দুই অধিনায়ক তাঁরাই— ২০১৮ সালে নারী এশিয়া কাপে সালমার নেতৃত্বে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। ২০২০ সালে বাংলাদেশের যুব বিশ্বকাপজয়ী দলের অধিনায়ক ছিলেন আকবর আলী।
লাল পর্দায় মোড়ানো ট্রফি নিয়ে এসে মাঠে নামেন তাঁরা। পরে তা সরিয়ে ট্রফির সঙ্গে ছবি তুলেছেন ফাইনালে ওঠা দুই দল চট্টগ্রাম রয়্যালসের অধিনায়ক মেহেদী হাসান ও রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন।
পরে মাঠে ছোট্ট সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছে। নাচ পরিবেশন করেছেন অভিনেত্রী তানজিন তিশা।
টসের এখনও ১৫ মিনিট বাকি। তবে এখনই প্রায় ভরে উঠেছে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের গ্যালারি। দুই দলের ক্রিকেটাররা ওয়ার্ম আপে ব্যস্ত।
ফাইনালের টস হয়েছে। জিতেছেন চট্টগ্রাম রয়্যালসের অধিনায়ক মেহেদী হাসান। তিনি আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শুরুতে ব্যাটিং করবে রাজশাহী ওয়ারিয়রস। আজও দলটি খেলতে নামছে পেসার রিপন মণ্ডলকে ছাড়াই।
লিগ পর্ব ও কোয়ালিফায়ার মিলিয়ে এই টুর্নামেন্টে আজকের আগে তিনবার মুখোমুখি হয়েছে চট্টগ্রাম ও রাজশাহী। দুবার জিতেছে চট্টগ্রাম, একবার রাজশাহী।
মির্জা তাহির বেগ, মোহাম্মদ নাঈম, মাহমুদুল হাসান, হাসান নাওয়াজ, আসিফ আলী, মেহেদী হাসান (অধিনায়ক), আমির জামাল, তানভীর ইসলাম, জাহিদুজ্জামান (উইকেটরক্ষক), মুকিদুল ইসলাম ও শরীফুল ইসলাম।
সাহিবজাদা ফারহান, তানজিদ হাসান, কেইন উইলিয়ামসন, নাজমুল হোসে (অধিনায়ক), মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), মেহরব হাসান, জিমি নিশাম, আব্দুল গাফফার, তানজিম হাসান, হাসান মুরাদ ও বিনুরা ফার্নান্দো।
রাজশাহী ওয়ারিয়রস: ২ ওভারে ৯/০।
রাজশাহীর হয়ে ওপেন করতে নেমেছেন সাহিবজাদা ফারহান ও তানজিদ হাসান। প্রথম দুই ওভার কিছুটা সতর্ক হয়েই খেলেছেন তাঁরা। যদিও বড় শট খেলার চেষ্টাও ছিল ফারহানের মধ্যে।
শরীফুলের প্রথম ওভারে মাত্র ১ রান এলেও মুকিদুলের করা পরের ওভারে এসেছে ১টি বাউন্ডারিসহ ৮ রান।
রাজশাহী ওয়ারিয়রস: ৬ ওভারে ৪০/০।
পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে উইকেট হারায়নি রাজশাহী। প্রথম দিকে সতর্ক থাকলেও হাত খুলতে শুরু করেছেন দুই ওপেনার তানজিদ ও ফারহান। তানজিদ ১৬ বলে ২২, ফারহান ২০ বলে ১৮ রানে ব্যাট করছেন।
রাজশাহী ওয়ারিয়রস: ৭ ওভারে ৫৩/০।
ইনিংসের সপ্তম ওভারে পঞ্চাশ ছুঁয়েছে রাজশাহী। এই ওভারের তৃতীয় ও চর্তুর্থ বলে মেহেদীকে টানা দুটি ছক্কা মেরেছেন তানজিদ।
রাজশাহী ওয়ারিয়রস: ৯ ওভারে ৭৬/০।
এখনও ফিফটি পূর্ণ হয়নি তানজিদ হাসানের। ২৭ বলে করেছেন ৪৮ রান। এর মধ্যে ৬ ছক্কা থেকেই এসেছে ৩৬ রান।
ফারহান ব্যাট করছেন ২৭ বলে ২৮ রানে।
রাজশাহী ওয়ারিয়রস: ১১ ওভারে ৮৫/১।
১১তম ওভারের দ্বিতীয় বলে এসে প্রথম উইকেটের দেখা পেল চট্টগ্রাম রয়্যালস। মুকিদুলের বলে কাভার বাউন্ডারিতে ক্যাচ দিয়েছেন ফারহান। তাঁর ৩০ বলে ৩০ রানের ইনিংসে থেমেছে রাজশাহীর ৮৩ রানের উদ্বোধনী জুটি।
নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে এসেছেন কেইন উইলিয়ামসন। তানজিদ অপরাজিত ৩৩ বলে ৫৫ রানে।
রাজশাহী ওয়ারিয়রস: ১২ ওভারে ৯৬/১।
আমের জামালের বলে স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়েছিলেন তানজিদ হাসান। তবে হাতে নিয়েও ধরে রাখতে পারেননি মুকিদুল। তানজিদ বাঁচলেন ৫৪ রানে।
ক্যাচ মিসের পর মুকিদুলের ওপর চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন বোলার জামাল। তাঁকে শান্ত করতে ছুটে আসেন চট্টগ্রাম অধিনায়ক মেহেদী হাসান।
এটি ছিল ১২তম ওভারের তৃতীয় বলের ঘটনা। শেষ বলে থার্ড ম্যানে উইলিয়ামসনের চার বাঁচাতে পারেননি মুকিদুল। যদিও কঠিনই ছিল সেটা।
রাজশাহী ওয়ারিয়রস: ১৫.৪ ওভারে ১৩০/২।
শরীফুলের বলে নাঈমের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন কেইন উইলিয়ামসন। আগের বলেই মিডউইকেট দিয়ে ছক্কা মেরেছেন তিনি। উইলিয়ামসন ফিরেছেন ১৫ বলে ২৪ রান করে। ভেঙেছে তানজিদের সঙ্গে তাঁর ৪৭ রানের জুটি।
তানজিদ অবশ্য কিছুটা অস্বস্তিতে আছেন। খুব সম্ভবত পায়ে টান পড়েছে। ৪৯ বলে ৭৫ রানে অপরাজিত তানজিদ। নতুন ব্যাটসম্যান জিমি নিশাম।
৪ ওভার বল করে ৪৩ রান দিয়েছেন আমের জামাল। এর মধ্যে সর্বশেষ ওভারেই (ইনিংসের ১৭তম) খরচ ১৭ রান। এই ওভারে তানজিদ একটি কঠিন ক্যাচ দিয়েছিলেন। তবে শর্ট থার্ডম্যানে থাকা ফিল্ডার নিতে পারেননি। এর আগে তানজিদ ৫৪ রানে বেঁচেছিলেন আমেরের বলে মুকিদুলের হাতে ক্যাচ দিয়ে।
রাজশাহী ওয়ারিয়রস: ১৯ ওভারে ১৬৪/৩।
১৯তম ওভারের তৃতীয় বলে সিঙ্গেল নিয়ে তিন অঙ্কে পৌঁছেছেন তানজিদ হাসান। ৬১ বলে সেঞ্চুরি!
বিপিএলে এটি তাঁর তৃতীয় সেঞ্চুরি। বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের মধ্যে বিপিএলে সর্বোচ্চ।
তবে সেঞ্চুরির পর আর এগোতে পারেননি। মুকিদুলের করা ওভারটির পঞ্চম বলে বাউন্ডারিতে আমেরের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন তানজিদ। ব্যাট উঁচিয়ে দর্শকদের অভিনন্দনের জবাব দিতে দিতে মাঠ ছেড়েছেন ৭ ছক্কা আর ৬ চারে গড়া ৬২ বলে ১০০ রানের ইনিংস নিয়ে।
বিশতম ওভারের শেষ বলে শরীফুলের বলে তাঁরই হাতে ক্যাচ দিয়েছে নাজমুল হোসেন। তবে তার আগের পাঁচ বলে এক চার ও তিনটি ডাবলসে তুলেছেন ১০ রান। রাজশাহীর ইনিংস শেষ হয়েছে ৪ উইকেটে ১৭৪ রানে।
নাজমুল ৭ বলে ১১ রানে আউট হয়েছেন, শেষ ওভারে ব্যাটিংয়ের সুযোগ না পাওয়া নিশাম অপরাজিত থেকেছেন ৬ বলে ৭ রানে।
প্রথম ট্রফির অপেক্ষায় থাকা রাজশাহী যে পুঁজি দাঁড় করিয়েছে, তাতে মূল অবদান তানজিদ হাসানের। ১৯তম ওভারে আউট হওয়ার আগে বাঁহাতি এই ওপেনার খেলেছেন ৬২ বলে ১০০ রানের ইনিংস।
সাহিবজাদা ফারহানের সঙ্গে তানজিদের উদ্বোধনী জুটিতেই রাজশাহী পেয়েছিল ৮৩ রান। এরপর দ্বিতীয় উইকেটে উইলিয়ামসন–তানজিদ জুটিতে যোগ হয় আরও ৪৭ রান।
৫৪ রানে আমেরের বলে মুকিদুলের হাতে ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যাওয়া তানজিদ শেষ পর্যন্ত ফিরেছেন মুকিদুলের বলে আমেরের হাতে ক্যাচ দিয়ে। শেষ পাঁচ ওভারে রাজশাহী ৩ উইকেট হারিয়ে তুলেছে ৫৩ রান। চট্টগ্রাম রয়্যালসের হয়ে দুটি করে উইকেট নিয়েছেন মুকিদুল ইসলাম ও শরীফুল ইসলাম। নাজমুলকে আউট করে বিপিএল ইতিহাসে এক আসরে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ডে তাসকিনকে ছাড়িয়ে গেছেন শরীফুল। তাসকিনের ২৫ ছাড়িয়ে শরীফুলের উইকেট ২৬টি।
রাজশাহী ওয়ারিয়রস: ২০ ওভারে ১৭৪/৪ (তানজিদ ১০০, ফারহান ৩০, উইলিয়ামসন ২৪; মুকিদুল ২/২০, শরীফুল ২/৩৩)।
চট্টগ্রাম রয়্যালস: ৩ ওভারে ১৮/২। লক্ষ্য: ১৭৫।
১৭৪ রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই মোহাম্মদ নাঈমকে হারাল চট্টগ্রাম রয়্যালস। বিনুরা ফার্নান্দোর ভেতরে ঢোকা বলে বোল্ড হয়েছেন এই ওপেনার। ১৮ রানে প্রথম উইকেট হারাল চট্টগ্রাম।
তিনে নেমেছিলেন মাহমুদুল হাসান। প্রথম বল ডট দেওয়ার পর দ্বিতীয় বলে তিনি ক্যাচ দিয়েছেন তানজিদের হাতে।
নতুন ব্যাটসম্যান হাসান নেওয়াজ, সঙ্গে মির্জা বেগ।
চট্টগ্রাম রয়্যালস: ৮ ওভারে ৫০/৩। লক্ষ্য: ১৭৫।
৪৮তম বলে ৫০–এ পৌঁছেছে চট্টগ্রামের রান। পাওয়ারপ্লের মধ্যেই ৩ উইকেট চলে গেছে উইকেটে থিতু হওয়ার চেষ্টা করছেন মির্জা বেগ ও জাহিদুজ্জামান। তবে আস্কিং রেট এরই মধ্যে দশ ছাড়িয়ে গেছে।
মির্জা ২২ বলে ২৩, জাহিদ ৭ বলে ৬ রানে ব্যাট করছেন।
চট্টগ্রাম রয়্যালস: ১২ ওভারে ৭২/৫। লক্ষ্য: ১৭৫।
ওভারপ্রতি রানের চাপ বাড়ছে, সেই চাপের মুখে উইকেটও হারাচ্ছে চট্টগ্রাম। ১২তম ওভারের তৃতীয় বলে বড় শট খেলতে গিয়ে স্কয়ার লেগ বাউন্ডারিতে ক্যাচ তুলেছেন অধিনায়ক মেহেদী।
এর আগে দশম ওভারে নিশামের বলে ফিরেছেন জাহিদুজ্জামান। ৭২ রানে ৫ উইকেট হারিয়েছে চট্টগ্রাম।
উইকেটে আছেন মির্জা বেগ ও আসিফ আলী।
চট্টগ্রাম রয়্যালস: ১৬ ওভারে ১০৯/৭। লক্ষ্য: ১৭৫।
একের পর উইকেট হারিয়ে চট্টগ্রাম এখন চাপে। চলে গেছে ৭ উইকেট। স্বীকৃত ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে আছেন আসিফ আলী। পাকিস্তানের এই ব্যাটসম্যান কি পারবেন?
১৫ বলে ২১ রানে অপরাজিত তিনি।
চট্টগ্রাম রয়্যালস: ১৭ ওভারে ১১১/৯। লক্ষ্য: ১৭৫।
১৭তম ওভারে বোলিংয়ে ফিরে রাজশাহীর জয় একপ্রকার নিশ্চিত করে দিয়েছেন বিনুরা ফার্নান্দো। প্রথম বলে আসিফ আলী আর পঞ্চম বলে শরীফুলকে আউট করেছেন এই শ্রীলঙ্কান পেসার।
এর আগে ইনিংসের তৃতীয় ওভারেও নাঈম ও মাহমুদুলকে আউট করেছিলেন বিনুরা।
ম্যান অব দ্য ফাইনাল: তানজিদ হাসান।
ইমার্জিং প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট: রিপন মণ্ডল।
সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী: শরীফুল ইসলাম (২৬ উইকেট)।
সর্বোচ্চ রান: পারভেজ হোসেন (৩৯৫ রান)।
প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট: শরীফুল ইসলাম।